|
এআই কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে চাকরির ভবিষ্যৎ কী
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() এআই কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে চাকরির ভবিষ্যৎ কী বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফিউচার অব জবস রিপোর্ট ২০২৫ বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। তবে একই সময়ে তৈরি হবে প্রায় ১৭ কোটি নতুন চাকরি। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত নিট ৭ কোটি ৮০ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পরিবর্তন নাকি বিলুপ্তি নিয়মমাফিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ ধীরে ধীরে এআইয়ের হাতে চলে যেতে পারে। অন্যদিকে মানুষের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বিচার-বিশ্লেষণ, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধান ও যোগাযোগের দক্ষতা। যেমন একজন আইন সহকারী আগে নথি পর্যালোচনায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করতেন। এখন সেই কাজ কয়েক মিনিটে করে দিচ্ছে এআই। আবার একজন বিশ্লেষক যে প্রতিবেদন তৈরি করতে তিন দিন নিতেন, সেটি এখন কয়েক ঘণ্টায় শেষ করা সম্ভব। ফলে প্রশ্ন হলো—বাঁচানো সময় তিনি কীভাবে কাজে লাগাবেন? যদি এআই আপনার কাজ কমিয়ে দেয়, কিন্তু নতুন দায়িত্ব না আসে, তাহলে বুঝতে হবে আপনার ভূমিকা সংকুচিত হচ্ছে। আর যদি নতুন দায়িত্ব, নতুন দক্ষতা শেখার সুযোগ ও জটিল সমস্যা সমাধানের কাজ বাড়ে, তাহলে বুঝবেন আপনার পেশা বদলাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে না। ১. আপনার মূল কাজ এআই সহজেই করতে পারে দিনের অধিকাংশ কাজ যদি একটি ভালো প্রম্পট দিয়েই করানো যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবার সময় এসেছে। ডেটা এন্ট্রি, সাধারণ প্রতিবেদন লেখা, নিয়মভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি বা প্রাথমিক গ্রাহকসেবা এসব ক্ষেত্র ইতিমধ্যে দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এর অর্থ এই নয় যে কালই চাকরি চলে যাবে। তবে ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজের চাহিদা কমতে পারে। ২. পুরো খাতেই স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে কোনো শিল্প খাতে যদি একই সময়ে কর্মী ছাঁটাই, পুনর্গঠন বা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে থাকে, তাহলে সেটি বড় সংকেত। খুচরা ব্যাংকিং, আইনি সেবা, লজিস্টিকসসহ কিছু ক্ষেত্রে এমন পরিবর্তন ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আপনার সহকর্মীরাও যদি একই ধরনের চাপের মুখে পড়েন, তাহলে সমস্যাটি শুধু প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো খাতের। ৩. শেখার পেছনে আগ্রহ নয়, কাজ করছে ভয় নতুন কিছু শেখার দুটি কারণ থাকতে পারে। একটি, নিজেকে আরও দক্ষ করে তোলার ইচ্ছা। অন্যটি, চাকরি হারানোর ভয়। যদি দ্বিতীয় কারণ হয়, তাহলে হয়তো আপনার বর্তমান ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। ৪. নিজের কাজে আগের মতো আনন্দ পাচ্ছেন না এটি অনেক সময় সবচেয়ে বড় সতর্কসংকেত। যে কাজ একসময় আপনাকে আনন্দ দিত, সেটিই যদি এখন এআই সহজে করে ফেলে, তাহলে শুধু টিকে থাকার প্রশ্ন নয়, নতুন প্রশ্নও সামনে আসে— মানুষকে বোঝানোর ক্ষমতা, জটিল বিষয় সহজ করে ব্যাখ্যা করা, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দল পরিচালনার মতো দক্ষতার মূল্য এখনো কমেনি। বরং এআইয়ের যুগে এগুলোর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সবশেষে বলব, নিজেকে একটি প্রশ্ন করুন। আগামীকাল যদি দায়িত্ব বদলে যায়, আমি কী করতে চাই? সেই কাজের জন্য কি আমি প্রস্তুত? উত্তর যদি জানা থাকে, তাহলে এগিয়ে আছেন। আর যদি না জানেন, সেটিই এখন প্রস্তুতি নেওয়ার সময়। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
