|
হঠাৎ অমিত শাহ’র কণ্ঠে অবসর!
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() হঠাৎ অমিত শাহ’র কণ্ঠে অবসর! বলা নেই-কওয়া নেই, হুট করেই কেন এই ভারত-বিস্ময় মন্তব্য! নিছক মুখ ফসকে নাকি মনের ভুলে? নাকি সরল ছলে পরিকল্পিত প্রকাশ? রীতিমতো ধোঁয়াশা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ভারতে। বিজেপিতে তো বটেই! গত বছরই ৬০-এ পা দিয়েছেন। খাতা-কলমে তিনি এখন প্রবীণ নাগরিক। রাজনীতি থেকে ঠিক কবে অবসর নেবেন-তা এখনো স্পষ্ট করেননি তিনি। কিন্তু অবসরের পর তার কী পরিকল্পনা? তা নিয়ে এই প্রথম মুখ খুললেন অমিত। স্বরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারতের সমবায় মন্ত্রণালয়ও চালান বিজেপির দৌর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতা অমিত শাহ। বুধবার গুজরাট, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের সমবায় আন্দোলনে যুক্ত নারীদের এক অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। গুজরাটের আহমেদাবাদের ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি ঠিক করেছি অবসর নেওয়ার পর বাকি জীবনটা পড়াশোনা করে কাটাব। বেদ, উপনিষদসহ হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলো পাঠ করে আরও জ্ঞান অর্জন করব। এর পাশাপাশি আমি প্রাকৃতিক চাষের দিকে মনোনিবেশ করব। তা নিয়ে পড়াশোনা করব।’ প্রাকৃতিক চাষের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক চাষ বা জৈব চাষ একটি বিজ্ঞানভিত্তিক কৌশল, যার বহু সুবিধা রয়েছে। রাসায়নিক সারের মাধ্যমে যে গম উৎপাদিত হয়, তা থেকে শরীরে একাধিক অসুখ বাসা বাঁধে। যার মধ্যে উল্লখযোগ্য হলো, উচ্চ রক্তচাপ, মধুমেহ, থাইরয়েড ইত্যাদি। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন এই ধরনের শস্য ভক্ষণ করলে ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।’ তার এই পরিকল্পনা থেকে দেশটির রাজনৈতিক মহলের আন্দাজ, রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে অবসর নেওয়ার পথেই হাঁটছেন অমিত শাহ। তবে কি দলেও নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে? নাকি চাষবাস ও ধর্মচর্চার আড়ালে তিনি আসলে ভবিষ্যতের কৌশল তৈরি করছেন? অবসরের পর কী করবেন, সেই রূপরেখা দিলেও, ‘কবে অবসর নেবেন’ সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেননি শাহ। তাতে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। তিনি কি ২০২৯-এর লোকসভা ভোটের পর বিদায় নেবেন? নাকি ২০২৬-এর রাজ্যসভা মেয়াদ শেষেই রাজনীতি ছাড়বেন? জবাব মেলেনি। তবে তার এই মন্তব্য থেকেই জল্পনার পারদ চড়ছে-আসলে কি বিজেপির ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারের পথ পরিষ্কার করছেন শাহ? হিন্দুত্ববাদী এই জুটির পরেই যে নামটি বহুল আলোচিত-উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথই তাহলে বিজেপির ভবিষ্যৎ? প্রদীপ নিভে গেলেই শিখা উধাও-চাপা গুঞ্জনে সেই ফিসফাঁসও ভাসছে বিজেপির অন্দরমহলে। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর নরেন্দ্র মোদি নিজেই দলীয় নেতাদের অবসর গ্রহণের সীমা ঠিক করে দিয়েছিলেন। ৭৫ বছর বয়স ছিল সেই সীমা। এই মন্ত্রেই প্রভাবশালী জ্যেষ্ঠদের দলছাড়া করেছিলেন তিনি। সে হিসাবে চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পঁচাত্তরে পদার্পণ করবেন মোদিও। নিজের বেলায় সেই নিয়ম বলবৎ থাকবে কিনা বিজেপির আবহাওয়া দপ্তরে তার কোনো পূর্বাভাস এখনো নেই। অমিত শাহকে ঘিরে বড় প্রশ্নটাও ঠিক এখানেই-‘মোদি লণ্ঠন’ ছাড়া কি একটুও চোখে দেখেন না অমিত? সে কারণেই কি মোদি-আমল শেষের আগেই পাততাড়ি গোটাচ্ছেন তিনি? |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
