ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ২৭ জুন ২০২৬ ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেবাখাতে দুর্নীতি বাড়ার তথ্য টিআইবির জরিপে, আসলে কারণ কী?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Saturday, 27 June, 2026, 11:50 AM

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেবাখাতে দুর্নীতি বাড়ার তথ্য টিআইবির জরিপে, আসলে কারণ কী?

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেবাখাতে দুর্নীতি বাড়ার তথ্য টিআইবির জরিপে, আসলে কারণ কী?

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের চেয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেবা খাতে দুর্নীতির পরিমাণ ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে—এমন তথ্য জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। তবে বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, দুর্নীতি আর ঘুষ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ার পেছনে ক্ষমতার থাকা সরকারের চেয়ে সামগ্রিক কাঠামোগত দুর্বলতাই মূল কারণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্নীতি মূলত মাঠ পর্যায়ে হচ্ছে। সরকার বদলালেও মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামো একই রকম রয়ে গেছে। তাছাড়া দুর্নীতি বা ঘুষের অপরাধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না থাকায় সময়ের সাথে সাথে এটি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত রাজনীতিকেন্দ্রিক বা 'পলিটিক্যাল ট্রানজিশন' কেন্দ্রিক হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতি দমনে তারা বিশেষ কোনো অগ্রাধিকার বা কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি।

প্রতিবেদনে কী আছে?

দেশের সেবা খাতে দুর্নীতির প্রকৃত মাত্রা জানতে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭১৫টি খানার ওপর জরিপ চালায় টিআইবি। জরিপের ভয়ংকর তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

দুর্নীতির বিস্তার:গ্রাম ও শহরাঞ্চল মিলিয়ে দেশের ৮১.৫% খানা (পরিবার) কমপক্ষে একটি সেবা খাতে দুর্নীতির শিকার হয়েছে, যা ২০২৩ সালে ছিল ৭০.৯%।

ঘুষের রাজত্ব:২০২৫ সালে ৬৩.৬% খানা সেবা নিতে গিয়ে ঘুষের শিকার হয়েছেন; যা ২০২৩ সালে ছিল ৫০.৮%।

দুই বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধি: মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে দুর্নীতি ও ঘুষের ভুক্তভোগীর সংখ্যা বেড়েছে যথাক্রমে ১০.৭% এবং ১২.৮%।

ইতিহাসের ট্রেন্ড:টিআইবির ২০১৭ সালের জরিপে দুর্নীতির শিকার হয়েছিল ৬৬.৫% মানুষ, যা ২০২১ সালে বেড়ে হয় ৭০.৮%। অর্থাৎ সেবাখাতে দুর্নীতি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে।

শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত খাত: বরাবরের মতোই পাসপোর্ট, বিআরটিএ, বিচারসংশ্লিষ্ট সেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও ভূমি খাত শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত তালিকার শীর্ষে রয়েছে।

কিছু পরিসংখ্যান দেখে ব্যর্থতা খোঁজা অজ্ঞতার পরিচায়ক

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুর্নীতি বৃদ্ধির এই পরিসংখ্যানকে 'বিচ্ছিন্ন' বলে উল্লেখ করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। এটিকে পুরোপুরি সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে তিনি নারাজ।

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, টিআইবি যে তথ্য দিয়েছে তা মূলত তৃণমূল পর্যায়ের দুর্নীতির। সেখানে দুর্নীতির যতটুকু বৃদ্ধি হয়েছে, প্রতিবছরের মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় তা বেশি নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বরং বড় বড় ক্ষেত্রে, যেমন ব্যাংকিং ও করপোরেট খাতে, নতুন করে দুর্নীতির ঘটনা ঘটেনি। এর প্রতিফলন আমরা রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সের ব্যাপক বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসার মধ্যে দেখতে পাই। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরিসংখ্যান দেখে আমাদের ব্যর্থতা খোঁজা তাই অজ্ঞতার পরিচায়ক।

তবে সব ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় দুর্নীতি কমানো সম্ভব হয়নি স্বীকার করে তিনি সরকারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কাজের কথা উল্লেখ করেন:

প্রকিউরমেন্ট আইন, ব্যাংকিং সংক্রান্ত আইন, দেওয়ানি ও ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের সংস্কার।বিদ্যুৎক্ষেত্রের দায়মুক্তি আইন বাতিল।বিএমইটি-সহ বহু প্রতিষ্ঠানে ডিজিটালাইজেশন, ডিজিটাল বেইল বন্ড ও অনলাইন সত্যায়ন চালু।

আসিফ নজরুল দাবি করেন, বিগত আওয়ামী লীগ আমলে দুর্নীতি এত বিস্তৃত ও গভীরভাবে সমাজে প্রবেশ করেছিল যে, মাত্র কয়েক মাসে এসব ব্যবস্থার সুফল পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব নয়।

পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগের?

বাংলাদেশের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ দুর্নীতির শিকার হওয়ার এই তথ্যকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। জরিপে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীদের ৮৬ শতাংশের বেশি মানুষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—ঘুষ না দিলে তারা কোনো সেবা পান না।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে বিশিষ্টজনদের মন্তব্য করেন । তাদের মধ্যে ড. ইফতেখারুজ্জামান (নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি)  বলেন , যাদের ওপর দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব, তারা নিজেরাই দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। এটাতো একটা চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেছে। তিনি আরও জানান, সরকারি কর্মকর্তা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও উপদেষ্টাদের সম্পদ প্রকাশের যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত না হওয়ায় মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে এবং দুর্নীতিবাজরা এটিকে স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নিয়েছে।

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম (গবেষণা পরিচালক, সিপিডি) জানান,  প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা দুর্নীতির এতকিছু জেনেও যে উদ্যোগ নিচ্ছি না, সে জায়গাটা উদ্বেগের এবং সরকারগুলো সব জেনেও যে চোখ বুঁজে থাকছেন সেটা উদ্বেগের। তাঁর মতে, দুর্নীতিকে কেবল উদ্বেগ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি।

সূত্র: বিবিসি নিউজ বাংলা

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status