|
রুমায় প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরে সহকারী শিক্ষা অফিসারের পদ শূন্য, কার্যক্রমে জটিলতা প্রকট
অংবাচিং মারমা, রুমা
|
![]() রুমায় প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরে সহকারী শিক্ষা অফিসারের পদ শূন্য, কার্যক্রমে জটিলতা প্রকট প্রশাসনিক জটিলতায় ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশিষ চিরান জানান,“প্রশাসনিক কাঠামোর জটিলতার কারণে উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষকদের সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা নেই। কোনো অভিযোগ পেলে তা উপজেলা থেকে জেলা শিক্ষা অফিস এবং সেখান থেকে পার্বত্য জেলা পরিষদের অনুমোদন লাগে। দীর্ঘ এই প্রক্রিয়ার কারণে ব্যবস্থা নিতে সময় লাগে।” তিনি আরও বলেন, “অনেক শিক্ষক জেলা পরিষদের বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির করে শাস্তিমূলক ফাইল আটকে রাখেন,ফলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন,উপজেলা শিক্ষা অফিসারের দায়িত্ব হলো বছরে ৫টি বিদ্যালয় পরিদর্শন করা, আর সহকারী শিক্ষা অফিসারের দায়িত্ব বছরে ১০টি বিদ্যালয় পরিদর্শন করা। কিন্তু গত এক বছর ধরে সহকারী শিক্ষা অফিসারের পদ শূন্য থাকায় সকল বিদ্যালয়ে নিয়মিত পরিদর্শন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান করছেন কি না তা তদারকি করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরা অভিযোগ করেছেন, রুমার বিভিন্ন পাড়া–মহল্লায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা দিনদিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। এলাকার দীর্ঘদিনের অস্থিরতা, সামাজিক সমস্যা এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশের অভাব এ অবস্থার জন্য দায়ী বলে তারা মনে করেন। বহিরাগত শিক্ষক নিয়োগে অসন্তোষ,স্থানীয়দের অভিযোগ,শিক্ষক নিয়োগে স্থানীয় স্থায়ী বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না। ফলে বহিরাগত শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ায় বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, দায়িত্ববোধ, জবাবদিহিতা—সবকিছুতেই ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে,“নিজ এলাকার মানুষ শিক্ষক হলে দায়িত্ববোধ বাড়ে, স্কুলে উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়।” রুমা উপজেলায় বম সম্প্রদায়ের পাড়াসহ দূর্গম এরিয়া কয়েকটি বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত পাড়াসমূহে বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার মান উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে গেছে। জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবস্থাও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানাচ্ছেন সচেতন মহল। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের গুণগত মান, ক্লাস নেওয়ার ধারাবাহিকতা এবং সার্বিক শিক্ষাদানের মান নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই বাড়ছে। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেন—জাতীয়করণ হওয়া সত্ত্বেও কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আগের তুলনায় আরও শিথিল হয়ে পড়েছে। অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষক মত প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় এলাকা থেকে শিক্ষক নিয়োগ না করে বাইরের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে জেলা পরিষদ বড় ধরনের ভুল করছে। তাঁর মতে, প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে চাইলে স্থানীয় যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ। রুমা উপজেলা স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধি পিপলু মারমা বলেন, নিয়মিত মনিটরিং আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাঁর মতে, স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দিলে পাহাড়ি দুর্গম এলাকার স্কুলগুলো আরও সুষ্ঠু, সক্ষম ও সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হবে। সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের অভিমত,দীর্ঘমেয়াদি পদশূন্যতা দ্রুত পূরণ,শিক্ষক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজীকরণ,এবং বিদ্যালয়গুলোর ওপর কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে রুমা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার মান অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব। তাদের দাবি—“সহকারী শিক্ষা অফিসারের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ না হলে শিক্ষার গুণগত মান আরও সংকটে পড়বে।” |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
