|
রোগ নেই তবু ক্লান্তি, জানুন ‘ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম’ সম্পর্কে
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() রোগ নেই তবু ক্লান্তি, জানুন ‘ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম’ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় ধরে চরম ক্লান্তিতে ভোগেন, যা কোনো বিশ্রামে কমে না। সাধারণত ৬ মাস বা তার বেশি সময় ধরে ক্লান্তি থাকলে এবং শারীরিক বা মানসিক কাজের পর উপসর্গ আরও তীব্র হলে, তা ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোমের লক্ষণ হতে পারে। এই রোগের প্রধান উপসর্গ হচ্ছে অতিরিক্ত ক্লান্তি। এর পাশাপাশি দেখা দিতে পারে— ১। পেশি ও গাঁটে ব্যথা ২। শারীরিক ব্যায়ামের পর শারীরিক বিপর্যয় ৩। ঘুমের পরও সতেজ অনুভব না হওয়া ৪। স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের সমস্যা ৫। আলো, শব্দ, গন্ধ বা কিছু খাবারে অতিসংবেদনশীলতা ৬। গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, এমনকি ফুলে থাকা লিম্ফ নোড অনেক সময় এই উপসর্গগুলোর কারণে রোগীরা মানসিক অবসাদে ডুবে যান এবং নিজের অক্ষমতা নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগেন। কাজ করতে না পারার কারণে কর্মক্ষমতা কমে যায়, অনেকেই নির্ভরশীল হয়ে পড়েন পরিবারের ওপর। কারণ ও ঝুঁকি এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে গবেষকরা বলছেন, এটি একাধিক বিষয়ের সম্মিলিত প্রভাবে হতে পারে। যেমন— ১। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের পর ২। শারীরিক বা মানসিক আঘাতের কারণে ৩। জেনেটিক পূর্বাভাস ৪। শরীরের শক্তি উৎপাদন ও রূপান্তর প্রক্রিয়ার গণ্ডগোল এ ছাড়া তরুণ থেকে মধ্যবয়সী নারীদের মধ্যে এই রোগের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। যাঁদের ইতিমধ্যে ফাইব্রোমায়ালজিয়া, থাইরয়েড সমস্যা বা অন্যান্য জটিল রোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম হওয়ার ঝুঁকি বেশি বলে ধারণা করা হয়। জটিলতা ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম দীর্ঘস্থায়ী হলে জীবনযাত্রার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। কেউ কেউ এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েন যে, স্বাভাবিক কাজ তো দূরের কথা, বিছানা ছেড়ে উঠতেও কষ্ট হয়। কারো কারো ক্ষেত্রে হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভর করতে হয়। মানসিকভাবে এটি রোগীদের চরম হতাশায় ঠেলে দেয়। অনেক সময় এর উপসর্গ বাত বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো অসুখের সঙ্গে মিলে যায়। কিন্তু পরীক্ষায় সেসব রোগ ধরা পড়ে না, ফলে রোগ নির্ণয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। নতুন সম্ভাবনা : রক্ত পরীক্ষায় শনাক্তকরণ এই রোগ শনাক্ত করতে এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো নির্দিষ্ট টেস্ট নেই। তবে ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়া এবং অক্সফোর্ড বায়োডায়নামিক্সের গবেষকরা একটি সম্ভাবনাময় রক্ত পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন। পরীক্ষাটির নাম ‘এপিসুইচ ৩ডি জিনোমিক রেগুলেটরি ইমিউনো-জেনেটিক প্রোফাইলিং’। গবেষকদের দাবি, এই টেস্টের মাধ্যমে শরীরের জিনগত বিন্যাস বিশ্লেষণ করে ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে রোগীর দেহে বিরাজমান অন্যান্য গোপন রোগ বা জিনঘটিত সমস্যাও শনাক্ত করা যাবে। যদিও এখনো এটি গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে এবং গণহারে প্রয়োগের আগে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। চলমান বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং কাজের ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ অনেক সময় ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোমের মতো রোগ আমাদের অজান্তেই জীবনের ছন্দ ভেঙে দিতে পারে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
