ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ৬ বৈশাখ ১৪৩৩
সক্ষমতার চেয়ে অকটেনের মজুত বেশি, তাহলে পাম্পের লম্বা লাইন শেষ হবে কবে?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 19 April, 2026, 12:10 PM

সক্ষমতার চেয়ে অকটেনের মজুত বেশি, তাহলে পাম্পের লম্বা লাইন শেষ হবে কবে?

সক্ষমতার চেয়ে অকটেনের মজুত বেশি, তাহলে পাম্পের লম্বা লাইন শেষ হবে কবে?

জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় এক বিরল ভারসাম্যহীনতার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। অকটেন আমদানির পরিমাণ দেশের মজুত সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তারপরও ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়িচালকদের এখনো দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে আসে। সর্বশেষ গত শুক্রবার মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে 'নাভ সিয়েলো' নামের আরেকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে।

কর্মকর্তারা জানান, এই জ্বালানি খালাস করা হলে দেশে অকটেনের মোট মজুত দাঁড়াবে প্রায় ৫৫ হাজার ৫০০ টন। এটি দেশের জাতীয় মজুত সক্ষমতা ৫৩ হাজার টনকেও ছাড়িয়ে যাবে। এই পরিমাণ জ্বালানি দিয়ে দেশের ৪৫ দিনের বেশি চাহিদা মেটানো যাবে। এর পাশাপাশি দেশীয় শোধনাগারে দৈনিক প্রায় ৭০০ টন অকটেন উৎপাদন করা হচ্ছে।

শুক্রবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে এর আগে কখনোই একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ জ্বালানির মজুত ছিল না।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, 'আগামী দুই মাসের চাহিদা মেটাতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত আছি।'

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) তথ্য বলছে, ১৬টি ডিপো মিলে সরকারের নিজস্ব মজুত সক্ষমতা রয়েছে ৪৫ হাজার ৮১৯ টন, যা দিয়ে ৩৮ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে। এর মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে মজুত আছে প্রায় ২০ হাজার টন। অন্যদিকে চট্টগ্রামে বিপিসির মূল স্থাপনাগুলোর ধারণক্ষমতা প্রায় ২২ হাজার টন। আর বাকি জ্বালানি অন্যান্য ছোট ডিপোতে রাখা হয়।

এই পরিস্থিতিতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের দীর্ঘ লাইন ও অপেক্ষার সময় কমাতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে অকটেন সরবরাহ বাড়ানো ছাড়া বিপিসির সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়া এই বিশাল মজুত ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা কী, তা এখনো পরিষ্কার নয়। পাম্পের দীর্ঘ লাইন শেষ করতে এই মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতে বিপিসির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কেউই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পাম্পে কাটছে না ভোগান্তি

বিপুল মজুত থাকা সত্ত্বেও খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ সেই অনুপাতে বাড়েনি। ঢাকা ও চট্টগ্রামে, বিশেষ করে অকটেননির্ভর মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের এখনও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

শুক্রবার মধ্যরাতেও ঢাকার তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দর সড়কে অবস্থিত ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির জন্য গাড়ি ও মোটরসাইকেলের লাইন মহাখালী পর্যন্ত পৌঁছাতে দেখা গেছে। প্রায় একই সময়ে আসাদ গেটের তালুকদার পাম্পে জ্বালানি নিতে আসা যানবাহনের লাইন চন্দ্রিমা উদ্যান পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। রাজধানীর আশপাশের এলাকা এবং দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে।

পাম্প মালিকরা শুরু থেকেই বলে আসছেন, এই সংকটের পেছনে ঘাটতির চেয়ে ভোক্তাদের আচরণই বেশি দায়ী।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম বিভাগের সদস্য সচিব মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন এই পরিস্থিতির জন্য ক্রেতাদের আতঙ্কজনিত জ্বালানি কেনাকে (প্যানিক বায়িং) দায়ী করেন।

তিনি বলেন, 'জরুরি প্রয়োজন না থাকার পরও মানুষ জ্বালানির জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছে।' সরবরাহ বাড়ানো সত্ত্বেও চাহিদা এখনো ঊর্ধ্বমুখী বলে জানান তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে মার্চ মাসে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এর ফলে সরকার সম্ভাব্য চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের সমন্বয় করে।

মার্চে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২১৭ টন জ্বালানি সরবরাহ করা হয়, যা আগের বছরের ১ হাজার ১৯৩ টনের চেয়ে কিছুটা বেশি। তবে কর্মকর্তারা জানান, জাহাজে করে জ্বালানি আসতে দেরি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিপিসি অলিখিতভাবে প্রতিদিনের সরবরাহ প্রায় ১০০ টন কমিয়ে দেয়। এপ্রিলের জন্য বিপিসি প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ১৮৫ টন অকটেন বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল।

এদিকে সরকার ফুয়েল পাস বিডি অ্যাপের পাইলট পর্যায়কে রাজধানীর বাইরেও সম্প্রসারিত করেছে। এতে বেশ কয়েকটি জেলা ও মহানগর এলাকা এই মোটরসাইকেল নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় এসেছে।

একটি অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঢাকা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ জেলা এবং এসবের মহানগর এলাকার মোটরসাইকেল মালিকরা এখন ফুয়েল পাস বিডি সিস্টেমের অধীনে নিবন্ধন করতে পারবেন।

পাম্পে পৌঁছাতে সময় লাগবে ৩-৬ দিন

মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে আসা জাহাজ 'নাভ সিয়েলো'র দৈর্ঘ্য ২২০ মিটার। এত বড় হওয়ার কারণে জাহাজটি ডলফিন জেটিতে ভিড়তে পারছে না। এর স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং জানিয়েছে, জাহাজটির জ্বালানি 'সেন্ট্রাল স্টার' নামের অন্য একটি জাহাজে স্থানান্তর করা হবে। ২১ এপ্রিল সেন্ট্রাল স্টারের জেটিতে ভেড়ার কথা রয়েছে।

সেন্ট্রাল স্টার থেকে পতেঙ্গায় অবস্থিত বিপিসির কেন্দ্রীয় স্টোরেজে পুরো চালানটি খালাস করতে প্রায় দুই দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর সেখান থেকে সড়কপথে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর (পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা) ডিপোতে সরবরাহ করতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে।

আর যদি উপকূলীয় ট্যাংকারের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়, তবে পৌঁছাতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। সার্বিকভাবে ডিজেলের সর্বশেষ এই চালান জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হতে তিন থেকে ছয় দিন সময় লাগতে পারে। চট্টগ্রাম-ঢাকা পাইপলাইনটি শুধু ডিজেল পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট থাকায় এটি দিয়ে অকটেন পরিবহন করা সম্ভব নয়।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status