ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ২২ এপ্রিল ২০২৬ ৮ বৈশাখ ১৪৩৩
কোটালিপাড়া ও উজিরপুরের জলাভূমিতে ঐতিহ্য ও জীবিকার লড়াই
আলতাফ হোসেন অনিক
প্রকাশ: Tuesday, 30 December, 2025, 6:07 PM

কোটালিপাড়া ও উজিরপুরের জলাভূমিতে ঐতিহ্য ও জীবিকার লড়াই

কোটালিপাড়া ও উজিরপুরের জলাভূমিতে ঐতিহ্য ও জীবিকার লড়াই

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও বিলাঞ্চলে এখনো টিকে আছে গ্রামবাংলার শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মাছ শিকারের পদ্ধতি। উপজেলার কান্ধী ইউনিয়নের কান্ধী ও শাতুরিয়া, আলামদির বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে বর্ষা ও শীত মৌসুমকে ঘিরে জ্বাল ও বাঁশের সমন্বয়ে তৈরি বিশেষ কাঠামো—স্থানীয় ভাষায় যাকে বলা হয়  ভেসাল জাল, ব্যবহার করে মাছ ধরতে দেখা যাচ্ছে জেলে সম্প্রদায়কে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জলাশয়ের মাঝখানে বাঁশ পুঁতে এবং জাল বসিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই ভ্যাশাল। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের জেলেরা প্রাকৃতিক মাছ আহরণে এ পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছেন। যদিও ভেসাল জালের নাম ও গঠন জেলার ভেদে কিছুটা ভিন্ন হলেও এর মূল কৌশল একই।

দেশি মাছের প্রাচুর্য, জেলেদের কর্মব্যস্ততা
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা ও শীত মৌসুমে বিল ও নালার স্রোতে কচুরিপানা ও শ্যাওলার আড়ালে আশ্রয় নেয় নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। এর মধ্যে রয়েছে রুই, কাতলা, মিরকা, শোল, গজাল, টাটকিনা, রয়না, শিং, কই, মাগুরসহ নানা প্রজাতির মাছ। এসব মাছ চলাচলের সময় অসাবধানতাবশত ভ্যাশাল ও জ্বালের ফাঁদে পড়ে ধরা পড়ে।
ধরা পড়া মাছ জেলেরা হাপা কিংবা নৌকায় জীবিত রেখে পরবর্তীতে স্থানীয় ও আঞ্চলিক পাইকারি বাজারে বিক্রি করেন। উজিরপুরের হারতা, আগৈলঝাড়ার পয়শা, সাতলা বাজারসহ দেশের বিভিন্ন শহরের পাইকারদের কাছে এসব মাছ সরবরাহ করা হয়।

জেলেদের কথা: জীবিকার তাগিদে ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা
সাতুরিয়া বিলের মৎস্য শিকারী সুশীল বিশ্বাস বলেন, “আমরা জীবিকার তাগিদেই জ্বাল ও বাঁশের মিশ্রণে ভেসাল জাল বসিয়ে মাছ ধরি। এর পাশাপাশি পাতি জাল, বিভিন্ন বরশি ও দুবাইর দিয়েও মাছ আহরণ করি। এই কাজেই আমাদের সংসার চলে।”

একই এলাকার জেলে পরিবারের সদস্য কৃপা সিন্ধু বলেন, “এই মাছ ধরাই আমাদের প্রধান আয়ের উৎস। প্রাকৃতিক জলাশয় ভালো থাকলে সংসার চালানো সহজ হয়। কিন্তু এখন আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না।”

ঘের ও সাদা মাছ চাষে সংকটে দেশি মাছ
জেলেদের অভিযোগ, দিন দিন এলাকায় নতুন নতুন ঘের ও বাণিজ্যিকভাবে সাদা মাছের চাষ বাড়ায় প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো দখল হয়ে যাচ্ছে। সতলা, বাগধা, আলামদি এলাকাসহ প্রায় প্রতিটি বিলে এখন সাদা মাছের চাষ চলছে। ফলে যেসব বিলে জেলেরা দীর্ঘদিন ধরে দেশি মাছ শিকার করতেন, সেসব বিলে আগের মতো মাছ আর পাওয়া যাচ্ছে না।

খাল দখল ও পরিবেশ সংকট
এদিকে স্থানীয় জমির মালিকরা দাবি করেন, বিল থেকে নদীতে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খালটি—সাতলা একতা বাজার থেকে কান্ধী ও ধারাবাশাইল পর্যন্ত বিস্তৃত—অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়েছে। খালটি দখলমুক্ত করা না গেলে জলাবদ্ধতা বাড়বে এবং প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক জলাভূমি, খাল ও দেশি মাছ সংরক্ষণে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে, অন্যদিকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জলাভূমিনির্ভর জেলে সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে জলাভূমি রক্ষা এবং ঐতিহ্যবাহী মাছ শিকারের এই পদ্ধতি টিকিয়ে রাখা হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status