|
হজ ক্যাম্পে রোভার স্কাউটদের সেবাদান: মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত
নাজমুল হাসান
|
![]() হজ ক্যাম্পে রোভার স্কাউটদের সেবাদান: মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন হজ অফিস, আশকোনার সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের পরিচালনায় রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে রোভার স্কাউটদের সেবাদান কার্যক্রম, যা চলবে ২২ মে ২০২৬ তারিখে শেষ হজ ফ্লাইট পর্যন্ত। হজযাত্রীদের একটি বড় অংশই প্রবীণ। অনেকেই প্রথমবারের মতো বিদেশ ভ্রমণ করেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা ও বিভ্রান্তি কাজ করে। এই পরিস্থিতিতে রোভার স্কাউটরা হয়ে ওঠেন তাদের আস্থার প্রতীক। কখনো তথ্য ও নির্দেশনা দিয়ে, কখনো ইমিগ্রেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রেখে, আবার কখনো হারিয়ে যাওয়া হাজীকে নিজ দলের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে তারা মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। হজ ক্যাম্পে ঢাকার হজযাত্রীদের ফ্লাইট ছাড়ার কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা আগে এবং ঢাকার বাইরের হজযাত্রীদের অন্তত দুই দিন আগে ক্যাম্পে উপস্থিত থাকতে হয়। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে রোভার স্কাউটরা হজযাত্রীদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা প্রদান করে থাকেন। তারা যাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, তথ্য প্রদান, নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেওয়া, চিকিৎসা ও জরুরি সহায়তা, এবং বয়স্ক ও অসুস্থ হজযাত্রীদের বিশেষ সেবার মাধ্যমে হজ ক্যাম্পে শৃঙ্খলা ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। হজ ক্যাম্পে হজযাত্রীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কিছুটা জটিল প্রক্রিয়া হলো ইমিগ্রেশন ও লাগেজ বুকিং সম্পন্ন করা। বিশেষ করে “মক্কা রোড ইনিশিয়েটিভ”-এর আওতায় ঢাকাতেই বাংলাদেশ ও সৌদি আরব; উভয় দেশের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার কারণে সংশ্লিষ্ট ডেস্কগুলোতে কাজের চাপ অনেক বেশি থাকে। এই পুরো প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল ও হজযাত্রীদের জন্য ভোগান্তিমুক্ত করতে ২৪ ঘণ্টা শিফটিং ডিউটির মাধ্যমে নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছেন রোভার স্কাউটরা। প্রতি শিফটে প্রায় ৩৫ জন রোভার স্কাউট ৮ ঘণ্টা করে তিনটি শিফটে দায়িত্ব পালন করছেন। হজযাত্রীদের তথ্য প্রদান, আবাসন ব্যবস্থাপনা, জরুরি সহায়তা, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় অন্যান্য সংস্থা ও বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ হাজীদের জিনিসপত্র বহন করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া এবং ইমিগ্রেশন ও ভিসা সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতায় সহায়তা করার মতো মানবিক দায়িত্বগুলো অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করছেন রোভার স্কাউটরা। হজ ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন শুধু একটি স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ নয়; এটি মানবতার এক জীবন্ত অনুশীলন। প্রচণ্ড ভিড়, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন, ক্লান্তি ও চাপের মধ্যেও রোভার স্কাউটরা হাসিমুখে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের এই নিষ্ঠা, ধৈর্য ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে মানবসেবায় উদ্বুদ্ধ করছে এবং সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। হজ ক্যাম্পে রোভার স্কাউটদের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন, ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্য, ব্যাংকিং ও ট্রাভেল ডকুমেন্টেশন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান। এছাড়াও তারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকাদান কার্যক্রমে সহায়তা করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করেন এবং প্রবীণ, অসুস্থ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করেন। হজ ক্যাম্পে রোভার স্কাউটদের কার্যক্রম এক অনন্য ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তারা প্রমাণ করছেন, যুবসমাজ চাইলে মানবতার কল্যাণে, দেশের সেবায় এবং ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। হজ ক্যাম্পে রোভার স্কাউটদের এই নিরলস সেবাদান কেবল একটি স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম নয়; এটি মানবতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। মানুষের পাশে দাঁড়ানোই স্কাউটিংয়ের মূল শিক্ষা, আর আশকোনার হজ ক্যাম্পে সেই মানবিক আদর্শেরই বাস্তব প্রয়োগ ঘটছে। লেখক: নাজমুল হাসান (পিআরএস, উডব্যাজার) রোভার স্কাউট লিডার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এয়ার রোভার স্কাউট গ্রুপ, ঢাকা। মোবাইলঃ ০১৮২৯৫৫১১৬৮ ই-মেইলঃ nazmul33-3424@diu.edu.bd |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
