|
কানাডার পণ্যে আরো ৩৫% শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() কানাডার পণ্যে আরো ৩৫% শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদার বেশিরভাগ দেশের ওপরই ১৫ থেকে ২০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপরও নতুন করে শুল্ক বসাবেন তিনি, শিগগিরই সেই ঘোষণা আসবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনিকে লেখা একটি চিঠি বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন ট্রাম্প, সেখানেই তার নতুন শুল্কের ঘোষণা আসে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সব কানাডীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ি শিল্প খাতে আরোপিত শুল্কের প্রভাব কানাডাও টের পাচ্ছে। কেবল উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এনএএফটিএ) আওতায় কিছু কানাডীয় পণ্য আপাতত ছাড়ের আওতায় রয়েছে। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষিত শুল্ক কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো চুক্তির (সিইউএসএমএ) আওতাভুক্ত পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। গত এক সপ্তাহে ২১টি দেশের পণ্যে এভাবে শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প; জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, এমনকি বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাও রয়েছে ওই তালিকায়। বাড়তি ওই শুল্ক ১ আগস্ট থেকেই কার্যকর হবে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ৫০ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি নয় এমন সব ধরনের গাড়ি ও ট্রাকের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি তামা আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছেন, যা আগামী মাসে কার্যকর হওয়ার কথা। বিবিসি লিখেছে, কানাডার রপ্তানি পণ্যের প্রায় তিন-চতুর্থাংশের ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে কানাডার গাড়ি ও ধাতব শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। চিঠিতে ট্রাম্প বলেছেন, এই ৩৫ শতাংশ শুল্ক আগের খাতভিত্তিক শুল্কের অতিরিক্ত হিসেবে কার্যকর হবে। তিনি লিখেছেন, “আপনি জানেন, যদি কানাডা কিংবা আপনার দেশের কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে কোনো শুল্ক আরোপ হবে না।” এই শুল্ককে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল মাদকের প্রবেশ বন্ধে কানাডার ‘ব্যর্থতা’, যুক্তরাষ্ট্রের দুগ্ধ খাত নিয়ে কানাডার শুল্কনীতি এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, “যদি কানাডা ফেন্টানিল প্রবাহ থামাতে আমার সঙ্গে কাজ করে, তাহলে হয়ত আমরা এই চিঠির বিষয়বস্তু পুনর্বিবেচনা করব। এই শুল্ক কমতেও পারে, বাড়তেও পারে, সেটা নির্ভর করবে আপনার দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ওপর।” ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, কানাডা ও মেক্সিকো—উভয় দেশ থেকেই ‘বিপুলসংখ্যক মানুষ এবং ফেন্টানিল’ যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকছে। তবে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন দপ্তরের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় যত ফেন্টানিনের চালান ধরা পড়ে, তার মাত্র ০.২ শতাংশ হয় কানাডা সীমান্তে, বাকি প্রায় সবই ধরা পড়ে মেক্সিকো সীমান্তে। ট্রাম্পের এই অভিযোগের জবাবে কানাডা এ বছরের শুরুতে সীমান্ত নিরাপত্তায় অতিরিক্ত বাজেট ঘোষণা করেছে এবং একজন 'ফেন্টানিল বিষয়ক সমন্বয়ক' নিয়োগ দিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য ও নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে অটোয়া। গত জুনে জি-৭ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী কারনি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, ৩০ দিনের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান তারা; সে অনুযায়ী ২১ জুলাইকে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। চিঠিতে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কানাডা পাল্টা শুল্ক আরোপ করলে শাস্তি হিসেবে আরো শুল্ক চাপাবে যুক্তরাষ্ট্র। কানাডা ইতোমধ্যে কিছু মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক বসিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, ২১ জুলাইয়ের সময়সীমার মধ্যে সমঝোতা না হলে তারা আরও পদক্ষেপ নেবে। যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর কানাডার আরোপ করা শুল্ককে ‘স্পষ্ট শত্রুতা’ আখ্যা দিয়ে বাণিজ্য আলোচনা বাতিলের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এরপর জুন মাসের শেষ দিকে ওই শুল্ক তুলে নেন প্রধানমন্ত্রী কারনি। সে সময় তিনি বলেছিলেন, শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অংশ হিসেবে। তবে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নিয়ে এখানো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
