খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি, প্রতিবেদন ধামাচাপার চেষ্টা
মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: Wednesday, 30 September, 2026, 9:45 PM
খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি, প্রতিবেদন ধামাচাপার চেষ্টা
ময়মনসিংহের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের (আর.সি ফুড) নির্দেশে খাদ্য কর্মকর্তা ইসরাত আহমেদ পাপেলের বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও নারী কেলেংঙ্কারীর অভিযোগ তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটির প্রধান অভিযুক্তের ঘনিষ্ঠ ব্যাচমেট হওয়ায় প্রতিবেদন চামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এনিয়ে আঞ্চলিক খাদ্য বিভাগের ভেতরে-বাইরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে ময়মনসিংহের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সম্প্রতি জামালপুর সিংহজানির সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তার কার্যালয়ের (এসএমও) কর্মকর্তা সরকার ইসরাত আহমেদ পাপেলের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ি পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। খাদ্য বিভাগের কোন ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলেও যোগ করেন তিনি। এর আগে বিগত ৬ সেপ্টেম্বর জামালপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) মো. আসাদুজ্জামান ৩ সদস্য বিশিষ্ট এই তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির আহবায়ক হলেন- ইসলামপুর উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সাজ্জাদুর রহমান আকন্দ। কমিটির বাকি ২ সদস্যরা হলেন- উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) সিদ্দিকুর রহমান এবং দেওয়ানগঞ্জের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সাইয়েদুল ইসলাম। তবে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান মো: সাজ্জাদুর রহমান আকন্দ। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এ সময় অভিযোগ ধামাচাপার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কারো ঘনিষ্ঠভাজন না, তাছাড়া অভিযুক্তের ব্যাচমেট হলে দোষ কী বলেও প্রশ্ন রাখেন তিনি। তদন্ত কমিটির সদস্য মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অভিযুক্তের ঘনিষ্টভাজন ব্যাচমেট তদন্ত কমিটির প্রধান। তিনি কমিটির অপর সদস্যকে নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন লিখেছেন, সেটা আমি না পড়েই স্বাক্ষর দিয়েছি। তদন্ত কমিটির অপর সদস্য মো. সাইয়েদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের সুযোগ নেই। তদন্তে যা পেয়েছি তা প্রতিবেদেনই উল্লেখ আছে। আমার পক্ষে তা প্রকাশের সুযোগ নেই। খাদ্য বিভাগ ও এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্র জানায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ত খাদ্য কর্মকর্তা সরকার ইসরাত আহমেদ পাপেল আওয়ামীপন্থি গফরগাঁও উপজেলা 'আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ নামক সংগঠনের বর্তমান সভাপতি। তার বাবা মো: মফিজ উদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি। বর্তমানেও পাপেলের বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে স্থানীয় পলাতক এমপি জুনিয়র গোলন্দাজসহ আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশে পাপেলের নেতৃত্বের অসংখ্য ছবি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। এছাড়াও কর্মক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে ১৫ টন চাউল পাচারকালে আটকের ঘটনায় সম্পৃক্ততা, নারী কেলেঙ্কারী, গুদামে নিন্মমানের চাউল ক্রয়, মিলারদের কাছ থেকে টনপ্রতি ৮ শত টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এভাবে তিনি কর্মজীবনে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে অটেল বিত্তবৈভবের মালিক বনেছেন। রয়েছে নিজস্ব গাড়ী, একাধিক ফ্লাট বাড়ীসহ জমি সম্পত্তি। নিরপেক্ষ তদন্ত করলে এসব অভিযোগের প্রমাণ মিলবে, দাবি সংশ্লিষ্ট খাদ্য বিভাগের একাধিক সূত্রের। জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির গঠনের বিষয়টি স্বীকার করে সরকার ইসরাত আহমেদ পাপেল বলেন, আওয়ামীলীগের আমার কোন পদপদবী নেই, তবে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ সংগঠনটি অরাজনৈতিক। তবে আমি চাকরি করি ছবি অনেকের সঙ্গেই থাকতে পারে। আওয়ামীলীগের সঙ্গে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।’তবে এসময় তিনি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়গুলো এড়িয়ে যান।