|
যে পিল খেয়ে ‘বায়ুত্যাগ’ করলে বের হয় গোলাপ আর চকলেটের সুবাস
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() যে পিল খেয়ে ‘বায়ুত্যাগ’ করলে বের হয় গোলাপ আর চকলেটের সুবাস ৬৬ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ান পঁয়েশ্যেভালের অভিনব এ আবিষ্কারের পেছনে আছে মজার এক কাহিনি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। জানা যায়, আজীবন বিভিন্ন উটকো সমস্যার সমাধান খোঁজাই ফ্রান্সের ঝেভা গ্রামের বাসিন্দা ক্রিশ্চিয়ান পঁয়েশ্যেভালের জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। এই বিরল প্রতিভার জন্য স্থানীয়রা তাকে ‘সান্তাক্লজের ছোট হিপো ভাই’ নামেও ডেকে থাকেন। ২০০৬ সালে বন্ধুদের সঙ্গে এক নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেছিলেন পঁয়েশ্যেভাল। ওই ভোজসভার পরের এক অপ্রীতিকর ঘটনাই মূলত তাকে বায়ুত্যাগজনিত দুর্গন্ধ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করতে উদ্বুদ্ধ করে। পঁয়েশ্যেভাল জানান, ভরপেট খাওয়ার পরে আমি এত দুর্গন্ধযুক্ত বায়ু ত্যাগ করতে থাকি যে নিজেরই দমবন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়। আমার পাশে বসা বন্ধুরাও আমার কারণে বিমর্ষ হয়ে পড়েন। ওই ঘটনার পরেই তাকে গবেষণার পথে নামতে হয় আর তারই ফলে এক অভিনব আবিষ্কার করে ফেলেন পঁয়েশ্যেভাল। বায়ুত্যাগজনিত দুর্গন্ধ দূর করতে তিনি চকোলেটের মতো সুগন্ধযুক্ত বড়ি আবিষ্কার করেন। তবে এটিই তার একমাত্র আবিষ্কার নয়। এর আগে, তিনি এমন ওষুধও তৈরি করেছেন, যা বায়ুত্যাগে গোলাপ এবং ভায়োলেট ফুলের সুগন্ধ এনে দিতে সক্ষম। এখানেই শেষ নয়, পোষ্য জানোয়ারদের বায়ুত্যাগজনিত দুর্গন্ধ কমানোর পাউডারও তৈরি করেছেন পঁয়েশ্যেভাল। প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি এই সমস্ত ওষুধ সমস্ত রকম রাসায়নিক ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত। তার একমাত্র লক্ষ্য, সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর ও লজ্জাজনক পরিস্থিতি থেকে মানুষকে রক্ষা করা। আসলে খাদ্যতালিকা ও পেট ফাঁপার কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়ার মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক খুঁজে পান এই ফরাসি বিজ্ঞানী। তার ভাষ্য, ‘আমি যখন নিরামিষভোজী ছিলাম, তখন দেখেছি আমার বায়ুত্যাগে শাকসবজির গন্ধ প্রাধান্য পেয়েছে। তার সঙ্গে গরুর গোবরের গন্ধের অনেক মিল রয়েছে। কিন্তু, যখন আমিষ খাওয়া শুরু করলাম, তখন বায়ুত্যাগে দুর্গন্ধ আরও প্রবল হয়ে উঠল।’ ইন্ডিয়া টুডের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, পঁয়েশ্যেভালের তৈরি ওষুধে উদ্ভিদজাত কাঠকয়লা, মৌরি, সামুদ্রিক শৈবাল, পাইন রজন, বিলবেরি এবং কোকো ফলের নির্যাসের মতো প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা শুধু দুর্গন্ধকে আড়ালই করে না, তার সঙ্গে অন্ত্রে সৃষ্ট গ্যাস এবং তার জেরে পেট ফাঁপার মতো উপসর্গও হ্রাস করে। পঁয়েশ্যেভালের তৈরি এইসমস্ত ওষুধ এক ভিন্ন গোত্রের বাজার তৈরি করে ফেলেছে। বিশেষ করে উৎসব ও ছুটির মৌসুমে তার চাহিদা লাফিয়ে বাড়তে দেখা গেছে। পঁয়েশ্যেভালের ভাষ্যমতে, পেট ফোলার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই তার ওষুধ নিয়মিত সেবন করেন। আবার অনেকে মজার ছলে বন্ধুদের উপহারও দেন এই ওষুধ। পেটে জমে থাকা দুর্গন্ধযুক্ত বায়ু গোলাপ এবং চকোলেটের সুগন্ধে বদলে দেওয়া এ ওষুধ ছোটখাটো একটা বিপ্লবই ঘটিয়ে ফেলেছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
