|
তামাক করনীতি হতে হবে বাস্তবসম্মত ও টেকসই: পিআরআই আলোচনা
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() তামাক করনীতি হতে হবে বাস্তবসম্মত ও টেকসই: পিআরআই আলোচনা অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন পিআরআইর গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার এবং সঞ্চালনা করেন মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং-এর একজন প্রতিনিধি। প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে তামাক খাতে কর ও মূল্য বৃদ্ধি পেলেও প্রত্যাশিত হারে রাজস্ব বাড়েনি। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুন ও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কর ও শুল্ক বৃদ্ধির ফলে সিগারেটের বিক্রি কমে যায়, যার প্রভাব পড়ে রাজস্ব প্রবৃদ্ধিতে। বর্তমানে দেশে তামাকের ওপর করের হার প্রায় ৮৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ। ফলে শুধুমাত্র কর বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর সাবেক সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-এর গবেষণা পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইউনুস, ইনস্টিটিউট অব ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর নির্বাহী পরিচালক ড. এম কে মুজেরীসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা। বক্তারা বলেন, ঘন ঘন কর ও মূল্য সমন্বয় বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে, নিম্নমূল্যের পণ্যের দিকে ভোক্তাদের ঝোঁক বাড়ায় এবং অবৈধ বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করে। বর্তমান বহুস্তর কর কাঠামো জটিল হওয়ায় রাজস্ব পূর্বানুমান দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাই ধীরে ধীরে মূল্যভিত্তিক কর পদ্ধতি থেকে সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতিতে রূপান্তরের সুপারিশ করা হয়। তারা আরও বলেন, অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, বাজার তদারকি জোরদার এবং উৎপাদন পর্যায়ে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈধ উৎপাদকদের মুনাফা কমে যাওয়ায় অবৈধ বাণিজ্য বেশি লাভজনক হয়ে উঠছে বলেও তারা সতর্ক করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই রাজস্ব প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ সহায়তা এবং তামাক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও দূরদর্শী কর কাঠামোর বিকল্প নেই।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
