ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ১৯ মে ২০২৬ ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শিক্ষকের বাড়ি নয় যেন পাখ-পাখরি মেলা
মো.ইমরান কলাপাড়া, পটুয়াখালী
প্রকাশ: Tuesday, 16 September, 2025, 7:04 PM

শিক্ষকের বাড়ি নয় যেন পাখ-পাখরি মেলা

শিক্ষকের বাড়ি নয় যেন পাখ-পাখরি মেলা

যেখানে থাকে নিরাপদ আশ্রয়, মায়া মমতা ও ভালোবাসা। সেখানেই ঘর বানায় পাখিরা। ঠিক সেরকমেরই মায়া মমতায় ভরা এক শিক্ষকের বাড়িতে বাসা বানিয়েছে হাজারো পাখ-পাখালি। দিনভর পাখিদের কলাকাকুলিতে মুখরিত থাকায় এলাকাবাসীর কাছে এ বাড়িটি এখন পরিচিতি পেয়েছে পাখির বাড়ি হিসেবে। বলছি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের মুসুলিয়াবাদ গ্রামের পূর্ব মধুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী প্রধান শিক্ষক আখতার হোসেনের বাড়ির কথা। 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাড়ির চারপাশ গাছ-গাছালিতে ভরা। নেই কোন যান্ত্রিক দূষণ। তাই হাজারো সাদা বক, পানকৌড়ি আর বাদুরেরা বেছে নিয়েছে এ বাড়িটিকে। বাসা তৈরি করে থাকছে বছরের পর বছর। আকাশ থেকে দেখলে মনে হয় এ যেন পাখির মেলা। বাড়িটিতে প্রবেশ করলে পাখিদের খুনসুটি আর কলতানে প্রান জুড়িয়ে যাবে যে কারো। অসংখ্য পাখির মলত্যাগের কারনে আক্তার হোসেনের পরিবারের সকল সদস্যরা কিছুটা বিরক্ত হলেও পাখিদের সঙ্গে তাদের তৈরী হয়েছে সখ্যতা। অধিকাংশ সময় ডাক দিলেই পাখিরা গাছ থেকে চলে আসে তাদের হাতের নাগালে।

শিক্ষকের বাড়ি নয় যেন পাখ-পাখরি মেলা

শিক্ষকের বাড়ি নয় যেন পাখ-পাখরি মেলা

পাখিদের বিরক্ত তো দূরের কথা পাখির নিরাপত্তার জন্য পরিবারের সব সদস্য রাখেন আলাদা নজর। শুধু পরিবারের সদস্যরাই নয় পাখিরদের নিরাপদ চলাফেরার জন্য এলাকাবাসীও রয়েছে যথেষ্ট সচেতন। তাই দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে পাখিরা বসবাস করায় বাড়িটি এখন স্থানীয়দের কাছে পরিচিতি পেয়েছে পাখরি বাড়ি নামে। মুসুল্লীয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা সায়েম (২৩) হোসেন বলেন, ছোট থেকেই দেখে এসেছি আক্তার স্যারের বাড়িতে প্রচুর পাখি বসবাস করে। বাডিতে প্রবেশ আসলেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। আমরা সব সময় নজরদারি রাখি যাতে পাখিদের কেউ সমস্যা করতে না পারে। একই এলাকার ওপর বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব ইকরামুল হোসেন বলেন, পাখিরা আসলে সব বাড়িতে থাকে না। শিক্ষক আকতার হোসেনের বাড়িতে প্রায় ৪০ বছর ধরে এসব পাখিগুলো থাকছে। তারা পরিবারের সবাই পাখিগুলোকে বেশ যত্ন করে।  

শিক্ষকের বাড়ি নয় যেন পাখ-পাখরি মেলা

শিক্ষকের বাড়ি নয় যেন পাখ-পাখরি মেলা

পূর্বমধুখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক আকতার হোসেন বলেন, অনেক সময় অনেক আহত পাখি আমাদের বাড়িতে আসে। তাদের চিকিৎসা দেই। আবার অনেক ছোট পাখির বাচ্চা খাবার খেতে পারেনা। গাছ থেকে নামিয়ে সেগুলোকে নিয়মিত খাবার খাইয়ে দেয়। এছাড়া আমার পরিবারের সবাই পাখিগুলোর নিরাপত্তার জন্য সব সময় আলাদা নজর রাখি। তাই শুধু আমি নয় আমার পরিবারের সবার সঙ্গেই পাখিদের একটা মেলবন্ধন তৈরী হয়েছে।

তবে অসংখ্য পাখির মলত্যাগের কারণে বাড়িতে কিছুটা দুর্গন্ধ আসলেও আমরা সবসময় দুর্গন্ধ নাশক সিটিয়ে বাড়িতে থাকি। আশি আশা করছি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাকারী পাখি সুরক্ষায় সমাজের সবাই এগিয়ে আসবে। মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কেএম মনিরুজ্জামান বলেন, পাখির আবাসস্থল হিসেবে পরিচিতি পাওয়া শিক্ষক আক্তাদের বাড়ি পরিদর্শন করে বেশ ভালো লেগেছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে পাখিদের জন্য তাকে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে। 


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status