ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
ফেলানী হত্যার ১৫ বছর
সীমান্তে হত্যা, নির্যাতন ও পুশইনের বিরুদ্ধে অধিকারের বিবৃতি
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Wednesday, 7 January, 2026, 3:12 PM
সর্বশেষ আপডেট: Wednesday, 7 January, 2026, 3:25 PM

সীমান্তে হত্যা, নির্যাতন ও পুশইনের বিরুদ্ধে অধিকারের বিবৃতি

সীমান্তে হত্যা, নির্যাতন ও পুশইনের বিরুদ্ধে অধিকারের বিবৃতি

ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ১৫তম বার্ষিকীতে বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা, নির্যাতন ও পুশইনসহ ধারাবাহিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’। বুধবার (৭ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এসব অভিযোগ তুলে ধরে দোষীদের বিচার দাবি করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফ সদস্যরা গুলি করে কিশোরী ফেলানী খাতুনকে হত্যা করে এবং তার লাশ সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখে। এ নির্মম ঘটনা বিশ্বব্যাপী আলোচনার জন্ম দিলেও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ ও তার নির্দেশদাতা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আজ পর্যন্ত কোনো শাস্তি হয়নি। বিএসএফের নিজস্ব আদালত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে (জিএসএফসি) প্রহসনমূলক বিচার শেষে অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয় এবং পরবর্তীতে রায় পুনর্বিবেচনার পরও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।

সীমান্তে হত্যা, নির্যাতন ও পুশইনের বিরুদ্ধে অধিকারের বিবৃতি

সীমান্তে হত্যা, নির্যাতন ও পুশইনের বিরুদ্ধে অধিকারের বিবৃতি


অধিকার জানায়, ফেলানী একা নন—সীমান্তে বিএসএফের হাতে নিহত শিশু-কিশোরদের তালিকা দীর্ঘ। ২০০৯ সালে মনজুয়ারা (১২), ২০১০ সালে হাসনাত হালসাম ইনু (১৫), ২০১১ সালে ফেলানী (১৫), ২০১৯ সালে সোহেল রানা বাবু (১৪), ২০২২ সালে মিনারুল ইসলাম (১৬) এবং ২০২৪ সালে স্বর্ণা দাস (১৪) ও জয়ন্ত কুমার সিনহা (১৫)সহ বহু শিশু-কিশোর বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছে। অধিকার দাবি করছে, ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন শিশু-কিশোর বিএসএফের হাতে প্রাণ হারিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে হত্যাকাণ্ড একটি কাঠামোগত মানবাধিকার সংকটে পরিণত হয়েছে। পৃথিবীতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তই এমন একটি সীমান্ত, যেখানে নিয়মিতভাবে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যা করা হচ্ছে। দুই দেশের বিদ্যমান সমঝোতা ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কথা থাকলেও ভারত দীর্ঘদিন ধরে তা লঙ্ঘন করে আসছে।

অধিকার অভিযোগ করে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত কর্তৃপক্ষ উসকানিমূলকভাবে বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা ও এমনকি ভারতীয় মুসলিম নাগরিকদের রাতের আঁধারে বাংলাদেশে পুশইন করছে। এ সময় অনেককে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে এবং তাঁদের মালামাল ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিবৃতির শেষাংশে অধিকার ফেলানীসহ সব হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার দাবি করে এবং বাংলাদেশের ওপর ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানায়। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status