|
পাইকগাছায় শীত উপেক্ষা করে জমিতে বোরো আবাদে কৃষকরা
শেখ সেকেন্দার আলী, পাইকগাছা
|
![]() পাইকগাছায় শীত উপেক্ষা করে জমিতে বোরো আবাদে কৃষকরা যেগুলো গজিয়েছে সেগুলোও বিবর্ণ রূপ ধারণ করছে। এ নিয়ে তিনি যখন দুশ্চিন্তায় তখন তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কর্মরত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মৃনাল সরকারের পরামর্শে সফলতা পেয়েছেন। লাইন লেগো ও পার্চিং করার পরামর্শ অনুযায়ী বোরো ধান রোপন করেছে। বীজতলায় পানি পরিবর্তন, ঢেকে রাখা সহ নানা যত্ন নিয়ে চারাগাছকে রোপণ উপযোগী করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তিনি। একই ইউনিয়নের হরিঢালী গ্রামের দেবপ্রসাদ ব্যানার্জী তিনিও ৭ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছে তিনিও উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুব্রত দত্তের পরামর্শ অনুযায়ী লাইন লেগো ও পার্চিং করার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক উপজেলা কৃষি অফিস সব সময় সেবা দিয়ে আমাদের পাশে থাকে বলে একৃষক জানান। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মৃণাল সরকার জানান, হরিঢালী ইউনিয়নের মোট বোরো ধানের বীজতলা ৫৪ হেক্টর। আজ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ১৩০ হেক্টর, মোট আবাদ হবে ১০৮০ হেক্টর। হরিখালীতে নতুন কৃষক আবুল হোসেন ৬০ বিঘা জমিতে বোরোর আবাদ করেছেন। ওই কৃষক বলেন, আমি নতুন। ঝুঁকি নিয়ে আবাদ করছি, এব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সর্বাত্মক পরামর্শ ও সহযোগিতা করছেন। এদিকে, সরজমিনে দেখা যায়, কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত ও কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গদাইপুর, কপিলমুনি, চাঁদখালী ইউনিয়ন সহ উপজেলার অন্যান্য কৃষকরা। গত এক সপ্তাহ সূর্যের আলোর তেমন দেখা না পাওয়ায় বোরোর বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। বিশেষ করে সম্প্রতি নতুন বীজতলা ৭-১৪ দিন হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু জায়গায় বীজতলা হলুদ ও ফ্যাকাসে বর্ণও ধারণ করেছে। তীব্র শীতের কারণে অনেকে বীজতলা প্রস্তুত করতে পারছেন না। বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হলে চারা সংকটের পাশাপাশি বাড়তি উৎপাদন খরচের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। অনেকেই বলেন, গতবারের চেয়ে এবার বেশি দামে বীজ কিনে বপন করেছেন। অঙ্কুরিত হওয়ার সময় গত কয়েক দিনের তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় অধিকাংশ চারা নষ্ট হওয়ার উপক্রম। এ অবস্থায় চারা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। তবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পর্যাপ্ত বোরো চারা উৎপাদনের প্রস্তুতি রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চারা সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না নামলে ও অধিক কুয়াশা না পড়লে বীজতলার বড় ক্ষতি হবে না, বলছেন তারা। বীজতলা রক্ষায় মাঠ পর্যায়ের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সর্বাত্মক কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন তারা। চলতি মৌসুমে উপজেলার বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ১৭ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ২৬৪ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে। লবণাক্ত এ অঞ্চলের উপজেলার মধ্যে হরিঢালী, কপিলমুনি, গদাইপুর ও রাড়ুলী ইউনিয়নে প্রায় ৭৫% আবাদ হয়ে থাকে। অদ্য পর্যন্ত বোরো ধানের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে ১২শত হেক্টর। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরামুল হোসেন বলেন নতুন বীজতলা ৭-১৫ দিন বীজ বপন করা হয়েছিল, সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যেসব চারা ৪/৫ পাতা বের হয়েছে সেগুলো আর ক্ষতি হবে না। এছাড়া চলমান তীব্র শীত ও কুয়াশায় বীজতলা খোলা থাকলে চারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে এবং প্রতিদিন সকালে বীজতলার পানি পরিবর্তন করে নতুন পানি দেওয়ার জন্য। জানুয়ারি মাসজুড়ে চারা তৈরি করা যাবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
