ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ২ মে ২০২৬ ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩
মানিকগঞ্জে মহাসড়ক ও নদীতীরে বালুর স্তূপ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসি
বাবুল আহমেদ, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: Saturday, 2 May, 2026, 10:45 AM

মানিকগঞ্জে মহাসড়ক ও নদীতীরে বালুর স্তূপ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসি

মানিকগঞ্জে মহাসড়ক ও নদীতীরে বালুর স্তূপ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসি

মানিকগঞ্জের বেউথা এলাকায় বালুমহাল থেকে উত্তোলিত বালু অবৈধভাবে মহাসড়ক ও নদীর তীরে স্তূপ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এতে আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মানিকগঞ্জ-সিংগাইর আঞ্চলিক মহাসড়ক ও মানিকগঞ্জ-ঝিটকা সড়কের বেউথা এলাকায়, বিশেষ করে বেউথা ব্রিজের পাশে নদীতীরবর্তী স্থানে ড্রেজার দিয়ে উত্তোলিত বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এসব বালু ট্রাকযোগে ওভারলোড করে জেলার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে ট্রাক থেকে বালু পড়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো ধুলা ও বালুর স্তূপে পরিণত হয়েছে।

ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে বালুর স্তূপ থাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক স্থানে রাস্তার একাংশ দখল হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিন-রাত ট্রাক চলাচল, ধুলাবালু ও শব্দদূষণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তারা। বাতাসে উড়ন্ত বালুর কারণে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও দেখা দিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও বয়স্করা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান বলেন, “বালুর স্তূপ থেকে বালু উড়ে এসে দোকান ও বাড়িঘরে জমে যায়। এভাবে ব্যবসা ও বসবাস করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”

আরেক ব্যবসায়ী আব্দুল বাতেন বলেন, “বালুভর্তি ট্রাক চলাচলের কারণে দোকানপাট ও মালামাল বালুতে ভরে যায়। এতে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে, ভোগান্তিতে পড়ছেন ক্রেতারাও।”

মানিকগঞ্জে মহাসড়ক ও নদীতীরে বালুর স্তূপ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসি

মানিকগঞ্জে মহাসড়ক ও নদীতীরে বালুর স্তূপ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসি

আইন অনুযায়ী, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও বালু মজুদ বা স্তূপ করে রাখা নিষিদ্ধ। বিশেষ করে নদীতীরে বালু রাখার ওপর কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী একটি চক্র এসব আইন উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে বালু ব্যবসায়ী ও পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামাল হোসেন বলেন, “বেউথা ব্রিজের পাশের জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন। জমির মালিকের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ভাড়া নিয়ে বালু রাখা হয়েছে। আর সিংগাইর রোডের পাশের জমি জেলা পরিষদের। সেখান থেকে বালু সরানোর জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং অপসারণের কাজ চলমান রয়েছে।”

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ধুলাবালুর কারণে রাস্তায় চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট সংকট থাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না। তবে জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সম্প্রতি কয়েকটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।”

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “বিষয়টি পৌরসভাকে জানানো হচ্ছে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে মহাসড়ক ও নদীতীর থেকে অবৈধ বালুর স্তূপ অপসারণ করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status