|
গাজীপুরে নিষিদ্ধ আ.লীগের মিছিলের পেছনে প্রশাসনের মদদের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() গাজীপুরে নিষিদ্ধ আ.লীগের মিছিলের পেছনে প্রশাসনের মদদের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৫টায় গাজীপুর নগরের পালের মাঠ এলাকার মৃধা বাড়ির বরকত স্মরণীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন এনসিপির যুগ্ম সংগঠক আলী নাসের। তিনি দাবি করেন, গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের একটি প্রক্রিয়া চলছে। এ কাজে পুলিশের একটি অংশ, বিএনপির কিছু নেতা, ঝুট ব্যবসায়ী, মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং এবং বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেট প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে। আলী নাসের বলেন, গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ধারাবাহিক ঝটিকা মিছিলের বিরুদ্ধে তাদের কার্যকর কোনো অবস্থান দেখা যায়নি। তিনি গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-১ আসনের মুজিবুর রহমান এবং গাজীপুর-২ আসনের মঞ্জুরুল ইসলাম রনির নাম উল্লেখ করে বলেন, তাদের নির্বাচনী এলাকায় একের পর এক ঝটিকা মিছিল হলেও তারা প্রকাশ্যে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেননি। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন, সংগঠিত হচ্ছেন এবং অর্থের জোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল পরিচালনা করছেন। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম এবং সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী হিসেবে পরিচিত, বর্তমানে গাছা থানা বিএনপির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম মণ্ডলের ছবি প্রদর্শন করেন বক্তারা। আলী নাসের অভিযোগ করেন, গাছা, বাসন, রাজেন্দ্রপুর, সালনা ও পুবাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক ঝটিকা মিছিলের বিষয়ে আগে থেকেই পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়নি। বরং প্রশাসনের একটি অংশ আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নিষ্ক্রিয় থেকেছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সহযোগিতাও করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, গাজীপুরে ঝুট ব্যবসা, মাদক কারবার, বালু ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং প্রশাসনের কিছু সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া, সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এসে ঝটিকা মিছিল করে আবার ফিরে যাওয়ার ঘটনাকে গোয়েন্দা নজরদারির ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান আলী নাসের। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। এ ঘটনার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গাজীপুর ও শ্রীপুরে সংঘটিত সাংবাদিক হত্যাসহ আলোচিত অপরাধগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা। তারা অভিযোগ করেন, গাজীপুরে প্রকাশ্যে মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীরা বিচরণ করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে গাজীপুরের পুলিশ সুপার, জিএমপি কমিশনার এবং গাছা, বাসন, সদর ও পুবাইল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মী, অর্থদাতা ও মদদদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন, মাদক, ঝুট ব্যবসা ও সন্ত্রাস দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কৃষক শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও জাতীয় যুবশক্তি গাজীপুর মহানগরের আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, যুবশক্তি গাজীপুর মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাইদুল ইসলাম, গাছা থানার সদস্যসচিব নাফিউ পাঠান, গাছা থানা যুবশক্তির আহ্বায়ক সম্রাট, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের কেন্দ্রীয় সদস্য রাহাত হাসানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বক্তব্য। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
