অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মাধবপুরে বিএনপি'র সংবাদ সম্মেলন
আনিসুর রহমান, মাধবপুর
প্রকাশ: Wednesday, 18 February, 2026, 9:22 PM
অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মাধবপুরে বিএনপি'র সংবাদ সম্মেলন
হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল-এর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও মানহানিকর বক্তব্যের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মাধবপুর উপজেলা ও পৌর শাখা। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মাধবপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত লিখিত বক্তব্যে উপজেলা ও পৌর বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইউটিউব ও টিকটকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংসদ সদস্য এস এম ফয়সলের বিরুদ্ধে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ আসনের ১৮৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আলহাজ্ব সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী মোমবাতি প্রতীক নিয়ে পান ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট। প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ৭৪৯ ভোটের ব্যবধানে এ বিজয় জনগণের সরাসরি রায় বলে দাবি করেন নেতারা। তারা বলেন, নির্বাচন চলাকালীন ও পরবর্তীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। কিন্তু গেজেট প্রকাশের পর একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বক্তারা আরও বলেন,এস এম ফয়সল একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তার পিতা মরহুম সৈয়দ সঈদ উদ্দিন এমএলএ ছিলেন। বড় ভাই মরহুম সৈয়দ মোহাম্মদ কাউসার সংসদ সদস্য, হুইপ ও কৃষি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছোট ভাই সৈয়দ মোহাম্মদ শাহজাহান চারবারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। পাশাপাশি এস এম ফয়সল দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দান-অনুদান ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন বলেও উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি মাধবপুর-চুনারুঘাট এলাকায় দলকে সুসংগঠিত রাখতে ভূমিকা রাখেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে মনোনয়ন প্রদান করেন বলে জানান নেতারা। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণের রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা, এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চলছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অচিরেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানান নেতারা। পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পরিশেষে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। অন্যথায় আইনগত সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।