ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২১ মে ২০২৬ ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
তীব্র গরমে তৃষ্ণা মেটাতে দোহারে তালের শাঁসের ধুম
শহীদুল ইসলাম শরীফ
প্রকাশ: Thursday, 21 May, 2026, 2:59 PM

তীব্র গরমে তৃষ্ণা মেটাতে দোহারে তালের শাঁসের ধুম

তীব্র গরমে তৃষ্ণা মেটাতে দোহারে তালের শাঁসের ধুম

ক্যালেন্ডারের পাতায় জ্যৈষ্ঠ মাস মানেই মধুমাস। আর এই মধুমাসের শুরুতেই ঢাকার দোহার সহ দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে তীব্র দাবদাহ। তপ্ত রোদে ও ভ্যাপসা গরমে যখন সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত, তখন তৃষ্ণা মেটাতে এবং শরীরকে একটু শীতল করতে ছোট-বড় সবার প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে কচি তালের শাঁস। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সুস্বাদু ফলটির চাহিদা এখন তুঙ্গে থাকায় স্থানীয় বাজার ও ফুটপাতগুলোতে তালের শাঁস বিক্রির ধুম পড়েছে।

দোহারের বিভিন্ন মোড়, বাস স্ট্যান্ড এবং সড়কের পাশে এখন সারি সারি সাজানো কাঁচা তাল। বিশেষ করে জয়পাড়া সংলগ্ন নতুন বাজারে গিয়ে দেখা যায় তালের শাঁস বিক্রির চিরচেনা ও ব্যস্ত চিত্র। বিক্রেতারা অত্যন্ত ব্যস্ততার সাথে দা দিয়ে কাঁচা তাল কেটে ভেতরের নরম ও রসালো শাঁস বের করছেন। চারপাশ জুড়ে ছড়িয়ে আছে তালের কাটা খোসা, আর একপাশে বিক্রির জন্য সারি সারি প্রস্তুত রাখা হয়েছে ধবধবে সাদা নরম তালের শাঁস।

চাহিদা এতটাই বেশি যে, বাজারে তালের শাঁস কিনতে আসা এক ক্রেতাকে বিক্রেতা এক ঘণ্টা পরে আসার অনুরোধ জানান। কারণ হিসেবে বিক্রেতা জানান, আগে থেকেই প্রচুর অর্ডার জমে আছে, যা শেষ করতে অন্তত এক ঘণ্টা সময় লাগবে। গ্রীষ্মের এই তীব্র গরমে ক্লান্তি দূর করতে রিকশাচালক, পথচারী থেকে শুরু করে অফিসগামী ও সাধারণ মানুষ ক্ষণিকের জন্য হলেও দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন তালের শাঁসের দোকানের সামনে। অনেককে আবার পরিবারের জন্য ঠোঙা ভরে শাঁস কিনে বাড়ি ফিরতে দেখা যাচ্ছে।

তালের শাঁস কেবল তৃষ্ণা মেটায় না, এটা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। চিকিৎসকদের মতে, তীব্র গরমে শরীরে যে জলশূন্যতা (Dehydration) তৈরি হয়, তালের শাঁসের রসালো অংশ তা দ্রুত দূর করতে সাহায্য করে। এতে থাকা খনিজ উপাদান ও ভিটামিন শরীরের ক্লান্তি নিমেষেই দূর করে। কোনো ধরনের কৃত্রিম ভেজাল বা কেমিক্যাল না থাকায় সাধারণ মানুষও নিশ্চিন্তে এই প্রাকৃতিক ফলটি গ্রহণ করছেন।

জয়পাড়া বাজারের স্থানীয় এক তালের শাঁস বিক্রেতা মোজাম্মেল জানান, প্রতি বছর এই সময়টার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে পাইকারি দরে কাঁচা তাল গাছ থেকে পেড়ে এনে তিনি ফুটপাতে বিক্রি করেন। আকারভেদে প্রতিটি তালের শাঁস (এক পিস) ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণত একটি আস্ত তালে ৩টি করে শাঁস থাকে।

মোজাম্মেল সহ অন্যান্য বিক্রেতারা জানান, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের অনবরত আনাগোনা থাকে। গরম যত বাড়ছে, বিক্রিও তত চমৎকার হচ্ছে। বছরের অন্য সময়ের চেয়ে এই মধুমাসে তালের শাঁস বিক্রি করে বেশ ভালো মুনাফা ঘরে তুলছেন এই মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।

বাজারে আসা ক্রেতারা জানান, এই তীব্র গরমে যান্ত্রিক উপায়ে তৈরি কৃত্রিম ঠাণ্ডা পানীয় বা কোল্ড ড্রিংকস পানের চেয়ে তালের শাঁসের মতো প্রাকৃতিক ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ ও আরামদায়ক। গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই ফলটি প্রতি বছরের এই তপ্ত দিনগুলোতে দোহারবাসীকে পরম স্বস্তি দিয়ে যাচ্ছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status