নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার সিএনজি চালক মোঃ মমিনুল মিয়া (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দড়িকান্দী-বাংলাবাজার সড়ক অবরোধ করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি,
বাংলাবাজার-দড়িকান্দী অটো ও সিএনজি স্ট্যান্ডে নিয়মিত চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে গত (১৭) মে রবিবার সিএনজি চালক মমিনুল মিয়ার সঙ্গে কয়েকজনের তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুইদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার (২০ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্ট্যান্ডভিত্তিক চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করে আসছিলেন। মমিনুল মিয়া চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় শাহীন মিয়া, মজনু মিয়া, মোহন মিয়া, সুমন মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া ও রুপচাঁন মিয়ার নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
মমিনুল মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নাজিরপুর, দড়িকান্দী ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দড়িকান্দী টু বাংলাবাজার সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। এতে সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
অবরোধকারীরা বলেন, চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ অতিষ্ঠ। একজন সিএনজি চালককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
তবে এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, নিহত মমিনুল মিয়ার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন তার স্বজনরা।