|
গাজীপুরে গত ৬ মাসে ১৮৫৪ মামলা, গ্রেপ্তার ৩২১৭: জিএমপির প্রেস ব্রিফিং
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
|
![]() গাজীপুরে গত ৬ মাসে ১৮৫৪ মামলা, গ্রেপ্তার ৩২১৭: জিএমপির প্রেস ব্রিফিং ৬ মাসের অপরাধ পরিসংখ্যান ও গ্রেপ্তার জিএমপির দেওয়া তথ্যমতে, গত ৬ মাসে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট ১,৮৫৪টি মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:হত্যা মামলা: ২০টি, মাদক মামলা: ৮১২টি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা: ১৭৬টি, অস্ত্র মামলা: ৬০টি, ডাকাতি ও ছিনতাই: ডাকাতি ৭টি ও ছিনতাই ২৮টি, অন্যান্য অপরাধ: সিধেল চুরি ১৬টি এবং অন্যান্য মামলা ৭৩৫টি। এই সময়ে পুলিশ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৩,২১৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। যার মধ্যে ১,৮৮৮ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং ৯০১ জন মাদক সেবনকারী রয়েছে। অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার অভিযানকালে পুলিশ ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি, ১টি গুলির খোসা এবং ৪টি ম্যাগাজিনসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৫১,৫৬০ পিস ইয়াবা, ৩৫৭ কেজি ৩৬৫ গ্রাম গাঁজা, ১ কেজি ৯৬৫ গ্রাম হেরোইন, ৫৩০ পিস প্যাথিডিন, ৪৬ লিটার দেশী মদ, ১৫১ লিটার বিদেশী মদ এবং ২৭৬ বোতল ফেনসিডিল। নিষিদ্ধ সংগঠনের 'ঝটিকা মিছিল' ও পুলিশের কঠোর অবস্থান সম্প্রতি গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন 'ছাত্রলীগ' এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ 'আওয়ামী লীগ' ও তার অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা ও তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার প্রবণতা দেখা গেছে। গত ৩ জুলাই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সদর থানা এলাকার ‘নিরিবিলি অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট-২’ এর সামনে এবং ২১ জুন বাসন থানার মোগরখাল এলাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে হুমকি দিয়ে মিছিলের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সদর, বাসন, কোনাবাড়ী, গাছা ও টঙ্গী পশ্চিম থানায় মোট ৭টি মামলা করা হয়েছে এবং ৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিছিলে অর্থায়ন ও সহায়তাকারী আরও শতাধিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানায়। টঙ্গীতে ঝুট ব্যবসা ও কিশোর গ্যাং দমন টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকার পাগাঢ় বিসিক মার্কেট এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার ও মহড়ার ঘটনায় পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ ঘটনায় করা মামলায় এজাহারনামীয় ৯ জন ও অজ্ঞাতনামা ৯ জনসহ মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোটর সাইকেল মহড়াকারীদের শনাক্তের কাজ চলছে। এছাড়া মহানগরীর মাজার বস্তি, কেরানীর টেক, ব্যাংকের মাঠ ও এরশাদ নগর বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে সুনিবিড় পর্যালোচনা সাপেক্ষে তালিকা প্রস্তুত করে সমূলে উৎপাটনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধ পুলিশের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে গাজীপুরে অপহরণ ও 'হানি ট্র্যাপ' (ব্ল্যাকমেইলিং)-এর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহলের কারণে বেওয়ারিশ লাশ ফেলে যাওয়ার প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গাজীপুরে ২০২৩ সালে ৯৪টি, ২০২৪ সালে ৯৬টি এবং ২০২৫ সালে ৮১টি খুন মামলা হয়েছিল। চলমান বছরের বিগত ৬ মাসে ২০টি খুনের ঘটনার মধ্যে মাত্র ১টি লাশের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি, বাকি সবগুলোর রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে যাওয়ার এবং অপরাধীদের দমনে কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আনুষ্ঠানিক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন (জিএমপি) পুলিশের কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
