ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ১১ এপ্রিল ২০২৬ ২৮ চৈত্র ১৪৩২
অফিস সহায়কের মৃত্যু
পেনশনের টাকা নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Thursday, 9 April, 2026, 4:33 PM

পেনশনের টাকা নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের

পেনশনের টাকা নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের

চাকুরি শেষে পেনশনের টাকা দিতে যারা টালবাহানা করে আইন করে তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন কুড়িগ্রামে বিনা চিকিৎসায় মৃতের এক পরিবার। গত ৩১ মার্চ/২৬ ইং তারিখে কুড়িগ্রাম মজিদা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের অফিস সহায়ক গোলজার হোসেন(৬৬) নামের এক কর্মচারী বিনা চিকিৎসায় ও খাদ্যের অভাবে মৃত্যু বরণ করলে মৃতের পরিবারের লোকজন এই দাবি করেন।

বিষয়টি জেলার সর্বত্র আলোচনা ও সমালোচনার প্রেক্ষিতে আজ ৯ এপ্রিল  বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃত গোলজার হোসেনের নিজ বাড়ি কুড়িগ্রাম শহরের পুরাতন স্টেশন পাড়ায় গেলে গোলজার হোসেনের অসুস্থ প্যারালাইজড  স্ত্রী জাহানারা বেগম ও পরিবারের অন্যরা গত ৬ বছরে পেনশনের টাকা না পেয়ে গোলজার হোসেনের বিনা চিকিৎসায় ও খাদ্যের অভাবে ধুকে- ধুকে মৃত্যুর বিষয়ে এই ক্ষোভ প্রকাশ করে উক্ত দাবি করেন।

পরিবারের লোকজন এও জানায়, মৃত গোলজার হোসেন, কুড়িগ্রাম মজিদা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের অফিস সহায়ক পদে কলেজের জন্মলগ্ন থেকে চাকুরি করে আসছিলেন। এবং তিনি গত ১২/০১/২০ইং তারিখে চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত হন। এরপর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড বরাবর গত ২৪/০৮/২০ইং তারিখে পেনশনের টাকার জন্য আবেদন করেন। যার ইনডেক্স নং- (607724) এবং আবেদন আইডি নং- (C-895296096), এনআইডি নং- (3706421991)। পেনশনে যাওয়ার পর গোলজার হোসেন অন্ধ ও বিভিন্ন মানসিক রোগে আক্রান্ত হন এবং দীর্ঘ ৬ বছর যাবত পেনশনের টাকা না পেয়ে চিকিৎসা ও খাদ্যের অভাবে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মৃত্যু বরন করেন।

 মৃত গোলজার হোসেন স্ত্রী জাহানারা বেগম তিনিও দীর্ঘ দেড় বছর ধরে প্যারালাইজড হয়ে বাড়িতে পড়ে আছেন। তার ২ছেলে ও ২মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে বাসের হেলপার এবং ছোট ছেলে ২০০৭ইং সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। মেয়ে ২টির বিয়ে হলে তাদের স্বামীও কয়েক বছর আগে মারা যায়। বর্তমানে মেয়ে ২টি স্থানীয় জলিল বিড়ি ফ্যাক্টরিতে বিড়ি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সন্তানদের নিয়ে কোন রকমে দিনাতিপাত করছে। বর্তমানে তাদের ১০ জনের সংসারের ব্যয়ভার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। 

এলাকাবাসী মোঃ লিমন হোসেন সহ অনেকেই বলেন, মৃত গোলজার হোসেন একজন খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি পেনশনের টাকা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা ও খাদ্যের অভাবে মারা যান। সময়মতো পেনশনের টাকা পেলে তার পরিবারের উপকার হতো হয়তো। বর্তমানে টাকার অভাবে তার পরিবারেরও বেহাল অবস্থা দেখার কেউ নেই। অতি কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা কলেজ কর্তৃপক্ষ পেনশনের ব্যাপারটি যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেন সে বিষয়ে জোর দাবি করেন। 

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবেদ আলী বলেন, মৃত গোলজার হোসেন ১৯৮৫ইং সালে কলেজ শুরু থেকে পিয়ন পদে চাকুরি করেছিলেন এবং গত ২০২০ইং সালে তিনি পেনশনে যান। তারপর কল্যাণ এবং অবসরের টাকার জন্য আবেদন করেন। দুঃখজনক কিছুদিন আগে জানতে পারি তিনি মারা যাওয়ার অনেক আগে কল্যাণের টাকা পেলেও অবসরের টাকা এখনো পাননি। আমি কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করতেছি, সেই কাগজপত্র সহ আগামী সপ্তাহে আমি ঢাকায় গিয়ে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status