|
তীব্র ইঞ্জিন সংকটে রেলের শিডিউল বিপর্যয়: কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() তীব্র ইঞ্জিন সংকটে রেলের শিডিউল বিপর্যয়: কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? গত ১৪ জুনের চিত্রটি দেশের রেল খাতের বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থার এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি। ওই দিন উত্তরবঙ্গের নীলসাগর এক্সপ্রেস, বুড়িমারী এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস ও রাজশাহী এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিলম্বে যাত্রা করে। পূর্বাঞ্চলের চট্টলা ও উপকূল এক্সপ্রেস ও পড়ে তীব্র শিডিউল বিপর্যয়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে অপেক্ষা করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী। কমলাপুর স্টেশনে অপেক্ষমাণ এক ক্ষুব্ধ যাত্রী বলেন, তিন ঘণ্টা ধরে বসে আছি, ট্রেনের কোনো খবর নেই। কখন আসবে তা-ও কেউ বলতে পারছে না। রংপুর থেকে আসা আরেক যাত্রী জানান, মাত্র কয়েক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকা পৌঁছাতে তার সময় লেগেছে সাড়ে ১৬ ঘণ্টা! প্রতিদিনের এই ভোগান্তি এখন যাত্রীদের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিডিউল বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায় মূল খলনায়কের নাম–ইঞ্জিন সংকট। কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার কবীর উদ্দীন অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, মিটার গেজ ইঞ্জিনের তীব্র সংকটের কারণে ট্রেনগুলোর শিডিউল ধরে রাখা আমাদের জন্য চরম কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রেলের কর্মশালাগুলোতে গেলে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। ৫০-৬০ বছরের পুরোনো ইঞ্জিনগুলো মেরামত করে কোনোমতে লাইনে ধরে রাখা হচ্ছে। মেকানিকরা জানিয়েছেন, এত পুরোনো ইঞ্জিনের আসল যন্ত্রপাতি (স্পেয়ার পার্টস) এখন আর বাজারে পাওয়াই যায় না। ফলে একটি নষ্ট ইঞ্জিন থেকে পার্টস খুলে অন্য ইঞ্জিনে লাগিয়ে, অর্থাৎ জোড়াতালি দিয়ে ট্রেন সচল রাখা হচ্ছে। এক ট্রেন চালক (লোকোমাস্টার) আক্ষেপ করে বলেন, ৫০-৬০ বছর ধরে একই ইঞ্জিন চালাতে হচ্ছে। কখন যে মাঝপথে বিকল হয়ে যায়, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রেল খাতকে বছরের পর বছর অবহেলা করার খেসারত দিতে হচ্ছে এখন। এর ফলে রেল কেবল বাণিজ্যিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং এটি পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি। যোগাযোগ ও রেল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন,বাণিজ্যিকভাবে তো রেল এরইমধ্যে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বাড়বে এবং যাত্রীসেবা সম্পূর্ণ বিঘ্নিত হবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অদূরভবিষ্যতে পুরো রেল পরিচালনা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এই সংকটের মেঘের মধ্যে কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি জানান, দ্রুতই এই সংকট কাটানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপাতত ৩০টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) পাইপলাইনে আছে। আগামী ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে এগুলো আমাদের রেল বহরে যুক্ত হবে। এ ছাড়া নতুন আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যে আমরা একটি মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে পারব। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে বর্তমানে ৬টি আলাদা প্রকল্পের আওতায় মোট ১৬৬টি নতুন ইঞ্জিন কেনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে সাধারণ যাত্রী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিকল্পনাগুলো কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে যত দ্রুত সম্ভব আলোর মুখ দেখানোই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি ও রিয়েল এস্টেট খাতে অপার সম্ভবনাময় অতিথি গ্রুপ
কুড়িগ্রামে অতি উচ্চমাত্রার ক্রিস্টাল মেথ আইস মাদকসহ ১ ব্যক্তি আটক
পাইকগাছায় বিএনপির বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পে সেবা নিলেন ৩ হাজার, ৫ শতাধিক রুগীর ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা
কয়রা-পাইকগাছার উন্নয়নে ৩ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়ার মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, এ অঞ্চলে সর্বাধিক বরাদ্দ দেয়ার অঙ্গিকার
