ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল ২০২৬ ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
এপস্টেইন নথিতে কোন কোন রথী-মহারথীর নাম এসেছে?
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Wednesday, 4 February, 2026, 6:01 PM

এপস্টেইন নথিতে কোন কোন রথী-মহারথীর নাম এসেছে?

এপস্টেইন নথিতে কোন কোন রথী-মহারথীর নাম এসেছে?

যৌন অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হওয়ার পর প্রয়াত জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে খাতির থাকা বিশ্বের ধনী ও প্রভাবশালীদের তালিকা কেবলই লম্বা হচ্ছে।

মার্কিন সরকার কুখ্যাত এ বিনিয়োগকারীকে নিয়ে তাদের তদন্তের লাখ লাখ নথি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে, তাতে পুরনো কয়েকজনের পাশাপাশি আরও অনেক ধনকুবের, উদ্যোক্তা ও রাজনীতিকের নাম এসেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

৩০ জানুয়ারি মার্কিন সরকার ‘এপস্টেইন ফাইলসের’ যে অংশ প্রকাশ করেছে তাতে ৩০ লাখ পৃষ্ঠার পাশাপাশি আছে এক লাখ ৮০ হাজার ছবি ও দুই হাজার ভিডিও। নাম এসেছে রিচার্ড ব্র্যানসন, বিল গেটস ও ইলন মাস্কের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নাম।


তবে নাম থাকার অর্থই যে তারা অপরাধী—এমনটা নয়। আগে প্রকাশিত নথিগুলোতে নাম আসা ব্যক্তিরা এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছিলেন।

নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টে স্বাক্ষর করেছিলেন, তাতে কুখ্যাত এ যৌন অপরাধী সংক্রান্ত তদন্তের সব নথি প্রকাশের কথা ছিল। সে অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ পর ৩০ জানুয়ারি এ বিপুল পরিমাণ নথি সম্পাদিত আকারে জনসমক্ষে এল।

তবে ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতারা এমনকি অনেক রিপাবলিকানও বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এখনও আইনের সব বাধ্যবাধকতা পূরণ করেনি এবং এখনও অনেক নথি আটকে রেখেছে।


ইলন মাস্ক

প্রকাশিত নথিগুলোতে এপস্টেইন ও বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্কের মধ্যে একাধিক ইমেইল আদান-প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বেশ কয়েকটি ইমেইলে মাস্ক এপস্টেইনের পার্টিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যদিও বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার এ প্রধান নির্বাহীর দাবি, তিনি কখনোই এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি, এবং কোনো ধরনের অন্যায়ে জড়াননি।

২০১২ সালের নভেম্বরে এক ইমেইলে মাস্ক এপস্টেইনকে লিখেছেন, “তোমার দ্বীপে কোন দিন/রাতে সবচেয়ে উদ্দাম পার্টি হয়?”

একই বছরের ডিসেম্বরে আরেক ইমেইলে তিনি লেখেন, “আমি সেইন্ট বার্টস (বার্থেলেমি) বা অন্য কোথাও পার্টি পরিবেশে হাজির হতে ও তুমুল মজা করতে চাই।” তিনি যান চান তা ‘শান্তিপূর্ণ দ্বীপের অভিজ্ঞতার’ পুরোপুরি উল্টো বলেও সেখানে লিখেছিলেন তিনি।

এ বছরের জানুয়ারিতেই দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় মাস্ক এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব ইমেইল তার ‘নামে দাগ লাগাতে’ ব্যবহৃত হতে পারে বলে মেনে নিয়েছেন। তবে তিনি ‘এপস্টেইনের সঙ্গে মিলে যারা গুরুতর অপরাধ করেছে তাদের’ বিচার দেখতে বেশি আগ্রহী।

বিল গেটস

এপস্টেইনের ইমেইলে বিল গেটসকে উদ্দেশ্য করে ২০১৩ সালের ১৮ জুলাইয়ের দুটি ড্রাফট পাওয়া গেছে। এগুলো সত্যি কিনা, কিংবা এসব ইমেইল কখনো বিল গেটসকে পাঠানো হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন থেকে পদত্যাগপত্রের আকারে লেখা ইমেইলে ‘রুশ মেয়েদের সঙ্গে যৌনতার পরিণতি মোকাবেলায়’ গেটসের জন্য ওষুধ সংগ্রহ করতে হয়েছিল এমন অভিযোগও আছে।

‘প্রিয় বিল’ দিয়ে শুরু করা আরেক ইমেইলে গেটস একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইতি টেনেছেন এমন অভিযোগের পাশাপাশি মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা যৌন রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তখনকার স্ত্রী মেলিন্ডাসহ প্রায় সবার কাছ থেকে লুকানোর চেষ্টা করছেন এমন দাবিও আছে।

এনপিআরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেলিন্ডা বলেছেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো তাকে তাদের বৈবাহিক জীবনের জটিলতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

“আমি আমার দুঃখ সামলাতে সক্ষম এবং ওই ছোট মেয়েদের দিকে তাকিয়ে বলতে পারছি, হায় ঈশ্বর এই মেয়েদের সঙ্গে এসব কীভাবে হল? অন্তত আমার ক্ষেত্রে, আমি জীবনে সামনে এগিয়ে যেতে পারছি, আশা করছি এখন এই নারীরা খানিকটা হলেও ন্যায়বিচার পাবেন,” বলেছেন তিনি।

এপস্টেইনের ইমেইল নিয়ে বিবিসিকে গেটসের এক মুখপাত্র বলেছেন, “প্রমাণিত, নিকৃষ্ট এক মিথ্যাবাদীর কাছ থেকে আসা এসব অভিযোগ পুরোপুরি অযৌক্তিক ও সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

ডনাল্ড ট্রাম্প

এপস্টেইন সংক্রান্ত নতুন প্রকাশিত নথিগুলোতেও অসংখ্যবার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নাম এসেছে। এফবিআইয়ের ন্যাশনাল থ্রেট অপারেশন সেন্টারের ফোন নম্বরে অভিযোগ করার যে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে যাদের নাম এসেছে তার মধ্যেও ট্রাম্পের নাম আছে বলে এফবিআইয়েরই গত বছরের সাজানো তালিকায় দেখা যাচ্ছে।

তবে সেখানে করা অভিযোগের বেশিরভাগই এসেছে যাচাইবিহীন সূত্র থেকে, ছিল না কোনো তথ্যপ্রমাণও।

এই তালিকায় ট্রাম্প, এপস্টেইনসহ অনেক রথী-মহারথীদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের নানান অভিযোগ এসেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট অবশ্য বরাবরই এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট কোনো অন্যায়ে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন। তিনি বলছেন, প্রয়াত বিনিয়োগকারী এপস্টেইনের সঙ্গে তিনি কয়েক দশক আগেই সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন এবং এপস্টেইনের হাতে নির্যাতিতরা তার বিরুদ্ধে অপরাধের কোনো অভিযোগ করেননি।

অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর

নতুন প্রকাশিত এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিগুলোতে এমন চারটা ছবিও প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে মাটিতে শুয়ে থাকা এক নারীর ওপর হাঁটু গেড়ে থাকতে দেখা গেছে।

এর মধ্যে দুটি ছবিতে পোশাক পরিহিত অজ্ঞাত ওই নারীর পেটে হাত ছিল অ্যান্ড্রুর। আরেকটি ছবিতে তাকে ওই অবস্থায় ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা গেছে। ওই ছবির সঙ্গে কোনো তথ্য বা কিছু প্রকাশিত হয়নি। ছবিগুলো কোথায়, কখন তোলা হয়েছিল তাও জানা যায়নি।

বিবিসি এসব ছবি প্রসঙ্গে সাবেক এ প্রিন্সের মন্তব্য চেয়েছে। এর আগে বারবারই তিনি এপস্টেইন কাণ্ডে কোনো ধরনের অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন।

রিচার্ড ব্র্যানসন

নথিগুলোতে রিচার্ড ব্র্যানসনের নাম এসেছে কয়েকশ’ বার।

২০১৩ সালে তাদের মধ্যে এক বার্তা আদানপ্রদানে এপস্টেইন ব্র্যানসনকে তার আতিথেয়তা ও জনসম্পৃক্ত উপদেশের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। এর উত্তরে ব্র্যানসন বলেছিলেন, তাকে (এপস্টেইন) দেখে তার ‘খুব ভালো লেগেছে’।

“যখনই আপনি এই এলাকায় আসবেন, আপনাকে দেখতে পেলে খুশি হবো। যতদিন আপনি সঙ্গে আপনার হারেম নিয়ে আসবেন,” বলেছিলেন ব্র্যানসন।

তার ভার্জিন গ্রুপ পরে এক ব্যাখ্যায় বলেছিল, ‘হারেম’ বলতে ব্র্যানসন এপস্টেইনের দলের তিন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের দিকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

বিবিসিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে ভার্জিন গ্রুপ বলেছে, ১২ বছরেরও বেশি সময় আগে অল্প কিছু অনুষ্ঠানে ব্র্যানসন ও এপস্টেইনের দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছিল, তাদের যোগাযোগ অনুদানসংশ্লিষ্ট টেনিস খেলা আয়োজনের মতো বিভিন্ন বিষয়ে বা ব্যবসায় সীমাবদ্ধ ছিল।

“এপস্টেইন একবার কিছু অর্থ দান করার প্রস্তাব দেন, ব্র্যানসন দম্পতি তাদের দলকে ওই দানের অর্থ নেওয়ার আগে পর্যাপ্ত যাচাই বাছাই করতে বলেন, যা করতে গিয়ে কিছু গুরুতর অভিযোগ সামনে উঠে আসে।

“পরে ভার্জিন ইউনাইট ওই অর্থ নেয়নি এবং রিচার্ড ও জোয়ান (রিচার্ডের স্ত্রী) এপস্টেইনের সঙ্গে আর দেখা বা কথা না বলার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের কাছে যদি পুরো চিত্র বা তথ্য থাকতো, তাহলে তারা তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগই রাখতেন না। রিচার্ড বিশ্বাস করেন, এপস্টেইনের কার্যক্রম ছিল ঘৃণ্য এবং তিনি তার হাতে নির্যাতনের শিকারদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে সমর্থন করেন,” বলেছে তারা।

সারাহ ফার্গুসন

অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের সাবেক স্ত্রী, ফার্গি নামে বেশি পরিচিত সারাহ ফার্গুসনের নামও এপস্টেইনের একাধিক ইমেইলে এসেছে। এর মধ্যে এমন কিছু ইমেইলও রয়েছে, যখন কুখ্যাত ওই বিনিয়োগকারী গৃহবন্দি ছিলেন।

এক ইমেইল, যেটি এপস্টেইনেরই বলে মনে হচ্ছে, তাতে লেখা রয়েছে, “আমার ধারণা ফার্গি এখন বলতে পারে, আমি শিশু নির্যাতক নই।”

২০০৯ সালের এপ্রিলে আদানপ্রদান হওয়া আরেক ইমেইলে এপস্টিনের সঙ্গে ‘দ্রুত চা খাওয়ার’ উদ্দেশ্যে দেখা করতে চেয়েছিলেন সারাহ। সেখানে লেখা ছিল, “আমার প্রিয় অনন্যসাধারণ ও বিশেষ বন্ধু জেফ্রি, তুমি কিংবদন্তি, আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত।”

এই ইমেইলে এটা প্রমাণ হয় না যে সারাহ ফার্গুসন কোনো অন্যায়ে জড়িত ছিলেন। তারপরও বিবিসি এ প্রসঙ্গে তার মন্তব্য জানতে চেয়েছে। এখন পর্যন্ত তার কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

লর্ড ম্যান্ডেলসন

প্রকাশিত নথিতে যেসব ব্যাংক স্টেটমেন্ট আছে তা থেকে জানা যায়, এপস্টেইন লর্ড ম্যান্ডেলসন ও তার সঙ্গী রেইনালডো আভিলা দ্য সিলভা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ৭৫ হাজার ডলার পাঠিয়েছিলেন।

ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনের কাছে বাজার-সংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল তথ্য পাচার করেছিলেন, এমন অভিযোগে প্রভাবশালী ব্রিটিশ রাজনীতিকের বিরুদ্ধে লন্ডনের মেট্রপলিটন পুলিশ তদন্ত শুরুরও ঘোষণা দিয়েছে।

অল্পবয়সী এক মেয়েকে যৌন সম্পর্কে প্রলুব্ধ করার দায়ে এপস্টেইন দোষ স্বীকার করে নেওয়ার এক বছর পর ২০০৯ সালে তাকে লেখা এক ইমেইলে দ্য সিলভা লেখেন, “যতটুকু পারেন সাহায্য করেন।”

এপস্টেইনের জবাব ছিল, “আমি আপনার ‍ঋণের টাকা শিগগিরই পাঠাচ্ছি।”

অন্য এক ইমেইল আদানপ্রদানে দেখা যাচ্ছে, এপস্টেইন একবার তার নিউ ইয়র্কের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ম্যান্ডেলসনের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন। এ নিয়ে এপস্টেইন লিখেছিলেন, “রাখতে পেরে আমি খুবই খুশি এবং একইসঙ্গে দুঃখিতও, কারণ আমি সেখানে নেই।”

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সদস্য ম্যান্ডেলসন বলেছেন, তিনি শিগগিরই হাউস অব লর্ডস থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার তিনি ‘এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয় থাকা’ এবং এপস্টেইন দণ্ডিত হওয়ার পরও তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য পুনর্বার দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

বিবিসিকে এ রাজনীতিক বলেছেন, তিনি এপস্টেইনের কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত বা পৃষ্ঠপোষক ছিলেন না। অন্য অনেকের মতো তিনিও এপস্টেইনের মৃত্যুর পরই প্রকৃত সত্য জানতে পেরেছেন। ব্যক্তিগত লাভের জন্য এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো কর্মকাণ্ডে ছিলেন না বলেও তার দাবি। তিনি বলেছেন, ২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দার সময় জাতীয় স্বার্থেই তিনি এপস্টেইনের পরামর্শ চেয়েছিলেন।

স্টিভ ব্যানন

৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত নথিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, প্রয়াত দণ্ডিত যৌন অপরাধী এপস্টেইন ও ট্রাম্পের সাবেক শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননের মধ্যে হাজার হাজার বার্তা আদান প্রদান হয়েছে।

বেশিরভাগ বার্তাই লেনদেন হয়েছে ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে, সেসময় ব্যানন আর হোয়াইট হাউসে নেই। এপস্টেইনের মৃত্যুর আগে তাকে নিয়ে একটি চলচ্চিত্র বানাতে ব্যাননের আগ্রহ ওই বার্তাগুলোতে ধরা পড়েছে।

এক কথোপকথনে মনে হচ্ছে, ব্যানন সম্ভবত এপস্টেইনের সঙ্গে তার অতীত অপরাধ নিয়ে যে বয়ান তা কী করে বদলানো যায় তার কৌশল ঠিক করছিলেন। ব্যানন পরামর্শ দিচ্ছিলেন, ‘প্রথমে আমাদের মিথ্যা অভিযোগগুলোর পাল্টা জবাব দিতে হবে’ এবং ‘সমাজসেবী হিসেবে আপনার ভাবমূর্তি নতুন করে গড়ে তুলতে হবে’।

এসব বিষয়ে বিবিসি ব্যাননের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তার দিক থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

মিরোস্লাভ লাইচাক

স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার সময় ২০১৮ সালে মিরোস্লাভ লাইচাক এপস্টেইনের সঙ্গে মেয়ে ও কূটনীতি নিয়ে দুটো বার্তা আদানপ্রদান করেছিলেন বলে দেখা যাচ্ছে।

এপস্টেইন লাইচাককে একটি ছবি পাঠানোর পর (নথিতে ছবিটি দেখা যাচ্ছে না) স্লোভাকিয়ার তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব ছিল, “কেন আপনি আমাকে এসব খেলায় আমন্ত্রণ জানান না? আমি ‘এমআই’ মেয়েটিকে নিতাম।”

“কে চাইবে না, আপনি দুজনকেই পেতে পারেন, এবং তাদের বোনদেরও। আমি দখলদার প্রকৃতির নই,” জবাবে বলেছিলেন এপস্টেইন।

জানুয়ারিতে এপস্টেইন সংক্রান্ত নতুন নথি প্রকাশিত হওয়ার পর লাইচাক স্লোভাকিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অন্যায় করার কোনো অভিযোগ আসেনি।

হাওয়ার্ড লুটনিক

ধনকুবের ব্যবসায়ী ও মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক যে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এপস্টেইনের লিটল সেইন্ট জেমস দ্বীপে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত নথিতে থাকা ইমেইলগুলোতে দেখা যাচ্ছে।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে এপস্টেইনের এক সহকারীকে পাঠানো লুটনিকের স্ত্রী অ্যালিসনের এক ইমেইলে মনে হচ্ছে, যাত্রার প্রাক্কালে তিনি ওই ইমেইলটি লিখেছিলেন।

“আমরা তোমাদের ওখানে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি। আপনার সঙ্গে লাঞ্চে যোগ দিতে পারলে খুশি হবো,” লিখেছিলেন অ্যালিসন।

স্ত্রীর ইমেইলের কয়েকদিন আগে সম্পাদিত এক গ্রাহককে পাঠানো ইমেইলে লুটনিক লিখেছিলেন, “হাই জেফ…রোববার সন্ধ্যায় ডিনার করলে কেমন হয়?”

মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিবিসিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছেন, “মন্ত্রী লুটনিকের সঙ্গে এপস্টেইনের সামান্য কয়েকবার কথাবার্তা হয়েছে, তাও স্ত্রীর উপস্থিতিতে এবং তার বিরুদ্ধে অন্যায়ের কোনো অভিযোগ নেই।”

এহুদ বারাক

ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের নামও এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট নতুন নথিগুলোতে পাওয়া গেছে। তাতে বোঝা যাচ্ছে, ২০০৮ সালে এপস্টেইন ফ্লোরিডায় যৌন অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পরও বারাকের সঙ্গে তার একাধিকবার কথাবার্তা হয়েছে।

২০১৭ সালে এপস্টেইনের নিউ ইয়র্ক সিটির এক বাসায় বারাকের থাকা নিয়ে পরিকল্পনার বিষয়টিও নথিতে দেখা যাচ্ছে।

বারাক এপস্টেইনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে বলেছেন, তিনি কোনো অভদ্র আচরণ বা পার্টি দেখেননি, অংশও নেননি।

সর্বশেষ প্রকাশিত নথিগুলোতে এদের বাইরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বাণিজ্যমন্ত্রী ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট ল্যারি সামার্স, মার্কিন ফুটবল ক্লাব নিউ ইয়র্ক জায়ান্টসের অন্যতম মালিক স্টিভ টিশ, মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে সদ্য বানানো এক প্রামাণ্যচিত্রের পরিচালক ব্রেট র‌্যাটনার, সিবিএস নিউজের কন্ট্রিবিউটর পিটার অ্যাটিয়া, লস এঞ্জেলেস ২০২৮ অলিম্পিক গেইমসের চেয়ারম্যান ক্যাসি ওয়াসারম্যান, গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী সের্গেই ব্রিনের সঙ্গে এপস্টেইন ও তার সহযোগীদের বার্তা আদানপ্রদানের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এদের মধ্যে কেউ কেউ এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মুখই খোলেননি। বাকিরা যোগাযোগ থাকার কথা স্বীকার করে বলছেন, কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে তারা জড়িত ছিলেন না।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status