ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১৯ জুন ২০২৬ ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
শেষ দিনে আসন ফাঁকা রেখেই কমলাপুর ছাড়ছে ট্রেন
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Friday, 20 March, 2026, 3:25 PM

শেষ দিনে আসন ফাঁকা রেখেই কমলাপুর ছাড়ছে ট্রেন

শেষ দিনে আসন ফাঁকা রেখেই কমলাপুর ছাড়ছে ট্রেন

ঈদের আগের দিনে ট্রেনে ঈদযাত্রার চিরায়ত চিত্র নেই কেন্দ্রীয় স্টেশন কমলাপুরে; যারা আসছেন অনেকটা ‘আয়েশ করেই’ নির্বিঘ্নে ঢাকা ছাড়ছেন।

শুক্রবার সকাল থেকে প্রায় সব ট্রেনই আসন ফাঁকা রেখে ছেড়ে যাচ্ছে, বিলম্বের অভিযোগও পাওয়া যায়নি।

ঢাকার বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামানও জানালেন, শুক্রবার সকাল থেকে এ পর্যন্ত সবগুলো ট্রেনই যথাসময় ছেড়ে গেছে।

দিনভর কোনো ট্রেনেই ‘শিডিউল বিপর্যয়’ ঘটবে না- আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “দুর্ঘটনার কারণে গত দুই-একদিন যে দু-তিনটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়েছিল, সেটা আমরা রিকভারি করেছি।”

এদিন প্রায় স্বাভাবিক সময়ের মতোই কমলাপুর স্টেশনজুড়ে অল্পবিস্তর মানুষের আনাগোনা দেখে বোঝার উপায় নেই—আগের দিনই এখানেই ছিল উপচেপড়া ভিড়।



যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে এদিন যারা ঢাকা ছাড়ছেন, তাদের বেশির ভাগেরই পরিকল্পনা ছিল বৃহস্পতিবার রাতে যাওয়ার।

ঈদ একদিন পিছিয়ে যাওয়ায় রাতের ‘হুড়োহুড়ি এড়িয়ে নির্বিঘ্নে যাওয়ার পরিকল্পনায়’ শুক্রবার যাচ্ছেন। আবার অনেকেরই ‘পরিকল্পনা না থাকলেও’ টিকেট পাওয়ায় এদিন বাড়ির পথ ধরেছেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে বরাবরই ২৯ রোজা ধরে ট্রেনের টিকেট বিক্রি করে। এবারও সেই হিসাবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টিকেট বিক্রি করা হয়েছিল।

সন্ধ্যার পরে চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার এবং ঈদের পরদিন রোববারের টিকেট অনলাইনে বিক্রি শুরু হয়। তবে ঈদের দিন শনিবার কোনো আন্তঃনগর ট্রেন চলবে না, তাই সেদিনের টিকেট বিক্রি বন্ধ রয়েছে।



পুরান ঢাকার তাঁতী বাজারের কিশোর— দুর্জয় দুই বন্ধুকে নিয়ে মোহনগঞ্জে বোনের বাড়ির উদ্দেশে বেরিয়েছেন। বেলা সোয়া ১টায় হাওর এক্সপ্রেসের টিকেট কেটে অপেক্ষা করছিলেন প্লাটফর্মে।

দুর্জয় বলছিল, “আজকে ঈদ হইলে যাওয়া হইতো না। যেহেতু ঈদ একদিন পরে, আবার রাতে টিকেটও পেয়েছি, সেজন্য বন্ধুদের নিয়ে বোনের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছি।”

ঢাকার একটি দোকানে চাকরি করা আজিমপুরের বাসিন্দা আবজাল ছুটি পেয়েছেন বৃহস্পতিবারই। তিনিও হাওর এক্সপ্রেসে মোহনগঞ্জ যাওয়ার জন্য টিকেট করে প্লাটফর্মে অপেক্ষা করছিলেন।

শুক্রবার ঈদ হলে বাড়ি কখন যেতেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে আবজাল বলেন, “বাড়িতো যাওয়াই লাগবে। আজকে ঈদ হইলে রাতেই যাইতাম।

“যেহেতু ঈদ শনিবারে, ভাবলাম একটু ধীরস্থিরভাবে যাই। রাতে টিকেটও পাইলাম, তাই আজকে যাইতেছি।”

মধ্যবাড্ডার বাসিন্দা এমএফএস কোম্পানি বিকাশে কর্মরত সোহেল ‘বনলতা এক্সপ্রেসে’ রাজশাহী যাওয়ার জন্য টিকেট কেটেছেন।

তিনি বলেন, “আমরা ঢাকার স্থানীয়, পরিবারের সবাই ঢাকাতেই থাকি। রাজশাহী ফুপুর বাড়ি যাচ্ছি। আজ ঈদ হলে যাওয়া হতো না, টিকেট পেলাম বলে ঘুরে আসি একটু।”

চাঁপাইনবাগঞ্জে যাওয়ার জন্য রাজশাহী কমিউটারের টিকেট কেটেছেন রাজমিস্ত্রী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বহু বছর ধরে কাজ করেন কুমিল্লায়। সকালে ঢাকায় কমলাপুর স্টেশনে এসে কাউন্টার থেকেই টিকেট কিনেছেন।



এক ছেলে ও এক মেয়ের এই বাবা বলছিলেন, ঈদ উপলক্ষে আগেই বাড়িতে কেনাকাটার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। এখন তিনি যাচ্ছেন পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে।

“আমার ঝামেলা পছন্দ না, আজকে ঈদ হইব না, সেজন্য আজকেই যাইতেছি নিরিবিলি। যাই আস্তে ধীরে।”

শুক্রবার কমলাপুরের টিকেট কাউন্টারের সামনে তেমন জটলাও দেখা যায়নি। যাত্রী কম থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে, প্রস্তুতি অনুযায়ী প্লাটফর্মে প্রবেশের আগেই চেক করা হচ্ছে যাত্রীদের টিকেট।

ঢাকার বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান বলেছেন, শুক্রবার তিনটি ট্রেন চলবে না, সেগুলো হচ্ছে নীলসাগর এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এবং বেনাপোল এক্সপ্রেস।

এই তিনটি ট্রেন ছাড়া বাকি সবগুলো ট্রেনই চলবে। এদিন আন্তঃনগর ৪২টিসহ ৫৫টি ট্রেন ঢাকা স্টেশন ছেড়ে যাবে বলে জানান তিনি।

রেল কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, “যাত্রী সাধারণের খুব বেশি চাপ নেই। আমরা দেখছি যে, ছাদেও কোনো যাত্রী ওঠার কেউ চেষ্টা করছে না। ভেতরেও জায়গা ফাঁকা আছে।”

যে তিন ট্রেন চলবে না, সেগুলোর যাত্রীদের কী ব্যবস্থা হবে—এমন প্রম্নের উত্তরে তিনি বলেন, “সেগুলোর আমরা তো টিকেটই বিক্রি করিনি।”



এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা যেরকম ঈদের আগে চেষ্টা করেছি যাত্রীদেরকে নিরাপত্তাসহ নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার জন্য, ঈদের পরেও আমাদের এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

“আমাদের যাত্রী সাধারণকে আমাদের অনুরোধ যে, দয়া করে আপনারা আসার সময় ছাদে উঠবেন না এবং ট্রেনের ভেতরে উঠে আসার চেষ্টা করবেন।”

অপর এক প্রশ্নের জবাবে কামরুজ্জামান বলেন, “বিশেষ করে ১৮ তারিখ এবং ১৯ তারিখ সকালে আমাদের যাত্রী অনেক বেশি ছিল। অনেক লোক স্টেশনে এসেছিল। তাদেরকে আমরা বাধা দিয়েছি। আমরা বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আসলে কোনোভাবেই আমরা কিছু ট্রেনে ছাদে ওঠা আটকানো আটকাতে পারিনি।

“আসলে আমরা তাদেরকে নিবৃত করি—ছাদে না ওঠার জন্য। কিন্তু এমন হয়ে যায় যে, ট্রেন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার পরও কিছু যাত্রী আছে, তাদের হাতে টিকিট আছে। কিন্তু তারা ছাদে যেতেই কমফোর্ট ফিল করে, দৌড়ে যেয়ে ছাদে ওঠে।”


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status