|
বালুমহাল নিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া-গুলি, ভিডিও ভাইরাল
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() বালুমহাল নিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া-গুলি, ভিডিও ভাইরাল এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় মানুষ জনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ৫ মিনিট ২ সেকেন্ডের ওই ভিডিও দেখা গেছে, গামছা দিয়ে মুখ বাঁধা কয়েক জনকে হাতে বড় বড় অস্ত্র নিয়ে আশপাশে কিছু একটা খোঁজাখুঁজি করতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে কেউ লুঙ্গি, ফুলপ্যান্ট ও হাফপ্যান্ট পরা ছিল। এ ছাড়া স্পিডবোট নিয়ে তাদের অস্ত্র তাক করে আসতে দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীর চরের কথিত ইঞ্জিনিয়ার কাকন বাহিনীর সদস্যরা বৃহস্পতিবার অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দুটি স্পিডবোটে সাঁড়ায় পদ্মা নদীর বালুঘাট দখল নিতে আসে। গামছা দিয়ে মুখঢাকা অস্ত্রধারীরা এ সময় বন্দুক উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি করে ত্রাস সৃষ্টি, ঘাট শ্রমিকদের মারধর, বালুর ঘর ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ও ব্যবসায়ীদের টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এর আগে বুধবার সন্ত্রাসীরা সাঁড়ার ইসলামপুর ঘাট এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া এবং এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। তবে পুনরায় হামলার আশঙ্কায় সাঁড়ায় থমথমে পরিস্থিতি ছিল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও দখল নিয়ে কয়েক দিন ধরে ‘ইঞ্জিনিয়ার কাকন’ গ্রুপের সঙ্গে ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নে বালুঘাটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এরই জেরে বুধবার (৪ জুন) দুপুরে পদ্মায় স্পিডবোটে এসে প্রথম দফায় গুলিবর্ষণ ও অস্ত্রের মহড়া দেয় কাকন বাহিনীর সদস্যরা বালুঘাট দখল নিতে এসে। পরে তারা চলে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার (৫ জুন) বেলা দেড়টা দিকে স্পিডবোটে ১৫-১৬ জন মুখঢাকা যুবক প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে সাঁড়ার ইসলামপাড়া ঘাটে পৌঁছায়। এরপর অস্ত্রধারীর ঘাটে বালুর বিক্রি ঘর ও আশপাশে কিছু একটা খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। কিছু না পেয়ে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা নদীর পাড়ে টিনশেড ঘর, বালুর কাজে ব্যবহৃত একাধিক গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ, মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও একটি বালুর ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বালুশ্রমিকদের মারধর করে। এভাবে ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব চালিয়ে তারা ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পুনরায় স্পিডবোট নিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও নৌকার মাঝিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা, এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। তাঁরা অভিযোগ করে জানান, আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায় পদ্মার চরের কাকন বাহিনীর সদস্যরা সাঁড়ায় বালুর দখলদারি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের সৃষ্টি করেছে। শক্তি প্রদর্শনের জন্য প্রায়ই এলাকা অস্ত্র নিয়ে মহড়া, গুলিবর্ষণ ও সাধারণ মানুষকের মারধর করছে। এতে মানুষের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থা অবিলম্বে অস্ত্রধারী ওই দুর্বৃত্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান স্থানীয়রা। জানতে চাইলে ঈশ্বরদীর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুন নুর বলেন, ‘বালুমহাল নিয়ে দুদিন ধরে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আগের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।’ বৃহস্পতিবারও গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানার পরপরই নদী ও চরাঞ্চলে সেনা, র্যাব, থানা-পুলিশ ও নৌ-পুলিশসহ যৌথবাহিনীর অভিযানে শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
