|
নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ শিকারের অপেক্ষায়, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত উপকূলের জেলেরা
মো. বাচ্চু, রাঙ্গাবালী
|
![]() নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ শিকারের অপেক্ষায়, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত উপকূলের জেলেরা তবে এবারের নিষেধাজ্ঞা যেন অন্যবারের চেয়েও বেশি কঠিন করে তুলেছে জীবন। এর আগেও বহুদিন ধরে বৈরি আবহাওয়ার কারণে জেলেরা নদীতে নামতে পারেননি। ফলে কেউ মহাজনের কাছে, কেউ এনজিও থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে চালিয়েছেন সংসার। চালিতাবুনিয়ার জেলে বশির মাঝি বলেন, “আরে ভাই, হাতে পয়সা নাই, ঘরে চাল নাই, ঋণের কিস্তি দিতে দিতে মরার অবস্থা। নদীতে গেলেও মাছ পাই নাই, এখন আবার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। সংসার চলতেছে ধার-কর্জে। এইবার মাছ না পাইলে রাস্তায় নামতে হইবো।” একই কথা বলেন বড়বাইশদিয়ার মিজানুর মাঝিও। “আমার তিনটা ছোট বাচ্চা, স্ত্রী, মা—সবাই তাকিয়ে থাকে আমার রোজগারের দিকে। এখন এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা সুদে নিছি, খাওয়াইছি। মাছ ধরতে পারলে শোধ দিমু, না পারলে কী হইবো তা জানি না।” অন্যদিকে সাগরে লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে, এ নিয়ে জেলেরা শঙ্কায় পড়েছেন - নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও যদি আবার বৈরি আবহওয়ার কারণে নদীতে নামতে না পারেন, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। জেলেরা বলছেন, সরকার নিষেধাজ্ঞা দেয়, এটা ইলিশ রক্ষায় জরুরি - তারা বুঝেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ আর সহায়তার ঘাটতি তাদেরকে বাচার পথ থেকে ঠেলে দিচ্ছে অনিশ্চয়তা। তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন- জেলেদের প্রকৃত তালিকা হালনাগাদ করে সকলকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনতে হবে এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্হা করতে হবে। সব মিলিয়ে ২৫ অক্টোবর রাত ১২ টার পর থেকেই নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হাজারো জেলে। তাদের একটাই প্রার্থনা নদীতে যেন এবার ইলিশে ভরে যায় জাল। নইলে শুধু ঋণ নয়, জীবনটাই পড়ে যাবে ঘূর্ণিতে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
