|
গ্যাজেট বাজারে আতঙ্ক
অর্থপাচার ও লাগেজ পার্টির ফাঁদ: সুমাশ টেকের মালিকের ব্যাংক হিসাব তলব
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() অর্থপাচার ও লাগেজ পার্টির ফাঁদ: সুমাশ টেকের মালিকের ব্যাংক হিসাব তলব এনবিআরের কর কমিশনারের কার্যালয় (আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট) থেকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঠানো চিঠিতে সুমাশ টেকের মালিক আবু সাঈদ পিয়াসের নামে থাকা সব ধরনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২০০ ধারা অনুযায়ী নেওয়া এই পদক্ষেপে সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাব, এফডিআর, এসটিডি, ক্রেডিট কার্ড লেনদেন এমনকি লকার বা ভল্টের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সব লেনদেনের অর্ধ-বার্ষিক বিবরণী সাত দিনের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুমাশ টেক দীর্ঘদিন ধরে ‘লাগেজ পার্টি’ সুবিধার অপব্যবহার করে চীন, ভিয়েতনাম, দুবাই ও ভারত থেকে দামী ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন অবৈধভাবে দেশে এনে জনপ্রিয় ইউটিউবারদের দিয়ে রিভিউ করিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে,এসব ‘আনঅফিসিয়াল’ ফোন বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হলেও রাষ্ট্র এক টাকাও শুল্ক বা কর পাচ্ছে না। বরং বিক্রয়লব্ধ অর্থের বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই চক্র শুধু রাজস্ব ফাঁকিই দিচ্ছে না, বরং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে মারাত্মক চাপ তৈরি করছে। অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন বাজারে ছড়িয়ে দিয়ে বৈধ উৎপাদনকারী ও অনুমোদিত আমদানিকারকদের ব্যবসা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। লাগেজ পার্টির নামে এই চোরাচালান বন্ধ না হলে প্রযুক্তি খাতে সরকারের রাজস্ব আদায় মুখ থুবড়ে পড়বে। এর আগে অ্যাপল গ্যাজেটসের বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধানে নামার পর গ্যাজেট বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, সুমাশ টেকের ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনায় তা আরও তীব্র হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য আয়কর রিটার্নের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসংগতি বা কর ফাঁকির প্রমাণ মিললে সুমাশ টেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুমাশ টেকের মালিক আবু সাঈদ পিয়াসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এ বিষয়ে সুমাশ টেকের মালিক আবু সাঈদ পিয়াস বলেন, আমরা এখনো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক তাদের ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য তলবের বিষয়ে জারি করা কোনো আনুষ্ঠানিক নথি, নোটিশ বা চিঠি পায়নি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ ধরনের কোনো চিঠি বা নির্দেশনা এখনো তাদের কাছে পৌঁছায়নি। প্রাসঙ্গিক ও আনুষ্ঠানিক নথি হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুমাশ টেক যথাযথভাবে ইমেইলের মাধ্যমে তাদের বক্তব্য বা জবাব দেবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
