|
ভাষা শিক্ষাদান নীতি ও ইংরেজি শিক্ষা ব্যবস্থা
এ.এম.এম. হামিদুর রহমান
|
![]() ভাষা শিক্ষাদান নীতি ও ইংরেজি শিক্ষা ব্যবস্থা ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন আমাদের মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির প্রতি প্রবল অনুরাগ সৃষ্টি করেছিল, যা পরবর্তীতে দেশের মানুষকে স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করেছিল। এর ফলে ১৯৭১ সনের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এবং অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষার পর আমরা আমাদের স্বাধীন দেশ পেয়েছি। সঙ্গত কারণেই ১৯৮৭ সনের বাংলা প্রচলন আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সকল কর্মকাণ্ডে আমাদের মাতৃভাষা ব্যবহারের নির্দেশনা পেয়েছি। শিক্ষার সকল স্তরে পাঠদানের মাধ্যম হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করা হয়। প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ে তা সফলভাবে বাস্তবায়িত করা সম্ভব হলেও বিশ^বিদ্যালয় পর্যায়ে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি বেশ কয়েকটি কারণে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় পঠিত বইগুলোর অধিকাংশই ইংরেজি ভাষায় রচিত। যদিও বাংলা একাডেমি উচ্চশিক্ষায় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত গ্রন্থগুলো বাংলা ভাষায় লেখা ও অনুবাদ করার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল কিন্তু তা ব্যাপকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। প্রথমত, ইংরেজি ভাষা সমগ্র বিশে^ উচ্চশিক্ষার প্রধানতম বাহন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে এবং প্রতিনিয়ত অতিদ্রুত জ্ঞানজগতে এর অগ্রগতি ও বিস্ফোরণ ঘটছে যায় সাথে কোনো অনুবাদ কার্যক্রম তাল মিলিয়ে চলতে পারে না। এজন্য উচ্চশিক্ষায় ইংরেজিতে লেখা প্রত্যেক বিষয়ে পঠিত প্রায় সকল পুস্তকাদি হয় পুনর্লিখন হচ্ছে অথবা নতুন সংস্করণের মাধ্যমে নবলব্ধ জ্ঞান সংযোজিত হচ্ছে। এছাড়া জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় পৃথিবীর প্রায় সকল দেশে ইংরেজি ভাষায় লিখিত গবেষণা প্রবন্ধসমূহ বিশেষায়িত জার্নালে অহরহ প্রকাশিত হচ্ছে যার সাথে আমাদের বিশ^বিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সার্বক্ষণিক সম্পর্ক রাখতে হচ্ছে। একই সঙ্গে আজকের এই ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেটের যে অসীম তথ্যভাণ্ডার অবিরত সংযোজিত হচ্ছে তার প্রায় সিংহভাগই ইংরেজি ভাষায়। সুতরাং আমরা চাই বা না চাই, যদি জাতি হিসেবে আমরা বর্তমান বিশে^ নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চাই তবে আমাদের বিশ^বিদ্যালয় পর্যায়ের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী হতে হবে। আন্তর্জাতিক যোগাযোগের প্রয়োজনে অন্যান্য বিদেশি ভাষাও আমাদের শিখতে হবে। কেননা ইংরেজিতে দক্ষ হলে সকল প্রয়োজনে সবার সাথে যোগাযোগ সম্ভব। কিন্তু আমাদের হাড়ির কী হাল? বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হওয়ার পর আমরা যুক্তিসঙ্গত কারণে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে মাতৃভাষা ব্যবহারে গুরুত্বারোপ করেছি। কিন্তু সেই সাথে স্কুল এবং কলেজ পর্যায়ে ইংরেজি ভাষা শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে পূর্বে যে সুদৃঢ় ব্যবস্থা ছিল তা ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়েছে এবং তা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশ^বিদ্যালয়ে আগত শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ এখন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পুস্তকাদি পড়ে সুষ্ঠুভাবে জ্ঞান আহরণ করতে পারে না এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার অভাবে তাদের বক্তব্য মোটামুটি নির্ভুল ইংরেজিতে সুন্দরভাবে গুছিয়ে বলতে বা লিখতে পারে না। অথচ নির্ধারিত বিষয়ে বিরচন, অভিসন্দর্ভ এবং পরীক্ষার উত্তরপত্রে তাদের অর্জিত জ্ঞান ইংরেজিতে প্রকাশ করতে হয়। বর্তমানে সরকারি বা পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের বক্তৃতা, পাঠদান, আলোচনা ইংরেজি ও বাংলা মিশ্র ব্যবহারের মাধ্যমে হয়ে থাকে বলে শোনা যায়। কিন্তু বেসরকারি বা প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয়ে সেটা মূলত ইংরেজি মাধ্যমে হয়ে থাকে, যদিও শিক্ষার্থীদের বোঝানোর জন্য মাতৃভাষাও কখনো কখনো ব্যবহৃত হয়ে থাকে। একটু পেছনে ফেরা যাক। আমাদের দেশে প্রাক-বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষা ব্যবস্থা মোটামুটি চার ভাগে বিন্যস্ত। ১. জাতীয় শিক্ষাক্রম/বাংলা মাধ্যম ২. জাতীয় শিক্ষাক্রম/ইংলিশ ভার্সন বা ইংরেজি মাধ্যম ৩. ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল/ এ লেভেল যা বিদেশি শিক্ষাক্রম দ্বারা পরিচালিত ৪. মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা, যা আবার দুটি ধারায় বিভক্ত: আলিয়া ও কওমি। এই বহুবিভক্ত প্রাক-বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখার সুযোগের নিদারুণ বৈষম্য রয়েছে। ফলে এই চার প্রকার শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে উৎসারিত শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষার দক্ষতার ক্ষেত্রে ব্যাপক ব্যবধান গড়ে উঠেছে। ফলশ্রুতিতে তাদের ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা, বিদেশ গমন, জীবিকা অন্বেষণ ও চাকরি প্রাপ্তিতে বৈষম্য প্রতিফলিত হচ্ছে। বাংলা মাধ্যম ও মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে আগত অধিকাংশ শিক্ষার্থী IELTS ev TOEFL বা ঞঙঊঋখ পরীক্ষায় কাক্সিক্ষতভাবে সফল হন না। এমনকি আমাদের দেশের মধ্যেও অনেক ক্ষেত্রে ইংরেজি বোঝা এবং বলার দক্ষতা চাকরি পাওয়ার নিয়ামক হয়ে থাকে। ইংরেজি ঔপনিবেশিক ভাষা হলেও ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এটি বর্তমান বিশে^ সর্বপ্রধান আন্তর্জাতিক ভাষায় পরিণত হয়েছে। বৃটিশ আমলে ইংরেজি ভাষা শেখার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু বতΠমান বিশ্বে এই ভাষার গুরুত্ব অনেক বেশী। একটি দেশের ভাষা নীতি ও ভাষা শিক্ষাদান নীতি এক বিষয় নয়। আমাদের দেশের ৯৮ শতাংশ লোকের মাতৃভাষা বাংলা, সুতরাং এটা আমাদের জাতীয় ভাষা এবং এখানে কোনো বিরোধ নেই। মাতৃভাষা আমাদের অবশ্যই ভালোভাবে শিখতে হবে এবং দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি এবং অন্য কোনো কোনো বিদেশি ভাষা কখন, কোন পর্যায়ে কাকে কতটুকু ও কীভাবে শিক্ষাদান করতে হবে এবং এ সম্পর্কিত সুচিন্তিত সিদ্ধান্তসমূহকে আমরা ভাষা শিক্ষাদান নীতি বলতে পারি। আমাদের দেশে এটি বর্তমান বিশ^ পরিস্থিতি ও আমাদের জাতীয় প্রয়োজনের আলোকে প্রণীত হতে হবে। ১৯৭৪ সনের ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টে প্রস্তাব করা হয়েছিল যে ইংরেজি প্রাথমিক পর্যায়ের পর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পড়ানো হবে। ১৯৭৬ সনে ইংলিশ টিচিং টাস্ক ফোর্স-এর রিপোর্টে সুপারিশ করা হয় যে ইংরেজি আবশ্যিকভাবে তৃতীয় শ্রেণি থেকে পাঠদান করা হবে। সে মোতাবেক জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড তৃতীয় শ্রেণি থেকে ইংরেজি শিক্ষাদানের পাঠ্যক্রম তৈরি করে, যা ১৯৮০ সনে কার্যকরী করা হয়। সবশেষে ১৯৯২ সনে ইংরেজি ভাষাকে প্রথম শ্রেণি থেকে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে পাঠদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সমস্ত পরিবর্তনের পেছনে উদ্দেশ্য ছিল আমাদের শিক্ষার্থীদের ক্রমাগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা। ইংরেজি শিক্ষাদান কার্যক্রম সচল করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, প্রাথমিক-মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা পরিষদ সমূহ বিভিন্ন প্রচেষ্টা নিয়েছেন। এমনকি বৃটিশ সরকারের সহায়তায় ৫ বছরব্যাপী English Language Teaching Improvement Project (১৯৯৮- ২০০৯) এবং ৯ বছরব্যাপী English in Action (২০০৯-২০১৭) পরিচালিত হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে OSSTEB, SESSIP, TQI, SEQAEP ইত্যাদি প্রকল্প পরিচালিত হয়েছে। এতদসত্ত্বেও দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ প্রথম থেকে দ্বাদশ শেণি পর্যন্ত আবশ্যিকভাবে ইংরেজি শেখার পরও আমাদের শিক্ষার্থীরা কেন তাদের কাক্সিক্ষত দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না? এ বিষয়ে অনুসন্ধান ও গবেষণা করা প্রয়োজন। বিপুল শ্রম ও অর্থ ব্যয়ে যে এতগুলো প্রকল্প পরিচালিত হলো, তাদের ফলাফল কী? শিখন ও শিক্ষাদানে কোনো গুণগত পরিবর্তন সাধিত হয়েছে কিনা, হয়ে থাকলে তা কতটুকু, না হয়ে থাকলে তার কারণসমূহ কী, সেটা আমাদের জানা প্রয়োজন। তা না হলে আমরা বারংবার ব্যর্থতার ঘূর্ণিপাকে আবর্তিত হতে থাকব। সময়ের ব্যাপ্তির চেয়ে শিক্ষার গুণগত মান অধিক কার্যকরী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন গবেষকদের লেখায় ইংরেজি শিক্ষাদান বিষয়ে আমাদের বর্তমান চালচিত্র যা প্রকাশিত হয়েছে তা নিম্নরূপ : ১. প্রাথমিক পর্যায়ে বিশেষত : গ্রামাঞ্চলের স্কুলসমূহে ইংরেজি শিক্ষাদানে নিয়োজিত শিক্ষকগণ এই ভাষা ব্যবহারে পারদর্শী নন এবং শিক্ষাদানে আধুনিক কলাকৌশল সম্পর্কে অবহিত নন, অথবা সেগুলোর ব্যবহারে তারা অনাগ্রহী। এদের মধ্যে ৫০ শতাংশ শিক্ষক ইংরেজি শিক্ষাদান বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নন। তদুপরি আমাদের গ্রামাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান এবং বর্তমান যুগের ডিজিটাল সাক্ষরতা হতে বঞ্চিত। একদিকে অদক্ষ শিক্ষক, অন্যদিকে শিখন পরিবেশের দৈন্যতর জন্য এই পর্যায়ের ইংরেজি শিক্ষাদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। ২. মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকবৃন্দকে তুলনামূলকভাবে অগ্রসর মনে করা হয় কেননা তারা নানা সময়ে ELTIP, EIA, SEQAEP, SESSIP, TQI, ইত্যাদি প্রশিক্ষণ কাযΠক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে থাকবেন। কিন্তু বাস্তবতা এই যে, তারা Communicative Language Teaching (CLT, এবং আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ পাওয়া সত্ত্বেও তা তাদের শ্রেণিকক্ষে বাস্তবায়ন করেন না। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে এবং নিজেদের অনাগ্রহের কারণে বহুলপ্রচলিত Grammar-Translation Method (GTM)--এর মাধ্যমে শিক্ষাদান কার্যক্রম চালিয়ে যান। এই শিক্ষাদান পদ্ধতিতে শিক্ষককে তেমন পরিশ্রমী বা সৃজনশীল হতে হয় না, যা CLT প্রয়োগের ক্ষেত্রে করতে হয়। ৩. উচ্চ-মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরেও GTM ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে এবং শিক্ষকগণ Lecture Method অবলম্বন করে থাকেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিপুল হওয়ার কারণে, শ্রবণ, কথন, পঠন ও লিখন দক্ষতাসমূহের অনুশীলন সম্ভব হয় না। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকগণ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাদান বিষয়ে তেমন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নন এবং এদের অধিকাংশই ইংরেজি সাহিত্য (English Literature) বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। যদিও অধুনা ইংরেজি ভাষা শিক্ষাদান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি কোর্স (M.A. in ELT/TESOL) বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবর্তিত হয়েছে, কলেজসমূহে এমন শিক্ষক সংখ্যা নগণ্য। ৪. সব সমস্যার মূলে রয়েছে সনাতনী পরীক্ষা পদ্ধতি। যদিও NCTB ইংরেজি পাঠক্রম ও পাঠ্যসূচিসমূহে Listening, Reading ও Writing-এর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, পরীক্ষা বোর্ড সমূহের ইংরেজি প্রশ্নপত্রে কেবলমাত্র Reading ও Writing দক্ষতা পরীক্ষা করা হয়। Listening এবং Speaking Skills এর দক্ষতাসমূহ নিরূপণ করার ব্যবস্থা না থাকার ফলে শিক্ষকেরা শ্রেণিকক্ষে এগুলোর অনুশীলন করান না। এ দুটি দক্ষতা অর্জিত না হলে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ইংরেজির ব্যবহার সম্ভব নয়। বিপুল সংখ্যক ছাত্রের Listening এবং Speaking Skills এর দক্ষতাসমূহ যাচাই করা কঠিন বটে। তবে সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন সম্ভব। বাংলাদেশে ইংরেজি শিক্ষাদান নীতি প্রণয়নে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন: ১. প্রাথমিক পর্যায়ের সকল ইংরেজি শিক্ষককে স্বল্পমেয়াদী হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং তারা সেই প্রশিক্ষণ শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ করতে পারছেন কিনা তা পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করতে হবে। ২. মাধ্যমিক পর্যায়েও স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং নীতিসমূহ বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য একটি আলাদা বিশেষজ্ঞ দল গঠন করতে হবে। ৩. উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে, ভবিষ্যতে যারা শুধুমাত্র M.A. in ELT/ TESOL ডিগ্রি অর্জন করেছেন তাদের নিয়োগ করতে হবে। সকল কর্মরত শিক্ষকদের ভাষা শিক্ষাদান বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করতে হবে। ৪. বিভিন্ন স্তরের ইংরেজি বিষয়ের পাঠ্যসূচির পরিমার্জন করতে হবে যাতে সঠিক ও প্রয়োজনীয় দক্ষতাসমূহ অন্তভূক্ত হয়। এই কাজে ভাষা শিক্ষাদান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৫. সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন। এটি পরিকল্পিতভাবে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত করতে হবে। শ্রবণ ও কথন দক্ষতা নিরূপণের কলাকৌশল সম্পর্কে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে, এই দক্ষতাসমূহ পরীক্ষা পদ্ধতিতে অন্তভূক্ত করার পূর্বে। ৬. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি English Language Teaching Task Force গঠন করা যেতে পারে, যাদের কাজ হবে সর্বস্তরে ইংরেজি শিক্ষাদান কার্যক্রম সূচারুরূপে পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এই দলে আমাদের দেশের প্রবীণ ইংরেজি শিক্ষাদান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ করা যেতে পারে। এই মূহুর্তে আমাদের শিক্ষা বিষয়ক নীতিনির্ধারকগণ একটি জাতীয় কর্মশালার আয়োজন করতে পারেন। যেখানে সকল স্তরের ইংরেজি ভাষা শিক্ষক, শিক্ষিকা-প্রশিক্ষক, ভাষা শিক্ষাদান বিশেষজ্ঞ ও গবেষকগণ উপস্থিত হয়ে ভবিষ্যত ইংরেজি শিখন ও শিক্ষাদান বিষয়ে একটি বাস্তবমুখী পরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন এবং একটি সুচিন্তিত কৌশল নির্ধারনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের পথ নির্দেশ করবেন। লেখক: এ.এম.এম. হামিদুর রহমান অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ওসাবেক অধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
অল্প বৃষ্টিতে পানিতে সয়লাব খড়িয়া কাজিচর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র
বনশ্রী সোসাইটি নির্বাচন: এগিয়ে বাতেন-দুলাল পরিষদ, যুগ্ম শিক্ষা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে রাশেদ আকন
রেজাউর রহমান ফাহিম বনানী থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত
বাঘাইছড়িতে বাঘাইহাট জোনের উদ্দ্যোগে বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান
