|
বরিশালে তারেকের জনসভা: উন্নয়নের ধারাবাহিকতার ঘোষণা চান নেতাকর্মীরা
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() বরিশালে তারেকের জনসভা: উন্নয়নের ধারাবাহিকতার ঘোষণা চান নেতাকর্মীরা বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় বরিশাল নগরীর ঐতিহাসিক বেলস পার্ক ময়দানে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তিনি। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমনন্ত্রী খালেদা জিয়ার হাত ধরে বরিশাল ঘিরে যে উন্নয়ন শুরু হয়েছিল তাদের ছেলে তারেক জিয়াও তা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা জনসভায় দেবেন এমনই প্রত্যাশা নেতাকর্মীদের। বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম জনি বলেন, “আমরা আত্মহারা। তারেক রহমানকে এক নজর দেখার জন্য তার কথা শোনার সবাই অপেক্ষা করছি। বরিশালের উন্নয়ন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার হাত থেকে শুরু হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তারেক রহমান বরিশালকে আধুনিক শিক্ষা নগরীর হিসেবে ঘোষণা করবেন। বরিশাল বিভাগের পর্যটনের স্থানগুলোকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন নগরীর করা হয়, সেই দাবি করছি। এছাড়া ঢাকা বরিশাল মহাসড়ককে ছয়লেনে করারও দাবি রয়েছে। প্রয়াত খালেদা জিয়া বরিশাল বিভাগকে ঘিরে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালু করেছিলেন দেশনায়ক তারেক রহমানের মাধ্যমে তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই, যুক্ত করেন এই নেতা। এদিকে দলীয় চেয়ারম্যানের সফর উপলক্ষ্যে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আনন্দ বিরাজ করছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, “দুই দশক পর আমাদের নেতা বরিশালে আসছেন। আগে যখন তিনি এসেছিলেন, তখন তিনি ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব। সময়ের বিবর্তনে উনি এখন দলের চেয়ারম্যান।” তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ তারেক রহমানকে সরাসরি দেখবে, তার কথা শুনবেন। এজন্য তারা উম্মুখ হয়ে ছিলেন। অবশেষে আমাদের প্রত্যাশা ও অপেক্ষার ক্ষণ শেষ হতে চলেছে। শিডিউল অনুযায়ী বুধবার সকাল ১১টায় হেলিকপ্টারে বরিশাল আসবেন তিনি। ১২টায় সমাবেশে বক্তব্য দিবেন। জনসভা নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কত লোক হবে নির্দিষ্ট করে বলতে পারবো না। প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া যখন বরিশালে সমাবেশ করেছে, তখন সমগ্র বরিশাল ছিল জনসভাবেশ স্থল। এবারো পূর্বের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।” তিনি আরও জানান, তারেক রহমান সমাবেশ থেকে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের বিএনপি ও জোটের শরিক দলের প্রার্থীদের পরিচয়ও করিয়ে দেবেন। তারা হলেন, জহির উদ্দিন স্বপন (বরিশাল-১), সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ (বরিশাল-২), জয়নুল আবেদীন (বরিশাল-৩), মো. রাজিব আহসান (বরিশাল-৪), মো. মজিবর রহমান সরওয়ার (বরিশাল-৫), আবুল হোসেন খান (বরিশাল-৬); রফিকুল ইসলাম জামাল (ঝালকাঠি-১), ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো (ঝালকাঠি-২), মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা (বরগুনা-১) মো. নূরুল ইসলাম (বরগুনা-২); আলতাফ হোসেন চৌধুরী (পটুয়াখালী-১), মো. সহিদুল আলম তালুকদার (পটুয়াখালী-২), মো. নুরুল হক (পটুয়াখালী-৩, ট্রাক প্রতীকে), এ বি এম মোশাররফ হোসেন (পটুয়াখালী-৪) ; আলমগীর হোসেন (পিরোজপুর-১), আহম্মদ সোহেল মনজুর (পিরোজপুর-২), মোঃ রুহুল আমীন দুলাল (পিরোজপুর-৩) ; আন্দালিভ রহমান (ভোলা-১, গরুর গাড়ি প্রতীকে), মোঃ হাফিজ ইব্রাহিম (ভোলা-২), হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম (ভোলা-৩), মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম (ভোলা-৪)। এদিকে সমাবেশের একদিন আগেই বিভাগের ৬ জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা বরিশাল নগরীতে আসতে শুরু করেন। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই তারা বেলস পার্ক মাঠে পৌঁছাতে থাকেন। রাতে অনেকেই সমাবেশ স্থলেই অবস্থান করেন। শুভেচ্ছা বিনিময়, স্লোগান, নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনায় সারা রাতই সরগরম ছিল সমাবেশস্থল। পরে সকাল থেকেই মিছিলের নগরীতে পরিণত হয় বরিশাল। একের পর এক মিছিলে সকালেই প্রায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে সমাবেশ স্থল। বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, “সমাবেশে শুধু বিএনপির নেতাকর্মীই নয়। আপামর জনগণ সবাই উপস্থিত হবেন। স্বাভাবিক দৃষ্টিতে উপস্থিতির সংখ্যা নিরুপণ করা সম্ভব নয়। এটা নিরুপণ করতে হলে টেকনোলজি ব্যবহার করতে হবে।” এদিকে তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, “চেয়ারম্যানকে নিরাপত্তায় মূল দায়িত্ব পালন করবেন সিএসএফ। এছাড়াও মাঠের নিরাপত্তায় আমাদের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত স্বেচ্ছাসেবকরা থাকবেন। ” বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, “তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী , বিজিবি ও র্যাবের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে। “সমাবেশস্থানসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। শুধু সমাবেশই নয়, নির্বাচনের লেভেল প্লেইং ফিল্ড রক্ষায় কাজ করছে পুলিশ। অন্যান্য প্রার্থীদের প্রচারে নিরাপত্তা দিতেও পুলিশ নগরীতে থাকবে।” |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
