ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ১৪ মে ২০২৬ ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩
দশমিনায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে স্ত্রী পরিচয়ে সন্তানসহ অবস্থান দুই নারীর
মোঃ আমিনুল ইসলাম, দশমিনা
প্রকাশ: Wednesday, 14 January, 2026, 8:57 PM

দশমিনায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে স্ত্রী পরিচয়ে সন্তানসহ অবস্থান দুই নারীর

দশমিনায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে স্ত্রী পরিচয়ে সন্তানসহ অবস্থান দুই নারীর

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে একাধিক নারীকে বিয়ে ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর স্বীকৃতি এবং সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে দুই নারী তাদের সন্তানসহ ওই ইউপি সদস্যের বসতবাড়ির সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য হলেন রনগোপালদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আসাদুজ্জামান নওফেল, তিনি একই এলাকার দেলোয়ার রাড়ীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন ও পাঁচ বছর আগে আসাদুজ্জামান নওফেল ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পপি বেগম (পিতা: মো. বাবুল মিয়া) এবং বরিশাল জেলার কদমতলী থানার মৃত ছাদেল হাওলাদারের মেয়ে মিম বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর নওফেল বিভিন্ন সময় তাদের বাবার বাড়ি ও ভাড়া বাসায় রেখে আসতেন।

ভুক্তভোগী নারীরা জানান, দীর্ঘ এক বছর ধরে নওফেল তাদের কোনো খোঁজখবর না নেওয়ায় গত রোববার তারা স্বামীর স্বীকৃতিতে নিজ নিজ সন্তান,পপি বেগমের তিন বছর বয়সী কন্যা নওরিন এবং মিম বেগমের তিন বছর বয়সী পুত্র সন্তানকে নিয়ে নওফেলের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, তাদের অনুপস্থিতিতে নওফেল গলাচিপা উপজেলার লামিয়া নামের আরেক নারীকে স্ত্রী হিসেবে ঘরে তুলেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, বাড়িতে প্রবেশ করতে চাইলে নওফেল দুই নারীকে মারধর করে তাড়িয়ে দেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাদের রক্ষা করেন। পরে দশমিনা থানা পুলিশ ও ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আপাতত তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য লিপির জিম্মায় রাখা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেখানে অবস্থানকালে বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
পপি বেগম ও মিম বেগম বলেন, “রেজিস্ট্রি কাবিননামা অনুযায়ী আমাদের বিয়ে হয়েছে এবং আমাদের গর্ভে তার ঔরসে সন্তান জন্ম নিয়েছে। তিনি নেশাগ্রস্ত এবং একের পর এক নারীকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে পরে তালাক দেন। এর আগেও প্রায় ২০ জন নারীকে বিয়ে করে তালাক দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।”

তারা আরও বলেন, “আমাদের সন্তানরা বড় হলে বাবার পরিচয় কোথায় পাবে? আমরা স্বামীর ও সন্তানের পিতৃস্বীকৃতি চাই। ন্যায়বিচার না পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, নওফেলের বাবা দেলোয়ার রাড়ী তাদের জানান,আগেও অনেক নারী এসেছেন, যাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান নওফেল বলেন, “এটি পারিবারিক বিষয়, পারিবারিকভাবেই সমাধানের চেষ্টা চলছে।”

ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করি। পরে থানা পুলিশ আসে। ভুক্তভোগীদের মতামতের ভিত্তিতে তাদের নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে।”

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাইয়্যিদ মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন। পুলিশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।”

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status