|
আরো চড়েছে ডিমের বাজার
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() আরো চড়েছে ডিমের বাজার সবজির বাজারে সরবরাহে ঘাটতি থাকার কোনো আলোচনা না থাকলেও ঢেঁড়স ও টমেটো ছাড়া ৬০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে করলা ও শিমসহ কয়েকটি সবজির দাম। বছরের এই সময় সবজির দাম আরেকটু কম থাকে বলে মনে করেন সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা আহমেদ আব্দুর রাজ্জাক। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “সব সবজির দাম বেশি। দাম না কমায় এখন মানুষ কেনা কমিয়ে দেবে।” একবার দাম বেড়ে যাওয়ার পর সরবরাহ ঠিক হলেও তা আগের জায়গায় ফেরে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘’৫০ টাকার সবজি ৭০ টাকায় গেলে তো ২০ টাকা বাড়ল। কিন্তু কমার সময়ে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে; ৫০ টাকায় আর ফেরে না।’’ ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবেলার অংশ হিসেবে শনিবার ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়িয়ে দেয় সরকার। তবে এর আগে থেকেই সবজির বাজার চড়া, যার কারণ হিসেবে জ্বালানি তেলের সংকটে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা বলে আসছিলেন ঢাকার বিক্রেতারা। তবে দাম বৃদ্ধির পেছনে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ‘বেশি হাতবদল’ হওয়াটাও কারণ বলে মনে করেন আব্দুর রাজ্জাক। এই ক্রেতার মতে, সরকারের বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানো নিয়ে কাজ করা উচিত। “এত দামে অনেকেই চাহিদামতো সবজি কিনতে পারবেন না। হাতবদলের সংখ্যা কীভাবে কমানো যায়, তা নিয়ে সরকারকে গবেষণা করতে হবে।” সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা নূরে আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘দাম কমলে সবজি বিক্রি বাড়ে; বাড়লেই কয় নিমুনা। যারা নেয়, কমাইয়া নেয়।’’ সেগুনবাগিচা ও মহাখালী কাঁচাবাজারে শুক্রবার করলা ও শিমসহ কয়েকটি সবজির দাম ছিল গত সপ্তাহের চেয়ে বেশি। দুই বাজারেই ১০ টাকা বেড়ে করলার কেজি ঠেকেছে ৭০ টাকায়; আর ২০ টাকা বেড়ে শিমের কেজি হয়েছে ১০০ টাকা। তবে কাঁচা মরিচের কেজি গেল সপ্তাহের মতো ৮০ টাকাতেই আছে। এদিন মহাখালীতে প্রতি কেজি পটল ৮০ টাকা, দেশি শসা ৮০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৭০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা ও পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। বিভিন্ন জাতের বেগুনের কেজি পড়ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। দাম কমার তালিকায় আছে শুধু ঢেঁড়স। গেল সপ্তাহের ৬০ টাকা থেকে কমে সবজিটির কেজি নেমেছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। গেল সপ্তাহের মতো ৮০ টাকায় মিলছে ঝিঙার কেজি; ধুন্দলও আছে ৭০ টাকাতেই । লাউ পাওয়া যাচ্ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকাতে। মাছের দামে বাজারভেদে ভিন্নতা পাওয়া গেছে। এদিন যাত্রাবাড়ীতে মলা মাছের কেজি ২০০ টাকা হলেও মহাখালী বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ টাকায়। গেল সপ্তাহে অবশ্য দুই বাজারেই এক কেজির দাম ছিল ২৫০ টাকা। মহাখালী কাঁচাবাজারের বিক্রেতা আব্দুল্লাহ জানান, এদিন আকারভেদে তিনি রুই মাছের কেজি নিচ্ছিলেন ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা। আগের সপ্তাহে যা ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা বলেন তিনি। এ বাজারে গেল সপ্তাহের মতো তেলাপিয়া ১২০ টাকা, বাটা মাছ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি পুঁটি ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা ও সরপুটি ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছিলেন আব্দুল্লাহ। এর বাইরে পাঙ্গাস ২২০ টাকা কেজি ও শিং মাছ ৫০ টাকা বেড়ে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছিল। সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রির তথ্য দিয়ে বিক্রেতা আব্দুল আলিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সোনালী জাতের কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে ব্রয়লার ১৬০ টাকা ও সোনালী জাতের মুরগি বিক্রি হয় ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে। রোজার মাস থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে ওঠা গরুর মাংসের দরে কোনো পরিবর্তন আসেনি। সবজির বাড়তি দরের মধ্যে ডিমের বাজার আরো চড়েছে। আগের সপ্তাহে ফার্মের প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১৩০ টাকায় ঠেকেছে। সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা মোহাম্মদ আলম বলেন, ডজন নিলে ১৩০ টাকাই রাখছেন। দুই ডজন নিলে ১০ টাকা কম নিচ্ছেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
