|
আয়কর রিটার্ন অডিটের তালিকায় নাম আসা কি ভয়ের কিছু?
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() আয়কর রিটার্ন অডিটের তালিকায় নাম আসা কি ভয়ের কিছু? এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে প্রথম পর্যায়ে র্যান্ডম সিলেকশন পদ্ধতিতে ১৫ হাজার ৪৯৪টি রিটার্ন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে চলতি বছরের এপ্রিলে আরও ৭২ হাজার ৩৪১ রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করে ওয়েবসাইটে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যারা নিরীক্ষার জন্য মনোনীত হয়েছেন তাদের পর্যায়ক্রমে শুনানির জন্য ডাকা হবে এবং শুনানি শেষে কোনো বাড়তি কর আরোপের সিদ্ধান্ত হলে সেটি একমাসের মধ্যেই করদাতাকে জানিয়ে দেবে সংশ্লিষ্ট কর অফিস। এর আগে গত ২৮শে জুন ব্যক্তি (ইনডিভিজুয়াল) করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা জারি করেছিল এনবিআর। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সের করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা এই বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখা হয়েছে। সরকারি হিসেবে, দেশে এখন প্রায় সোয়া এক কোটি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। এর মধ্যে ৪২ লাখের বেশি টিআইএন নম্বরধারী, যেটাকে অনেকে 'টিন' নম্বরও বলেন, বিদায়ী করবর্ষে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। তবে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পর এখন আবার নিরীক্ষার জন্য টিন নম্বরধারী নির্বাচনের জন্য স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালুর পর অনেক করদাতাদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। ইলাস্ট্রেটেড একটি ছবি যেখানে কোট পরা মোটা একজন লোকের মুখের জায়গায় টাকার একটি পোটলা বসানো। দুই পাশ থেকে তিনটি করে ছয়টি হাত তার দিকে আঙুল তাক করে রেখেছে। বাংলাদেশে আয়কর দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। বিশেষ করে দুর্নীতির মাধ্যমে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও অনেক পুরনো। অডিট ও আয়কর আইন বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলছেন, দেশে এখনো অনেকেই কর ফাঁকি দিয়ে থাকেন কিংবা কর ফাঁকির জন্য অনেকের আয়কর রিটার্নে যথাযথ তথ্য দেওয়া থাকে না। নিয়মিত নিরীক্ষা এ প্রবণতা কমিয়ে আনবে। আয়কর অডিট নিয়ে সৎ করদাতা ও সঠিক রিটার্ন জমাদানকারীর ভীত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, গণমাধ্যমকে বলছিলেন তিনি। নির্বাচিতদের কী বলছে এনবিআর বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী যাদের ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন রয়েছে তাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। সেটি না করলে জরিমানা করার বিধান রয়েছে। তবে, রিটার্ন দাখিল করলেই যে আয়কর দিতে হবে তা নয়। কারো আয় যদি করযোগ্য না হয় তাহলে কর দেওয়ার প্রয়োজন নেই, শুধু রিটার্ন জমা দিলেই হবে। ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা এ কে এম হেদায়েত উল ইসলাম বলছেন যে তিনি গত মে মাসে উপকর কমিশনারের কার্যালয় থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন, যেখানে তাকে জানানো হয়েছে যে, তার ২০২৩-২৪ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন সম্পূর্ণ অটোমেটেড পদ্ধতিতে অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এটুকুই এখন পর্যন্ত বলা হয়েছে। হয়তো পরে চিঠি দিয়ে জানানো হবে যে আমাকে কী করতে হবে। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমি তাদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবো, গণমাধ্যমকে বলছিলেন তিনি। এনবিআরের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রথম দফায় চিঠি দিয়ে অবহিতকরণের পরে আবার চিঠি দিয়ে সুনির্দিষ্ট বিষয়ে করদাতাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিংবা ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে। এরপর শুনানি হবে যেখানে আয়কর রিটার্ন বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সেটি করদাতার কাছে উপস্থাপন করে তার ব্যাখ্যা নেওয়া হবে। শুনানির ভিত্তিতে কারও ওপর যদি বাড়তি কর আরোপ করা হয় সেটি তাকে পরে এক মাসের মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হবে, বলছিলেন তিনি। ওই কর্মকর্তা তার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন। প্রসঙ্গত, আয়কর আইন অনুযায়ী, উপ-কর কমিশনার কোনো করদাতার কর নির্ধারণের জন্য যদি করদাতার উপস্থিতি বা কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণাদির প্রয়োজন বিবেচনা করেন, তাহলে নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে শুনানির জন্য ডাকবেন। শুনানিতে করদাতা নিজে বা তার প্রতিনিধিকে উপ–কর কমিশনারের কাছে উপস্থিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। উদ্বেগের কিছু আছে? আয়কর রিটার্ন অডিট নির্দেশনা ২০২৫ অনুযায়ী, আয়কর রিটার্ন অডিটের উদ্দেশ্য হলো কর ফাঁকি প্রতিরোধ, কর পরিহারের প্রবণতা রোধ ও সুস্থ কর সংস্কৃতির বিকাশ নিশ্চিত করা, করদাতা কর্তৃক আয়কর আইন ও বিধি যথাযথভাবে পরিপালন নিশ্চিত করা, কর ফাঁকির ক্ষেত্র, পদ্ধতি ও ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং আয়কর কর্মকর্তা কর্তৃক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। আয়কর বিশেষজ্ঞ ও এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, আয়কর অডিট বা নিরীক্ষা নিয়ে করদাতাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছুই নেই। কারণ কারও আয়কর রিটার্নে ভুল থাকলেও সেটি সংশোধন কিংবা বাড়তি কর পরিশোধের জন্য তিনি সময় পাবেন। ব্যক্তিগত আয়, ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, ডিবেঞ্চার এবং অন্যান্য স্থাবর সম্পদের বিবরণ আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হয়। কোনো করদাতা যদি কোনো সম্পদের বিবরণ রিটার্নে তুলে না ধরেন, তাহলে সেটি বৈধ থাকবে না এবং সেক্ষেত্রে তিনি আইনগত ঝামেলায় পড়তে পারেন। কর্মকর্তারা বলছেন, এসব বিষয়ে আয়কর রিটার্নে সঠিক তথ্য এসেছে কি-না কিংবা যথাযথ কর পরিশোধ করা হয়েছে কি-না সেটি এতদিন ম্যানুয়ালি দেখা হতো। ফলে অনেকের অভিযোগ ছিল যে তাকে হয়রানির জন্য তার আয়কর রিটার্ন নিরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় গত বছরের শেষ দিক থেকে অটোমেটেড বা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নিরীক্ষার জন্য আয়কর রিটার্ন বাছাই শুরু করে এনবিআর। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ম্যানুয়াল ইন্টারঅ্যাকশন নেই, এটি টোটালি সিস্টেম জেনারেটেড। ফলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, গত ২৬শে এপ্রিল এনবিআর ভবনে প্রাক বাজেট আলোচনা সভায় বলেছিলেন তখনকার এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। অডিট ও আয়কর আইন বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলছেন, আয়কর অডিট সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ, কিন্তু এক্ষেত্রে ডকুমেন্ট চাওয়া থেকে শুনানি সবকিছুই অনলাইনে হলে করদাতাদের হয়রানির আশঙ্কাটা কেটে যেত। "আগে কার ফাইল অডিট হচ্ছে সেটা জানাই যেত না। এখন এনবিআর অটোমেটেড পদ্ধতিতে সিলেক্ট করে ওয়েবসাইটে দিচ্ছে। ফলে কোন ফাইল নিরীক্ষা হবে সেটা ঠিক করার বিষয়ে স্বচ্ছতা এসেছে। অন্যদিকে ই-রিটার্ন চালু হওয়ায় ফাইল লুকানো কিংবা হারিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতিরও অবসান হলো, গণমাধ্যমকে বলছিলেন মি. বড়ুয়া। তিনি বলেন, সৎ করদাতা ও যিনি সঠিক রিটার্ন দিয়েছেন তার টিআইএন নম্বর নিরীক্ষার জন্য সিলেক্টেড হলে তা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। এটি একটি নিয়মিত স্বাভাবিক নিরীক্ষা প্রক্রিয়া সরকারের। মূলত অনেকেই রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে থাকেন। এখন সেই ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা কমবে। তবে করদাতা ও নিরীক্ষণকারীর উপস্থিতি বা যোগাযোগের সিস্টেম থেকে অনিয়মের সুযোগ তৈরির আশঙ্কা থাকে। সেজন্য পুরো নিরীক্ষা প্রক্রিয়া অনলাইন ভিত্তিক হলে করদাতার হয়রানির আশঙ্কা থাকবে না,বলেছেন স্নেহাশীষ বড়ুয়া। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি ও রিয়েল এস্টেট খাতে অপার সম্ভবনাময় অতিথি গ্রুপ
পাইকগাছায় বিএনপির বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পে সেবা নিলেন ৩ হাজার, ৫ শতাধিক রুগীর ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা
কুড়িগ্রামে অতি উচ্চমাত্রার ক্রিস্টাল মেথ আইস মাদকসহ ১ ব্যক্তি আটক
কয়রা-পাইকগাছার উন্নয়নে ৩ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়ার মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, এ অঞ্চলে সর্বাধিক বরাদ্দ দেয়ার অঙ্গিকার
