বগুড়ার শেরপুরে দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে থাকা চটির বিল নামে পরিচিত একটি খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকাল পৌনে ৫টার দিকে উপজেলার গোসাইবাড়ি এলাকার কুড়াতলা সাঁকো এলাকা থেকে এ খনন কাজের উদ্বোধন করেন বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। খালটি উপজেলার গাড়িদহ ও কুসুম্বি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। এর উৎপত্তি ভাদাই নদী থেকে হয়ে শেষ পর্যন্ত করতোয়া নদীতে গিয়ে মিশেছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খালটি ভরাট হয়ে পড়ে এবং এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে খালের ১ দশমিক ১৭০ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৮ লাখ টাকা। খননের পর খালটির প্রস্থ হবে প্রায় ১ দশমিক ৫ মিটার এবং গভীরতা স্থানভেদে ৭ থেকে ৮ ফুট পর্যন্ত রাখা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, খনন করা মাটি খালের দুই পাশে ফেলে পাড় উঁচু করা হবে এবং সেখানে বৃক্ষরোপণ করা হবে। একই সঙ্গে পাড়ের ওপর দিয়ে স্থানীয় কৃষকেরা চলাচল করতে পারবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে সভাপতিত্ব করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান। তিনি বলেন, খালটি পুনঃখনন হলে কৃষকেরা সেচের জন্য এই খালের পানি ব্যবহার করতে পারবেন। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে জমিতে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হবে, ফলে জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কে এম মাহবুবুর রহমান হারেজ, বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা আলহাজ্ব জানে আলম খোকা এবং শেরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবলুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, বিএনপি কৃষকবান্ধব সরকার। কৃষকের উন্নয়ন ও চাষাবাদে সহায়তার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। পর্যায়ক্রমে চটির বিল খালের প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে উপজেলার আরও একাধিক খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, শেরপুর উপজেলায় পর্যায়ক্রমে অন্তত ৮০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের আওতায় আনা হবে। এসব খালের পানি সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়বে, ফলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে এই খালটি খনন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পুনঃখনন না হওয়ায় খালটি প্রায় ভরাট হয়ে যায়। ফলে বর্ষাকালে জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো এবং চাষাবাদে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হতো কৃষকদের। দীর্ঘদিনের দাবির পর আবার খালটি পুনঃখনন হওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।