ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
নিখোঁজ সাবেক মন্ত্রীরা
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Wednesday, 3 April, 2019, 10:54 PM

নিখোঁজ সাবেক মন্ত্রীরা

নিখোঁজ সাবেক মন্ত্রীরা

আওয়ামী লীগ সরকারের গত দুই মেয়াদে এমন অনেকে যারা যখন মন্ত্রী ছিলেন তখন পাদপ্রদীপে বা আলোচনায় ছিলেন, টেলিভিশনের পর্দা খুললেই তাঁদের দেখা গেছে, সংবাদ মাধ্যমে তাদের বক্তৃতা বিবৃতি জনগনের হা-হতম্বি দেখা গেছে। কিন্তু মন্ত্রীত্ব হারানোর পর তারা আর আলোচনায় নেই। তারা প্রায় লোকচক্ষুর অন্তরালে। অথচ ২০১৪ সালে যারা মন্ত্রী হয়েছিলেন তাদের মধ্যে আবুল মাল আব্দুল মুহিত বয়ো:প্রবীণ। অবসরে যাওয়ার পরে এখনও তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে। তিনি লেখালেখিও করছেন। আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিমরা অহর্ণিশ গণমাধ্যম কিংবা আলোচনাতেও আছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে তারা কার্পণ্য করছেন না। তবে এমন অনেক মন্ত্রী আছেন যারা মন্ত্রীত্ব হারিয়ে নির্বাক, নিশ্চুপ এবং পর্দার আড়ালে চলে গেছেন।

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান: আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ধর্মমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি অনেক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সমলোচিত ও বিতর্কিত হয়েছিলেন। তারপরও পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন শেষে এবার আর তার শিকে মন্ত্রীত্ব জুটেনি। মন্ত্রীত্ব হারানোর পর মতিউর রহমান নীরব। ৭ জানুয়ারী মন্ত্রীত্ব হারানোর পর তার কোন কাজ গণমাধ্যমের নজড়ে আসেনি। তবে তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন তিনি এলাকায় আছেন। বয়ো:প্রবীণ এই নেতার ছেলেই এখন রাজনীতির বিষয়টি দেখাশুনা করছেন। তিনি নিজেই আস্তে আস্তে অবসর জীবনের দিকে যাচ্ছেন।

ইমাজউদ্দীন প্রমানিক: ২০১৪ সালে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী ছিলেন তিনি। মন্ত্রী থাকা অবস্থাতেই তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের অধিকাংশ দায়িত্ব প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমই পালন করতেন। এখন তিনি অসুস্থতার চিকিৎসা এবং একরকম অবসর জীবন যাপন করছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে তিনি একরকম অবসর গ্রহণ করেছেন বলেই জানা যায়।

নুরুল ইসলাম নাহিদ: টানা দুই মেয়াদে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রথম মেয়াদে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে হয়েছিলেন ব্যাপক সমলোচিত। প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা ইস্যুতে তিনি সমলোচনায় জর্জরিত হয়েছেন। দ্বীতীয় মেয়াদের শেষদিকে তিনি একাধিকবার পদত্যাগও করতে চেয়েছিলেন। নুরুল ইসলাম নাহিদ একসময় কমিউনিস্ট রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারপর তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। একজন সৎ, পরিশ্রমী রাজনীতিবিদ হিসেবেই তার পরিচিতি ছিল। কিন্তু দশ বছরের মন্ত্রীত্ব তাকে যেন ক্লান্ত করে দিয়েছে। এখন তাকে কোন আলোচনাতেও দেখা যায় না। কোন কর্মসূচীতেও দেখা যায় না। নাহিদ জানিয়েছেন, তিনি এলাকা নিয়েই ব্যস্ত। এলাকার জনগনের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়েই তিনি ব্যস্ত। এতদিন এলাকায় সময় দিতে পারেননি এখন সময় দিচ্ছেন।

মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া: আওয়ামী লীগের একসময়য়ের ডাকসাইটে নেতা ছিলেন। ঢাকা মহানগরীতে তিনি আলোচিত এবং জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। কিন্তু ২০১৪ সালে তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীত্ব পান। কিন্তু এবার তিনি মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদদ্যপদ দুটোই হারান। এই দুই পদ হারিয়ে তিনি যেন রাজনীতি থেকেই প্রায় নির্বাসিত হয়েছেন বা নিজেকে আড়াল করেছেন। তাঁকে শুধুমাত্র ১৪ দলের এক বৈঠকে উপস্থিত দেখা গিয়েছিল। এছাড়া কোনো রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তাঁর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়না। তবে মায়ার বাড়িতে রাজনৈতিক নেতাদের আনাগোনা কমেনি। তাঁর নিজস্ব কর্মিবাহিনীরা এখনও নিয়মিত তাঁর সঙ্গে দেখা করেন এবং ড্রয়িং রুমের রাজনীতিতেই তিনি এখন ব্যস্ত।

আবুল হাসান মাহমুদ আলী: আবুল হাসান মাহমুদ আলী ২০১৪ মেয়াদে আওয়ামী লীগের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন। এই মেয়াদে তিনি মন্ত্রিত্ব পাননি। তবে এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এমপি হলেও তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে। তাঁকে দলীয় কর্মকান্ডে বা বিভিন্ন সরকারী রাষ্টড়ীয় অনুষ্ঠানেও তেমন দেখা যায় না। কোনো বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের আলোচনাতেও তিনি নেই।

মোস্তাফিজুর রহমান: মোস্তাফিজুর রহমানও ২০০৮ এবং ২০১৪, দুই মেয়াদেই মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন। ২০০৮ এ তিনি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৪ তে তিনি পূর্ণমন্ত্রী। এ মেয়াদে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেয়ার পর তিনিও নিখোঁজ সংবাদ হয়ে গেছেন। তাঁকেও জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্ক, আলোচনা বা সরকারী রাষ্টীয় অনুষ্ঠান এসবে দেখা যায় না। তবে মোস্তাফিজুর রহমান সিজার জানিয়েছেন, এলাকায় সময় দিচ্ছেন। এলাকার মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেগুলো বাস্তবায়নের জন্যই তিনি কাজ করছেন।

শামসুর রহমান শরিফ: ২০১৪ মেয়াদে তিনি ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রণালয়ের কাজের জন্য নয় পারিবারিক ঝামেলার জন্য তিনি বিতর্কিত হয়েছিলেন। এবার তিনি মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ পড়েছেন। শারিরিক অসুস্থতা বা অন্যান্য কারণে তাঁকেও দলীয় কর্মকান্ডে খুব একটা লক্ষ্য করা যায় না।

শাজাহান কামাল: শাজাহান কামাল আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে বেসমারিক বিমানমন্ত্রী ছিলেন। বিমানমন্ত্রী হয়েই তিনি বিমানকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য নিজের রক্ত দেয়ার কথা বলে আলোচিত সমালোচিত হয়েছিলেন। এবার তিনি মন্ত্রিত্ব পাননি এবং রাজনীতিতে তাঁর উপস্থিতি পা পদচিহ্ন কারও চোখে পড়েনা।

এছাড়াও মন্ত্রিত্ব হারিয়ে রাজনীতি থেকে যারা অদৃশ্য হয়ে গেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইসমত আরা এবং তারানা হালিম। মন্ত্রিত্ব হারিয়েও মেহের আফরোজ চুমকি, কেরামত আলীরা এখনও রাজনীতির মাঠে সক্রিয়। তারা দৃশ্যপটের আড়ালে রয়েছেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status