|
বেইলী ব্রীজের ধীরগতির কাজ; প্রশ্নের মুখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান
মোঃ মোবারক হোসেন, খাগড়াছড়ি
|
![]() বেইলী ব্রীজের ধীরগতির কাজ; প্রশ্নের মুখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, ব্রীজ নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও নিরাপদ বিকল্প সড়ক নির্মাণ বা পূর্ণাঙ্গ সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। কিছুদিন আগে বেইলী ব্রীজের পাটাতন খুলে পড়ে যানবাহন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। পরে তড়িঘড়ি করে বিকল্প রাস্তা সংস্কারের চেষ্টা করা হলেও তা ছিল অসম্পূর্ণ ও অস্থায়ী, যা যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো—ব্রীজের কাজ বর্ষা মৌসুমের আগেই শুরু হলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সম্প্রতি বাঘাইছড়ি উপজেলার এক মোটরসাইকেল চালক ব্রীজের খাদে পড়ে গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হন এবং মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েন। এলাকাবাসীর দাবি, একাধিকবার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এতে জননিরাপত্তা নিয়ে চরম অবহেলা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতা ও তদারকির অভাবে কাজের গতি আশঙ্কাজনকভাবে ধীর হয়ে পড়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও ব্রীজ নির্মাণ শেষ না হওয়ায় একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে— কেন কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে? কেন বিকল্প সড়ককে নিরাপদ করা হয়নি? এবং এই অব্যবস্থাপনায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার দায়ভার শেষ পর্যন্ত কে নেবে? আরও উদ্বেগজনক হলো—নির্মাণ এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড অপ্রতুল, রাতের বেলায় আলোকসজ্জা ও দিকনির্দেশনার অভাব পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। ফলে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগীবাহী যান, পণ্যবাহী ট্রাক ও সাধারণ পথচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় বেইলী ব্রীজটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেলিম ব্রাদার্স। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। তবে চলমান এই প্রকল্পে কাজের অগ্রগতিতে দৃশ্যমান স্বচ্ছতার অভাব এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থতা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এমতাবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই, নির্মাণকাজে গাফিলতির জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং অবিলম্বে বিকল্প সড়ক পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
