|
গাজীপুরে ভূমিকম্প আতঙ্কে পোশাক শ্রমিকেরা
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() গাজীপুরে ভূমিকম্প আতঙ্কে পোশাক শ্রমিকেরা গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী বোর্ডবাজার, চান্দনা চৌরাস্তা শ্রীপুর-সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা'র শ্রমিকরা জানায়, দ্বিতীয় দিনের মত ভূ-কম্পন অনুভূত হওয়ায় শ্রমিকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে এখনো। অনেকেই ভয়ে কাজেও যাননি আজ। নরসিংদীর মাধবদীতে ভূ-কম্পন'র ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত না হতেই সাভার ও গাজীপুরের মাঝামাঝি বাইপাইল এলাকায় ফের ভূ-কম্পন রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূ-কম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র। কোনাবাড়ী এলাকার এক পোশাক শ্রমিক রফিকুল ইসলাম (৪০) বলেন, গতকালকে আমার কারখানা বন্ধ ছিল। গতকালকের ভূ-কম্পন'র খবর পেয়ে আজকে আমি ভয়ে কারখানায় যাইনি, আজ ফের খবর পেলাম ছোট ভূ-কম্পন হয়েছে। শ্রীপুরের এক শ্রমিক মোসা. মর্জিনা আক্তার জানিয়েছেন, ভূমি-কম্পের খবর পেয়ে আমি কারখানার উপর তলা থেকে নিচে নেমে আসার চেষ্টা কালে হঠাৎ করে পা পিছলে নিচে পড়ে গীয়ে কিছুটা ব্যথা পেয়েছি। শ্রীপুরের ডেনিম্যাক কারখানার শ্রমিক জামাল উদ্দিন বলেন, আমি গত কালকে কারখানার ভিতরে ছিলাম। যখনই ফায়ার এলার্ম শব্দ শুরু করে তখন আমি দৌঁড়ে নিচে নামি। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমরা যখন নিচে নামি তখন আমাদের কারখানার মূল ফটক বন্ধ ছিল। গেইট খুলতে বেশ দেরি করে ফেলে কর্তৃপক্ষ। পরে শ্রমিকেরা মূল ফটক ভেঙে বের হয়ে যায়। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর সভাপতি শফিউল আলম জানান, স্মরণকালের সেরা ভূ-কম্প হয়েছে বাংলাদেশে। পরপর দুইবার ভূ-কম্প হওয়ায় গাজীপুরের শ্রমিকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এবং আমরা শুনেছি, বিভিন্ন কারখানার মূল ফটক বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে শ্রমিকেরা বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। শ্রমিকরা নির্বিঘ্নে তাদের নিরাপদ স্থানে যেতে পারেননি। কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা ছিলো। আমি বলবো, শ্রমিকরা যাতে নির্বিঘ্নে কর্মস্থল থেকে নিরাপদ স্থানে যেতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে। গাজীপুর শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর আব্দুল লতিফ বলেন, গতকালকে ডেনিমেক কারখানার আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা চলছে। তবে কারখানায় আজ থেকে সকল প্রকার কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২২নভেম্বর) বিকাল ৩ টায়, গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, গাজীপুরের শ্রমিকদের মাঝে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে আতঙ্কের মাঝেও আজকে শ্রমিকদের কোন সমস্যা হয়নি। গাজীপুর শিল্প জোনে অনেক সময় কিছুটা রিউমার সৃষ্টি হয়। সেটা যাতে না হয় এ বিষয়ে আমি খোঁজখবর নিচ্ছি। ভূমিকম্পের সময় অনেক কারখানার মূল ফটক বন্ধ থাকে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটা তথ্য সিকিউরিটি গার্ড পর্যন্ত আসতে কিছুটা সময় লাগে। তার মাঝে শ্রমিকেরা নিচে চলে আসে। কারখানা কর্তৃপক্ষ যাতে তাৎক্ষণিকভাবে কারখানার গেট খুলে দেন সে বিষয়ে কারখানাগুলোকে জানানো হচ্ছে। প্রসঙ্গত, আজ শনিবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডে ফের এই ভূ-কম্পন রেকর্ড করা হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল তিন দশমিক তিন। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রে দায়িত্বরত পেশাগত সহকারী নিজাম উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, 'এটি একটি মাইনর ভূ-কম্প। এর উৎপত্তিস্থল বাইপাইল।' এর আগে গতকাল সকালে ঢাকা থেকে ১৩ কিলোমিটার পূর্বে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে দুই শিশু-সহ ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
