|
কিস্তির টাকা শোধ করতে না পারায় দোকানির জমি লিখে নিলেন শিক্ষক!
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() কিস্তির টাকা শোধ করতে না পারায় দোকানির জমি লিখে নিলেন শিক্ষক! অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষক মিজানুর রহমান সরকারি চাকরির আড়ালে সমবায় সমিতির নাম ব্যবহার করে চড়া সুদে ব্যবসা চালাচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষকে এভাবে সর্বস্বান্ত করছেন। অভিযুক্ত মিজানুর রহমান ৭০ নম্বর পাটিকেল বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত। তবে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আলকিরহাট গ্রামের চায়ের দোকানি মো. চান মিয়া অভিযোগ করেন, তিনি প্রথমে সমিতি থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করা সত্ত্বেও চড়া সুদের কারণে তাঁর দেনার বোঝা ক্রমশ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তাঁর ঋণ নবায়ন হয়ে দাঁড়ায় ১০ লাখ টাকা। সুদে-আসলে সেই দেনা শেষ পর্যন্ত ২০ লাখ টাকায় পৌঁছায়। ঋণ শোধ করতে না পারায় একরকম চাপের মুখে তিনি তাঁর বসতবাড়ির সাত শতক জমি ও দোকান মিজানের নামে লিখে দিতে বাধ্য হন। চান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘১০ লাখ টাকার বিপরীতে আমার দোকানসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার সম্পত্তি লিখে নিয়েছে মিজান স্যার। এখন আমি পথে পথে ঘুরি।’ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক মিজান পাঁচ বছর ধরে এই সমবায় সমিতি চালাচ্ছেন। তিনি প্রতিদিন, সাপ্তাহিক, মাসিক এমনকি এককালীন আমানতও গ্রহণ করেন। দিনমজুর থেকে শুরু করে অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীরাও দ্বিগুণ মুনাফার আশায় এই সমিতিতে টাকা রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক মিজানুর রহমান এই সমিতির টাকায় ব্যক্তিগতভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ছেন, আর সাধারণ মানুষ পড়ছেন নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘চান মিয়া আমার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকার ঋণ নিয়েছিল। টাকা শোধ করতে না পারায় সে নিজেই আমি, আমার স্ত্রী ও ভাইয়ের নামে জমি লিখে দিয়েছে।’ এদিকে, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. হাসান রকি জানান, যারা সমবায় সমিতির আইন লঙ্ঘন করে ব্যবসা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক সমবায়ের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। এই অভিযোগের সত্যতা পেলে শিক্ষক মিজানের সমিতির বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
