ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
রেমিট্যান্সে ট্রাম্পের কর প্রস্তাব, প্রবাসী আয়ে বড় ধাক্কার শঙ্কায় বাংলাদেশ-ভারত
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Saturday, 7 June, 2025, 9:36 PM

রেমিট্যান্সে ট্রাম্পের কর প্রস্তাব, প্রবাসী আয়ে বড় ধাক্কার শঙ্কায় বাংলাদেশ-ভারত

রেমিট্যান্সে ট্রাম্পের কর প্রস্তাব, প্রবাসী আয়ে বড় ধাক্কার শঙ্কায় বাংলাদেশ-ভারত

হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিবাসন নীতি কড়া করার পাশাপাশি শুরু করেছেন বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ— চীন ও কানাডার পর এবার টার্গেটে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন আইন ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’-এ রেমিট্যান্সে কর আরোপের একটি ধারা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে অভিবাসী সমাজে।

প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, প্রবাসীরা নিজ দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ৩.৫ শতাংশ হারে কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার রেমিট্যান্সনির্ভর অর্থনীতিগুলো।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কর আরোপ বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ ও ভারত প্রতিবছর ১২ থেকে ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত হারাতে পারে। এর ফলে শুধু বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ সংকুচিত হবে না, স্থানীয় মুদ্রার মানেও পড়বে চাপে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে ভারতীয় প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ১১৯ বিলিয়ন ডলার, যা ভারতের মোট বাণিজ্য ঘাটতির অর্ধেক পূরণ করেছে। এর উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (RBI) ধারণা করছে, ২০২৯ সালের মধ্যে ভারতের রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের প্রধান রেমিট্যান্স অর্থনীতিবিদ ড. দিলীপ রথা বলেন, ‘‘এই কর আরোপ হলে হুন্ডি, হাওলা, হাতে নগদ বহন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো বিকল্প মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়ে যাবে, যা আর্থিক নিরাপত্তা ও বৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’’

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও চিত্র ভিন্ন নয়। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার, যার একটি বড় অংশ এসেছে মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। অর্থনীতিবিদদের মতে, কর আরোপ কার্যকর হলে বাংলাদেশ ব্যাংককে ঘন ঘন বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ করতে হবে, যা আমদানি ব্যয় ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্টের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত কর কার্যকর হলে মেক্সিকো প্রতিবছর ২.৬ বিলিয়ন ডলার হারাতে পারে। একইভাবে চীন, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন এবং লাতিন আমেরিকার বহু দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, রেমিট্যান্সে কর বাস্তবায়িত হলে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, প্রবাসীদের পরিবারগুলোর ওপর সামাজিক চাপও ভয়াবহ আকারে দেখা দিতে পারে। এ কারণে এখনই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে কর প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status