|
কিশোরগঞ্জের মঙ্গলবাড়িয়ায় রোমান্টিক সুপার ফুড ফল লিচুর কাব্য কথা
এম এ আজিজ, কিশোরগঞ্জ
|
![]() কিশোরগঞ্জের মঙ্গলবাড়িয়ায় রোমান্টিক সুপার ফুড ফল লিচুর কাব্য কথা এই গ্রামের বাড়ির আঙ্গিনা, মেঠোপথ থেকে কৃষি জমি সবখানে এখন মিষ্টি মধুর গোলাপি রঙের লিচুর দেখা মিলবে। উপজেলা সদর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পূর্ব দিকে এগুলেই এমন দৃশ্য নজরে পড়বে। এ গ্রামে ছোট-বড় ২ শত বাগানের পাশাপাশি বাড়ির আঙ্গিনা ও কাঁচা-পাকাসড়কের পাশে শোভা পাচ্ছে শত-শত লিচু গাছের সারি। সুবজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে থোকায় থোকায় পাকা রঙিন লিচু। কথিত আছে, প্রায় দুই`শ বছর আগে এ গ্রামের চীন প্রবাসী এক ব্যক্তি প্রথমে সে দেশ থেকে এ জাতের লিচু চারা সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। কালক্রমে এমন অসাধারণ জাতের লিচু চাষ ও সুখ্যাতি দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আর এ লিচুর জাতটিও মঙ্গল বাড়িয়া নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। এই গ্রামটিতে ছোট বড় ৭ হাজারের অধিক লিচু গাছ আছে। মঙ্গল বাড়িয়া ছাড়াও আশপাশের কুমারপুর, নারান্দী ও হোসেন্দী গ্রামের প্রায় ৩ হাজার পরিবার এখন লিচু চাষের আয়কেই জীবিকা নির্বাহের এবং আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আর মধুমাসে এ লিচু সংগ্রহ করতে গাড়ি হাঁকিয়ে এসে মঙ্গল বাড়িয়া গ্রামে লাইন ধরেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। এ ছাড়াও পাইকারদের মাধ্যমে দেশের রাজধানী ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে এ লিচু। এ বছর প্রতি একশো লিচু আকার বেধে বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা। লিচু চাষী মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের আফির উদ্দিন বলেন, প্রতিবছর আমাদের গ্রাম থেকে মঙ্গলবাড়িয়া জাতের লিচুর যেমন চাহিদা থাকে তেমনি চারার চাহিদাও কম না। এ বছর লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। যারা প্রতিবছর লিচু ক্রয় করতে আসে তাদের একটা আক্ষেপ থাকে অতিরিক্ত দামে লিচু বিক্রি করা হয়। সেই জায়গা থেকে এবার দাম অনেকটাই কমিয়ে আনা হয়েছে, ৫০০-৬০০ টাকায় লিচু ক্রয় করতে পারবে। সিন্ডিকেটের কারণে লিচুর দাম বেশি রাখা হতো এবার সেই সিন্ডিকেট নাই, স্থানীয় উদ্যোক্তা বেড়ে যাওয়া সিন্ডিকেট ভেঙ্গে গেছে। মঙ্গলবাড়িয়া লিচুর কালার, ঘ্রাণ ও স্বাদের ভিন্নতা থাকায় চাহিদা বেশি। লিচু নিতে আসা কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার আশিকুজ্জামান আশিক বলেন, ছোট সময় থেকেই শুনে আসছি মঙ্গলবাড়িয়া লিচুর স্বাদ আলাদা। সেই জন্য আজকে নিতে আসলাম। লিচুটা অনেক রসালো, ঘ্রাণ ও কালার খুব সুন্দর। খেয়ে তৃপ্তি পাওয়া যায়। একশো লিচু ৬০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। বাগান থেকে লিচু কিনার মজায় আলাদা। শুনেছি সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিবছর লিচুর দাম বেড়ে যায়। আমরা চাই প্রশাসন যেন সিন্ডিকেটের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেন। লিচু ব্যবসায়ী তৌহিদ মিয়া বলেন, আমি বিগত ৫০ বছর যাবত মঙ্গলবাড়িয়া লিচুর ব্যবসা করে আসছি। এইবার আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। এইবছর ১০৫টি গাছ ক্রয় করেছি। দামও অনেক কম গত বছর একশো লিচু সর্বনিম্ন ৮০০ টাকা উপরে ১০০০ টাকা ধরে বিক্রি করেছি। এবার ৫০০-৬০০ টাকা ধরে বিক্রি করতেছি। এই লিচুর মিষ্টি-ঘ্রাণ আলাদা হওয়ায় চাহিদা বেশি। দূর দূরান্ত থেকে মানুষজন গাড়ী দিয়ে এসে লিচু নিয়ে যায়। লিচুর সময় এই এলাকায় ঈদের আনন্দ বিরাজ করে। পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-ই-আলম বলেন, ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম যুক্ত পুষ্টিমান সম্পন্ন সুপার ফুড খ্যাত এ জাতের লিচুর কলমজাত চারা এখন মঙ্গল বাড়িয়া লিচুর জাত হিসেবে আশপাশের এলাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া, কুমারপুর, নারান্দী এবং হোসেন্দী এলাকায় যে লিচু হয় সেগুলো মঙ্গলবাড়িয়া লিচু নামে পরিচিত। এবছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আশা করছি ১০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে। কৃষকদের লিচুর মৌসুম শুরু হওয়া থেকে উঠান বৈঠকসহ সামগ্রিক সময়ে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
