|
২৬ বছর যাবত শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাতা শিক্ষক আলমগীর বিশ্বাস
এ এইচ অনিক
|
![]() ২৬ বছর যাবত শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাতা শিক্ষক আলমগীর বিশ্বাস দীর্ঘদিন বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন নিউরো সাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের পরও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি তিনি। বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে কলকাতা গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গতকাল দুপুর ২টায় প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর বিশ্বাস এই প্রতিবেদককে বলেন, “মানুষের জীবনে অসুখ-বিসুখ থাকবেই। তবে গত ২৬ বছরে অসুস্থতার কারণে কোনোদিন বিদ্যালয় অনুপস্থিত থাকিনি। শিক্ষার্থীরাই আমার শক্তি—তাদের জন্যই শিক্ষকতার মহান পথ বেছে নিয়েছি।” বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রবীণ কুমার মণ্ডল জানান, “আইন, শৃঙ্খলা ও পাঠদানে তিনি কখনোই অবহেলা করেননি। নিয়মতান্ত্রিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।” সহকারী শিক্ষক লাইজু খানম বলেন, “স্যারের ক্লাস অত্যন্ত প্রাণবন্ত। সহজ ভাষায় পাঠদান করায় শিক্ষার্থীরা সহজেই বুঝতে পারে।” ঝুমুর হালদার, আরও এক সহকারী শিক্ষক বলেন, “স্যারের ব্যবহারে আমরা সবাই মুগ্ধ। তিনি সম্মান দিয়ে কথা বলেন, সহযোগিতা করেন।” এক অভিভাবক জানান, “আমাদের প্রধান শিক্ষক সাদা মনের মানুষ। তিনি খুবই উদার ও শিক্ষার্থী-বান্ধব। কিছু সমস্যার কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। শুনেছি, একটি মহল তাঁকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরানোর চেষ্টা করছে—যা তিনি সহ্য করতে পারেননি।” বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণিকক্ষে পাঠরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়— “স্যার খুব সহজভাবে ক্লাস নেন, বুঝতে আমাদের কোনো সমস্যা হয় না।” প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে পাঠদান করেন আলমগীর বিশ্বাস। প্রয়োজনে বিকেলেও থাকেন। তাঁর স্ত্রী ও সহকারী শিক্ষক লাইজু খানম বিকেল ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত স্বামীকে সহায়তা করেন। সাদা মনের এই আদর্শ শিক্ষককে বাঁচিয়ে রাখতে মানবিক সহায়তা ও সহযোগিতা প্রয়োজন—এটা শুধু বিদ্যালয় নয়, সমগ্র সমাজেরই দায়িত্ব। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
