ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২২ জুন ২০২৬ ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
কুড়িগ্রাম সাধারণ পাঠাগারের দখলদারিত্ব বন্ধে জেলা প্রশাসককে ১৬ সংগঠনের স্মারকলিপি প্রদান
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: Thursday, 4 September, 2025, 6:20 PM

কুড়িগ্রাম সাধারণ পাঠাগারের দখলদারিত্ব বন্ধে জেলা প্রশাসককে ১৬ সংগঠনের স্মারকলিপি প্রদান

কুড়িগ্রাম সাধারণ পাঠাগারের দখলদারিত্ব বন্ধে জেলা প্রশাসককে ১৬ সংগঠনের স্মারকলিপি প্রদান

অর্ধশত বছরের ঐতিহ্যবাহী কুড়িগ্রাম সাধারণ পাঠাগারের দখলদারিত্ব, অনিয়ম ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে কুড়িগ্রামের ১৬টি সাংস্কৃতিক, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও নাগরিক সংগঠন।

আজ ৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের হাতে সংগঠন সমূহের নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপি প্রদান করে।

 স্মারকলিপিতে সংগঠনসমূহ অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ পাঠাগার আজ আর পাঠাগার নেই—এটি রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিস্বার্থে ব্যক্তিগত রিডিং রুম ও কোচিং সেন্টারে পরিণত হয়েছে। ফলে জেলার সাধারণ পাঠক ও হাজারো শিক্ষার্থী এ পাঠাগারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ এও উল্লেখ  করে জানায়, ২০১৬ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক নুরুল আমিনের উদ্যোগে পাঠাগারের ভেতরে চাকরির কোচিং কার্যক্রম শুরু হয়। ধীরে ধীরে পুরো পাঠাগার কোচিং সেন্টারের দখলে চলে যায় এবং বর্তমানে সপ্তাহের সাত দিনই কোচিং চলে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে পাঠাগারের দোতলার একটি পরিত্যক্তরুমে পাঠচক্র, শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজন শুরু হয়, যার নাম দেওয়া হয় “কুড়িগ্রাম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র”। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জেলা প্রশাসকের লিখিত অনুমতিতেই এ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। গত ১ সেপ্টেম্বর/২০২৫ সোমবার রাতে স্বঘোষিত এনসিপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক রাজের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা তালা ভেঙে  সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি দখল করে নেয়।

সংগঠনগুলোর দাবি, বর্তমানে পাঠাগারে নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত বই ও চাকরির গাইড স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। টেবিল-চেয়ার ভাগ করে ব্যক্তিগত নামে দখল তৈরি করা হয়েছে। পাঠাগারের ভেতরে ব্যক্তিগত টেবিল পর্যন্ত আনা হয়েছে। অজস্র প্রাচীন ও অমূল্য বই অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, বুকশেলফ ধুলো ও মাকড়সার জালে ঢেকে আছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো সাধারণ পাঠক ও শিক্ষার্থীদের প্রবেশ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থে পরিচালিত এ পাঠাগারকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের সম্পত্তি মনে করে ব্যবহার করছে, যা সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগতভাবে জেলার জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পাঠাগারের পদাধিকার সভাপতি বরাবর দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়—পাঠাগারের অবৈধ দখল অবিলম্বে উচ্ছেদ করতে হবে। কোচিং কার্যক্রম ও ব্যক্তিগত রিডিং রুম বন্ধ করতে হবে। অমূল্য বই সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। পাঠাগারকে সাধারণ জনগণ, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি দোতলার কক্ষ পুনরায় “কুড়িগ্রাম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র”-এর কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। স্মারকলিপিতে জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ্য করে বলা হয়—তিনি পদাধিকার বলে পাঠাগারের সভাপতি। সুতরাং অনিয়ম ও দখলদারিত্ব বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া তাঁর দায়িত্ব। অন্যথায় সচেতন নাগরিক সমাজ নীরব থাকবে না বলে সংগঠন গুলোর পক্ষে বলা হয়।

হিজিবিজি, কুড়িগ্রাম সাহিত্যসভা, অনুশীলন, কুড়িগ্রাম বিজ্ঞান ক্লাব, ডিবেট কুড়িগ্রাম, পরিবেশ বীক্ষণ, সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন, প্রীতিলতা ব্রিগেড, পদ্মকলি খেলাঘর আসর, এনসিটিএফ, ওয়াইসিএস, প্রথম আলো বন্ধুসভা, সারথী, জুভেন্স রাইট নেট, চর মিউজিয়াম ও জেএফসিএলআর—এই ১৬টি সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। 

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, “কুড়িগ্রাম সাধারণ পাঠাগারকে বাঁচানো মানে কুড়িগ্রামের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎকে বাঁচানো। আমরা অবিলম্বে দখলদারিত্বের অবসান ও পাঠাগারের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার চাই।”

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status