|
অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধে সরকারের উদ্যোগ, প্রতিবাদে মোবাইল ব্যবসায়ীরা করলেন দোকান বন্ধ
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ছবি: রাজধানীর মিরপুর-২-এ (গত ১৭ মে ২০২২ সালে) বিটিআরসি এনফোর্সমেন্ট টিম ও র্যাব-৪-এর যৌথ অভিযানে ৭টি দোকান থেকে অনুমোদনবিহীন ২১৩টি মোবাইল হ্যান্ডসেট জব্দ ও ৬ জন আটক করা হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে দেশে চালু হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর)। সরকার ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, এনইআইআর চালু হলে শুধু অনুমোদিত ও বৈধভাবে আমদানি করা মোবাইল ফোনই দেশের টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে পারবে। অবৈধ বা ক্লোন আইএমইআই ব্যবহার করা কোনো মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে আর সক্রিয় হবে না। বিটিআরসির মতে, এই ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে অবৈধ আমদানি কমে আসবে, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীরা নিশ্চিতভাবে মানসম্মত ও অনুমোদিত পণ্য কিনতে উৎসাহিত হবেন। তবে এনইআইআর চালুর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশে নতুন ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। তাদের অভিযোগ, এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং কিছু ব্যবসায়ীকে টার্গেট করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার (১৯ নভেম্বর) এক ঘোষণায় বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) জানিয়েছে, তারা দেশের সব মোবাইল ফোন বিক্রির দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, এনইআইআর বাস্তবায়নের নামে মোবাইল মার্কেটকে সংকুচিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং কিছু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, সম্প্রতি সুমাশটেকের প্রধান নির্বাহী আবু সাঈদ পিয়াসকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আটক করার ঘটনাও বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা বলছে, ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ না হলে এবং এনইআইআর বাস্তবায়নে সমন্বয় না হলে এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে। এদিকে এনইআইআর বাস্তবায়ন নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে—অনেকে ভাবছেন, তাদের ব্যবহৃত ফোনটি হঠাৎ নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে কি না। যদিও বিটিআরসি জানিয়েছে, গ্রাহকদের স্বাভাবিক ব্যবহারে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হবে না এবং ভোক্তাদের সচেতন করতে প্রচার কার্যক্রম চলছে। সব মিলিয়ে, অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট বন্ধে সরকারের উদ্যোগ বাজারকে শৃঙ্খলায় আনতে সহায়ক হলেও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় নতুন এক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন সময়ই বলে দেবে—এনইআইআর কি বাজারকে স্বাভাবিক করবে, নাকি আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করবে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
