গাজায় পুর্নগঠনে বিশ্ববাসীকে কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে অস্ট্রিয়ায় ইফতার মাহফিলে নেতৃবৃন্দ
এম এ আজিজ, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: Wednesday, 25 February, 2026, 4:01 PM
গাজায় পুর্নগঠনে বিশ্ববাসীকে কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে অস্ট্রিয়ায় ইফতার মাহফিলে নেতৃবৃন্দ
অস্ট্রিয়ায় বসবাসকারী সকল মুসলমানদের সংস্থা ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার ওএএ উদ্যোগে পালম ইভেন্ট সেন্টার ভিনার নয়েডর্ফ (লয়ার অস্ট্রিয়া) তে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার ইভেন্ট সেন্টারে উপস্থিত সকল আমন্ত্রিত মেহমানদেরকে স্বাগত জানিয়ে উদ্বোধনী বক্তব্য পেশ করেন ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট তুর্কিশ বংশোদ্ভুত অমিত ভুরাল।ইসলামিক বই
অমিত ভুরাল মাহে রমজানের গরুত্ব, শিক্ষা, অস্ট্রিয়া ও ইউরোপে মুসলমানদের চ্যালেঞ্জ, করণীয় ইত্যাদি নানাবিধ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন। সেই সাথে অস্ট্রিয়ায় মুসলমানদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা মূলক কাজ করার জন্য বিভিন্ন ইসলামিক কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের প্রতি ও রাজনৈতিক প্রতিনিগণের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ইফতার মাহফিলে নেতৃবৃন্দ বলেন, গাজায় পুর্নগঠনে বিশ্ববাসীকে কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে। গাজায় ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ বন্ধে জাতিসংঘের মাধ্যমে বাস্তবমুখী উদ্যোগ নিতে হবে।
অস্ট্রিয়ার সকল মুসলমানদের গুরুত্ব পূর্ণ এই সংস্থাটির ইফতার মাহফিল উপস্থিত ছিলেন, অস্ট্রিয়ার প্রধান মুফতি মুস্তাফা মূল্লুগ্ধসঢ়;গলো, অথরিটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট বসনিয়ান বংশোদ্ভুত আদিস কান্দিস, ভিয়েনা প্রভিন্সিয়াল পার্লামেন্ট মেম্বার,ইঞ্জিনিয়ার ওমর আল রাবী ও আসলিহান বজাতেমার, অথরিটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ড. আনাস শাকফে, ড. ফুয়াদ সানাচ, অথরিটিরসুপ্রিম কাউন্সিল সদস্যগণ, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্যগণ, ধর্মতাত্ত্বিক উপদেষ্টা পরিষদ, অস্ট্রিয়ার সকল স্কুল কলেজের ইসলামী ধর্মীয় শিক্ষায় নিয়োজিত শিক্ষকদের পরিদর্শকবৃন্দ, ঈমাম পরিষদ, টার্কিশ, বসনিয়ান, আরবিয়ান, আলবেনিয়ান, আফ্রিকান ও এশিয়ানদের দশটি ইসলামিক কমিউনিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সমগ্র অস্ট্রিয়া থেকে আগত প্রায় তিন শতাধিক মুসলিম নেতৃবৃন্দ ।
বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন,ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার সুপ্রিম কাউন্সিল মেম্বার ও এশিয়ান ইসলামিক কমিউনিটি এর চেয়ারম্যান বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ইঞ্জিনিয়ার হাসিম মোহাম্মেদ, ভিয়েনা মুসলিম সেন্টার এর চেয়ারম্যান মুরাদুল আলম, ড. ফারুক আল মাদানী, ড. মাহমুদুল হাসান, রায়হান সিকদার, মাসুদ পারভেজ, আল আরাফাত তপু, রফিকুল ইসলাম রুবেল, নাবিল আহমেদ ।ইসলামিক বই উল্লেখ্য, ইউরোপের মধ্যে, অস্ট্রিয়া একটা ব্যতিক্রমধর্মী দেশ। যেখানে ১৯১২ সাল থেকে ইসলাম অস্ট্রিয়ায় সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত একটি ধর্ম। অটোমান বা উসমানীয় সম্রাজ্য কর্তৃক ১৪৬৩ সাল থেকে ১৮৭৮ সাল পর্যন্ত শাসিত ও ১৯০৮ পর্যন্ত অটোমান অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ১৯০৮ সালে অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্য (১৮৬৭ থেকে ১৯১৮) তাদের অধীনে সংযুক্ত করে। অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের এই অঞ্চলে ৬ লাখ মুসলমান বাস করত, যাদের ধর্মীয় অনুশীলনকে রক্ষা করা জরুরি হয়ে দাঁড়ায়। সেই সময় বসনিয়ান মুসলমান সম্রাটের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করতেন, ইমামরা সামরিক চ্যাপ্লেন(ধর্মগুরু“) হিসেবে কাজ করতেন। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুশীলন রক্ষায়, ১৮৭৪ সালে সম্পাদিত স্বীকৃতি আইন ১৮৭৪। যা ধর্মীয় সমাজের আইনি স্বীকৃতি) মোতাবেক ১৯১২ সালে অস্ট্রিয়ায় ইসলাম আইনি স্বীকৃতি পায়। ১৯৭১ সালে মুসলমানদের একটি সংস্থা ‘ইসলামী আইন ১৯১২’-এর ধারা মোতাবেক একটি ইসলামিক কমিউনিটি প্রতিষ্ঠা করার জন্য আবেদন করলে, ফলস্বরূপ ১৯৭৯ সালে ‘ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়া’ পাবলিক আইনের অধীনে একটি কর্পোরেশন হিসেবে গঠিত হয়। অস্ট্রিয়ায় বসবাসকারী টার্কিশ, বসনিয়ান, অ্যারাবিয়ান, আলবেনিয়ান, আফ্রিকান ও এশিয়ানদের নেতৃত্বাধীন প্রায় চার শ’ মসজিদ ও ইসলামিক সংস্থার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা প্রধানত ১০টি বৃহৎ ইসলামিক কমিউনিটির কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়া। সংস্থাটি পাবলিক আইনের অধীনে একটি কর্পোরেশন হিসেবে অস্ট্রিয়ায় বসবাসকারী সমস্ত মুসলমানদের ধর্মীয় বিষয়ের সরকারী প্রশাসনের প্রতিনিধিত্ব করে, অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসনও উপভোগ করে।