|
তাড়াশে অতিথি পাখির অভয়ারণ্য উলিপুরের দিঘী!
সাব্বির মির্জা, তাড়াশ
|
![]() তাড়াশে অতিথি পাখির অভয়ারণ্য উলিপুরের দিঘী! জনা যায়, তাড়াশ পৌর শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে উলিপুর এলাকায় অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী উলিপুর দিঘী। হিন্দু ব্যক্তির নামে নামকরণ করা হয় এ দিঘীর। ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় দুই একরের (এক একর ৯৬ শতক) দিঘীতে এখন অতিথি পাখির অভয়ারণ্য। চারপাশে গাছ ঘেরাদিঘীর জলে অতিথি পাখির (শামুক-কল) আগমনে দিঘীর সৌন্দর্য আরও ফুটে উঠেছে। দিঘীজুড়ে হাজার হাজার পাখির এ যেন এক মিলন মেলা। প্রতিবছরের মতো এবারো এ দিঘীতে আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। প্রতিদিন ভোর রাতে ঝাঁক বেঁধে দিঘীতে নামে এসব পাখিরা। আর সন্ধ্যা নামলে নান্দনিক কসরতে ডানা মেলে আকাশে ওড়াউড়ি করছে তারা। পাখির কিচিরমিচির শব্দে ও জলকেলিতে পুরো এলাকা এখন মুখর হয়ে উঠেছে। ![]() তাড়াশে অতিথি পাখির অভয়ারণ্য উলিপুরের দিঘী! কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙে দিঘী পাড়ের বাসিন্দাদের। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগেই সবাই মিলে এসব পাখিদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন। পাখির বিশ্রামে বাঁশ ও কঞ্চি দিয়ে গড়ে তুলেছেন অভয়াশ্রম। মাঝে মাঝে দেওয়া হচ্ছে খাবারও। প্রায় এক যুগ ধরে পাখির আনাগোনা এখানে। তবে এবারই পাখির সংখ্যা অনেক বেশি বলে জানান স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর অতিথি পাখি দলবেঁধে দিঘীতে চলে আসে। পাখিগুলো সারাদিন মাঠের মধ্যে থাকে। মাঝে মধ্যে পাখিদের জন্য সাধ্য অনুযায়ী কিছু খাবার (ভূষি) ছিটিয়ে দেওয়া হয়। তাদের বসার জন্য (বিশ্রামের) শতাধিক বাঁশ কেটে দেওয়া হয়েছে। গ্রামের সবাই নিজেদের মতো করে পাখিগুলো লালন করছেন বলে জানান তিনি। এদিকে পাখিদের জলকেলি, খুনসুটি আর কিচিরমিচির শব্দ উপভোগ করতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিঘীর পাড়ে ছুটে আসছেন পাখিপ্রেমীরা। এমন কয়েকজনের দেখা মেলে দিঘীর পাড়ে তারা বলছেন, এমন অসংখ্য পাখি একসঙ্গে আর দেখা হয়নি কখনো। মন খারাপ হলেই দিঘীর পাড়ে ছুটে আসেন তাদের মতো অনেকে। একটু বসে পাখি দেখে মনে শান্তি নিয়ে ফিরেন তারা। দিঘীটির পাশে তেমন বসার স্থান না থাকায় অনেকে দাঁড়িয়ে নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করেন বলে জানান। স্থানীয়রা বলছেন, পাখি ও ভ্রমণ পিপাসুদের নিরাপত্তায় এবং পর্যটনশিল্প বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে দিঘীটি। জানতে চাইালে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, উলিপুর দিঘীসহ একাধিক স্থানে অতিথি পাখির অভয়াশ্রমের খবর শুনেছেন তিনি। তবে এসব স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় পর্যটন স্পট করতে কিছুটা বাধা হলেও পাখিদের নিরাপত্তাসহ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
