ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২৩ জুন ২০২৬ ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শিক্ষার আলো নিভে যাচ্ছে পাহাড়ে, রুমা সাঙ্গু কলেজের ফলাফল ভয়াবহ বিপর্যয়
অংবাচিং মারমা, রুমা
প্রকাশ: Thursday, 16 October, 2025, 3:28 PM

শিক্ষার আলো নিভে যাচ্ছে পাহাড়ে, রুমা সাঙ্গু কলেজের ফলাফল ভয়াবহ বিপর্যয়

শিক্ষার আলো নিভে যাচ্ছে পাহাড়ে, রুমা সাঙ্গু কলেজের ফলাফল ভয়াবহ বিপর্যয়

বান্দরবানের দুর্গম পার্বত্য উপজেলা রুমার একমাত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রুমা সাঙ্গু সরকারি কলেজে এবারের পরীক্ষায় অভূতপূর্ব ও উদ্বেগজনক ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১শত-২৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র -৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। ভয়াবহ এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী,পাশের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬.৪০ শতাংশ, যা শুধুমাত্র রুমা নয়, সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার চরম দুরবস্থার এক নির্মম প্রতিফলন।

ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ,হতাশা ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কেউ দায় দিচ্ছেন শিক্ষক সংকটকে, কেউবা দুষছেন শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহ,আবার কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারকদের ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন।

“শুধু সন্তান নয়, স্বপ্নও ভেঙে পড়ল”— ক্ষুব্ধ অভিভাবকের প্রতিক্রিয়া। একজন অভিভাবক বলেন,সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য আমরা পাহাড়ে থেকেও শত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চেষ্টা করি। কিন্তু এই ফলাফল মানা সত্যিই অসম্ভব। এখনই যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার ছাড়া আর কিছু নয়।

রুমা সাঙ্গু সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ ছোলজার রহমান ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং শিক্ষক সংকটকে দায়ী করেছেন।

তিনি জানান-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্লাসে অনুপস্থিত থাকার প্রবণতা চরমে পৌঁছেছে। কেউ কেউ টানা ছয় মাস ক্লাসে আসেনি। বারবার সতর্ক করা হলেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, কলেজে ন্যূনতম ১৫-১৬ জন শিক্ষকের প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে কেবল ৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। বিষয়টি একাধিকবার মন্ত্রণালয়ে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি।

"শিক্ষকের অভাবই আমাদের পতনের মূল কারণ" — শিক্ষার্থীর করুণ স্বীকারোক্তি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান,দক্ষ শিক্ষকের অভাব আমাদের এই দুঃসহ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকলে এমন ফল হতো না।”

কীভাবে থামবে এই ধ্বংসযাত্রা? শিক্ষকরা মনে করছেন,শুধুমাত্র শিক্ষক নিয়োগই নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো—পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ,নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম,
শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি,আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানের ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন,স্থানীয় প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। 

রুমা সাঙ্গু সরকারি কলেজের এই শিক্ষাবিপর্যয় শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়, এটি সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবহেলিত শিক্ষাব্যবস্থার নগ্ন বাস্তবতা। এখনই যদি সুদূরপ্রসারী ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষাঙ্গনে নেমে আসবে স্থায়ী অন্ধকার।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status