ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল ২০২৬ ৮ বৈশাখ ১৪৩৩
তিন সদস্যে সাড়ে ৮ বছর পার
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Saturday, 9 February, 2019, 11:12 AM

তিন সদস্যে সাড়ে ৮ বছর পার

তিন সদস্যে সাড়ে ৮ বছর পার

অঞ্চলভিত্তিক নেতৃত্বে ‘জিম্মি’ হয়ে পড়েছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন ‘জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম’। সাড়ে ৮ বছর আগে সংগঠনটির তিন সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি করা হয়। কিন্তু সেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি। বরং তিনজনের মধ্যে দু’জন নানা কারণে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। ফলে এ সংগঠনটি এখন এক ব্যক্তির সংগঠনে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, বিএনপি হাইকমান্ড একাধিকবার এ সংগঠনটির নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ‘অজ্ঞাত’ কারণে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। ফলে এ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কার্যক্রম এখন আছে কাগজে-কলমে। এসব নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি এখন চরমে। যার বহিঃপ্রকাশ ইতিমধ্যে ঘটতে শুরু করেছে। দলের সিনিয়র নেতাদের কাছে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী মার্চে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্যানেলের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন খোদ নীতিনির্ধারকরা। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেছেন, জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই আইনজীবী ফ্রন্ট। তাই এই সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও কার্যক্রম থাকা দরকার। এ ব্যাপারে স্থায়ী কমিটির একজন সিনিয়র সদস্যকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে সভাপতি, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে সাধারণ সম্পাদক এবং অ্যাডভোকেট সানাহউল্লাহ মিয়াকে সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক করে তিন সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেন। দীর্ঘ সাড়ে ৮ বছরেও কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি। এর মধ্যে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। কয়েক মাস ধরে গুরুতর অসুস্থ সানাহউল্লাহ মিয়া। এখন এক সদস্যের কমিটি দিয়ে এই ফোরামের কার্যক্রম চলছে।

বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বলছেন, মুষ্টিমেয় কয়েকজন নেতা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর ফোরামের সঙ্গে সম্পৃক্ত আইনজীবীরা কার্যত কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। এমনকি সারা দেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার গায়েবি মামলায় প্রতিবাদ ও আইনি সহায়তা নিয়েও দাঁড়াতে দেখা যায়নি। সিনিয়র আইনজীবী ও বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান আক্ষেপ করে যুগান্তরকে বলেন, ফোরাম নিয়ে আমরাও ক্ষুব্ধ। দলের দিকে না তাকিয়ে দু-একজন নেতা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য এ ফোরামকে নিজের মতো করে চাচ্ছেন।

প্রতি বছর সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের আগে আমাদের জানানো হয়, নির্বাচনের পরেই নতুন কমিটি দেয়া হবে। কিন্তু সেই কমিটি আর আলোর মুখ দেখে না। মূলত, এটি একটি কৌশল- যা অনেক বছর ধরেই দেখে আসছি। তিনি বলেন, এবারও একই কায়দায় মার্চে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের আগে সম্প্রতি গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারকে সমন্বয়ক করে ফোরামের নতুন কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার যুগান্তরকে বলেন, আমার জানা মতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামে কোনো বিভক্তি নেই। ফোরামের নতুন কমিটি করা হবে ঢাকা বার ও সুপ্রিমকোর্ট বারের নির্বাচনের পর। সারা দেশের আইনজীবীদের নিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোটের মাধ্যেমেই কমিটি হবে।

আইজীবীদের অনেকে অভিযোগ করেছেন, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবীদের নোয়াখালী ও বরিশাল ইজমে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। অনেকে এটাকে ‘নোয়াখালী সমিতি’ বলেও ডাকেন। ফোরামকে রক্ষা করার জন্য এসব ইজমের ‘সিন্ডিকেট’ ভাংতে হবে। আতাউর রহমান নামের একজন আইনজীবী যুগান্তরকে বলেন, অনেক ইস্যু ছিল যা নিয়ে আইনজীবী ফোরাম আন্দোলন তো করতেই পারেনি, বরং এড়িয়ে গেছেন। আবার কর্মসূচি দিলেও সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ জন আইনজীবী অংশ নিতেন। কারণ কারও যদি পদ পদবি না থাকে তাহলে কেউ দায়-দায়িত্ব নেন না।

সূত্র জানায়, ফোরামের এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ‘গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলন’ নামের বিকল্প একটি সংগঠনও তৈরি হয়েছে। সংগঠনের চেয়ারম্যান সিনিয়র আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার, কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা ও মহাসচিব এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা। তৈমুর আলম খন্দকার যুগান্তরকে বলেন, ম্যাডামের মুক্তির জন্য ফোরামে থাকা কাউকে রাজপথে না পেয়ে আমরা এই সংগঠন তৈরি করেছি। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। প্রধান বিচরিপতিকে স্মারকলিপি দিয়েছি। এখনও রাজপথে আছি আমরা।
তিনি বলেন, আমি মনে করি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কমিটি হওয়া দরকার আন্দোলনমুখী। ম্যাডাম জেলে যাওয়ার পরও কোনো আন্দোলন হয়নি সুপ্রিমকোর্টে। এক লোককে বারবার কমিটির নেতৃত্বে রাখা উচিত না। আন্দোলন করতে পারে এমন নেতাদের নেতৃত্বে আনা উচিত। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল বলেন, বর্তমানে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম লাইফ সাপোর্টে আছে। এ থেকে উদ্ধার করতে হলে দ্রুত কমিটি দিতে হবে। যাদের ওপর সাধারণ আইনজীবীদের আস্থা ও বিশ্বাস আছে তাদের দিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে।

জানা গেছে, সাড়ে ৮ বছরে অধিকাংশ ইউনিটের কমিটিও গঠন করতে পারেনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফেরামের কেন্দ্রীয় কমিটি। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে সুপ্রিমকোর্ট ইউনিটের কমিটিও দেয়া হয়। জয়নুল আবেদীনকে সভাপতি এবং ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। সুপ্রিমকোর্টের একজন আইনজীবী বলেন, এ ইউনিটের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে আটশ’বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এই কমিটিতে কার কোন পদ তা কেউ জানেন না। অন্তত ২শ’জনকে যুগ্ম-সম্পাদক হিসেবে রাখা হয়েছে। কমিটির এই হযবরল অবস্থার কারণে কোনো কর্মসূচিতেই আইনজীবীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। এমনকি গত বছরের ৩১ অক্টোবর ফোরামের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতে যান কেন্দ্রীয় কমিটি। যেখানে মাত্র ১৭ জন আইনজীবী উপস্থিত ছিল- যা নিয়ে পরবর্তীতে বিএনপির মধ্যেই তীব্র সমালোচনা হয়।

তবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সারা দেশে ফোরামের ৬৬টি ইউনিট রয়েছে। প্রায় সবকটিরই কমিটি করা হয়েছে। ফোরামে থাকা আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধ আছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনেও আমরা সোচ্চার রয়েছি।

নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সারা দেশের সমস্ত জাতীয়তাবাদী আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধ। কমিটি গঠন হচ্ছে একটি চলমান প্রক্রিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাদের সিনিয়র আইনজীবীদের দায়িত্ব দিয়েছেন কমিটির গঠনসংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করা জন্য। দায়িত্বপ্রাপ্তরা কাজ করছেন। আশা করছি অতি দ্রুত কমিটি গঠন করা হবে।

আইনজীবী ফোরাম গঠনের বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবীরা জানান, আশির দশকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য অ্যাডভোকেট শামসুল হক চৌধুরীকে সামনে রেখে মাত্র ১৫ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ গঠন করা হয়। এটা কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শে পরিচালিত না হলেও দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সব থেকে বেশি ভূমিকা পালন করে। এই পরিষদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মতাদর্শের আইনজীবীরা একসঙ্গে ছিলেন।
তৎকালীন সরকারের পতনের পর এই সংগঠন বিভক্ত হয়ে যায়। ১৯৯১ সালে সাবেক বিচারপতি টিএইচ খানকে আহ্বায়ক এবং অ্যাডভোকেট ওয়াদুদ ভূইয়াকে সদস্য সচিব করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম (বিএনপিপন্থী) গঠন করা হয়। পরে টিএইচ খানকে সভাপতি করে এবং ব্যারিস্টার আমিনুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়। সে সময় থেকেই এই ফোরামের কার্যক্রম শুরু হয়।

অঞ্চলভিত্তিক নেতৃত্বে ‘জিম্মি’ সংগঠন, দ্বিধাবিভক্তি চরমে * নতুন কমিটি চায় ফোরাম

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status