|
আশুলিয়ায় ৬ জনকে হত্যা ও লাশ পোড়ানো মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলের মৃত্যুদণ্ড
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() আশুলিয়ায় ৬ জনকে হত্যা ও লাশ পোড়ানো মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলের মৃত্যুদণ্ড বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ১৬ জন আসামির বিরুদ্ধে এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আটজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে বিচারিক প্যানেলে ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এটি ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে ঘোষিত প্রথম রায় হিসেবে বিচার বিভাগে এক ঐতিহাসিক নজির স্থাপন করল। বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয় এবং তাঁদের উপস্থিতিতেই সংক্ষিপ্ত রায় পাঠ করেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল। অপরদিকে পলাতক থাকা আটজন আসামির মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন এবং আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনিসহ আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে সাতজন প্রাণ হারান, যাঁদের লাশ পরবর্তীতে ভ্যানে স্তূপ করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই বর্বরোচিত ঘটনায় শহীদ হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম। গত বছরের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালীন উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। প্রসিকিউশন গত ২ জুলাই ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়, যার সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার তথ্যসূত্র, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং দুটি পেনড্রাইভ সংযুক্ত করা হয়েছিল। গত ১ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল মামলার রায়ের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের নিষ্ঠুর ও অমানবিক অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাই আইনের মূল লক্ষ্য। এই রায়ের মাধ্যমে শহীদদের পরিবার এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে নিহতের স্বজনরা। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
খাগড়াছড়িতে প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেটের ফাইনালে পুলিশ লাইন্স স্কুল চ্যাম্পিয়ন, সাইফাতের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি
তেঁতুলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির দ্বি- বার্ষিক নির্বাচন
মধুখালীতে নবাগত ওসির সাথে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময়
বাঘাইছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২০০ লিটার অবৈধ পেট্রোল জব্দ
