ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১৫ মে ২০২৬ ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শিক্ষা প্রশাসনে দুর্নীতির অভিযোগে অধ্যাপক আবু কাইয়ুম শিশিরকে অপসারণের দাবি
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 15 September, 2025, 3:53 PM

শিক্ষা প্রশাসনে দুর্নীতির অভিযোগে অধ্যাপক আবু কাইয়ুম শিশিরকে অপসারণের দাবি

শিক্ষা প্রশাসনে দুর্নীতির অভিযোগে অধ্যাপক আবু কাইয়ুম শিশিরকে অপসারণের দাবি

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইং) কাজী আবু কাইয়ুম শিশিরের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেছে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষক-কর্মচারী প্লাটফর্ম। সোমবার ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এবং বিভিন্ন প্রমাণসহ অভিযোগ উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আমরা ভেবেছিলাম শিক্ষা প্রশাসন থেকে দুর্নীতি ও অনিয়মের অবসান ঘটবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আজও শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্য বহাল রয়েছে। বিশেষ করে মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক আবু কাইয়ুম শিশিরের বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।

অধ্যাপক শিশির বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ১৪তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা হলেও বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর একাধিক অভিযোগে জর্জরিত। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে ‘মিনিস্ট্রি অডিট’-এর নামে কোটি কোটি টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পরিণতিতে তাকে বদলি করা হলেও তিনি উচ্চ আদালতে মামলা করে সেই বদলি ঠেকানোর চেষ্টা করেন এবং সরকারি অফিসে গুন্ডা ভাড়া করে ফিরে আসেন—যা প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।

তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও শাস্তিমূলক সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও তাকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি চাকরি বিধির পরিপন্থী। বিভিন্ন গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশ হলে তিনি ১০০ কোটি টাকার বানোয়াট মানহানির মামলা করেন—যা তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়। এনসিটিবি চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য ঘুষ প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া সরকারি চাকরির নিয়ম লঙ্ঘন করে তিনি নিজের নামে একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন এবং অবৈধভাবে সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা স্টেট কলেজে কর্মরত তাঁর স্ত্রী লন্ডনে অবস্থান করলেও দেশে বেতন উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে এনবিআর ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ নিষ্পত্তির নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এতসব অনিয়মের পরও তিনি এখন মাউশির মহাপরিচালক হওয়ার জন্য জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন, যা শিক্ষা প্রশাসনের জন্য উদ্বেগজনক।

দাবি:
অধ্যাপক আবু কাইয়ুম শিশিরকে অবিলম্বে মাউশির পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। তার বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গৃহীত শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রশাসনে এমন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেজন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status