বগুড়ার দিগন্তজোড়া সবুজের সমারোহ। তবে সবুজের সমারোহ ধান ক্ষেতের কচিপাতার নয়, এটি আলু ক্ষেতে বেড়ে উঠা তরতরে আলু গাছের পাতা। এমন দৃশ্য শোভা পাচ্ছে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আলু ক্ষেতের দিকে তাকালে। কৃষকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে ফসলের মাঠ। ভালো দাম হওয়ায় জেলায় ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, গ্যানোলা, এস্টারিক্স, এ্যালুয়েট, সুর্যমুখী, শানশাইন, ক্যারেজ, হাগড়াই, এডিশন, মাডডাই ও পাগড়িসহ বিভিন্ন জাতের আলু চাষ হয়েছে। আলুক্ষেত ছত্রাক ও রোগ-বালাইয়ের হাত থেকে রক্ষায় বালাইনাশক স্প্রে করছেন কৃষকরা। এছাড়া কেউ জমিতে থাকা আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ ও সেচ দিচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বগুড়া জেলায় উপশী ও স্থানীয় মিলে ৫৫ হাজার ৫শ ৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের ল¶্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উপশী ৪৭ হাজার ৫০ ও স্থানীয় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করা হবে। যার মোট উৎপাদন ল¶্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ লাখ ৯৩ হাজার ৬শ ১৬ মেট্রিক টন। যা এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
এদিকে বগুড়ার ১২টি উপজেলায় মধ্যে জেলার সদর উপজেলা, শেরপুর, শিবগঞ্জ, শাজাহানপুর, কাহালু, নন্দীগ্রামসহ বিভিন্ন উপজেলায় এখন আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে আলুর ভালো দাম থাকায় আলু চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। মাঠে মাঠে এখন আলু রোপন ও ¶েত পরিচর্যা চলছে। গুলোতে গাছ বেড়ে উঠে সবুজ বর্ণ ধারন করছে। তরতাজা সবুজ গাছগুলো স্বপ্ন দেখাচ্ছে কৃষকদের। তবে বিগত বছরের চেয়ে এবার বীজ আলুর দাম বেড়েছে। এরসাথে সার, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। যে কারণে লাভ কম হওয়ার আশংখা কৃষকদের।
তবে গত কয়েকদিনের ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহে কৃষকরা হতাশায় পড়েছেন। কারণ কুয়াশা এবং শৈত্যপ্রবাহের কারণে পাতা পচন রোগ দেখা দেয়। এজন্য আলুক্ষেতে ছত্রাকনাশক ওষুধ স্প্রে করছেন কৃষকরা। মুখে মাক্স ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে জমিতে ওষুধ স্প্রে করতে দেখা যায় তাদের। আলু ক্ষেতে রোগ প্রতিরোধে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষক। এছাড়া কেউ জমিতে থাকা আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ ও সেচ দিচ্ছেন। ভালো ফলনের আশায় উপজেলার মাঠে মাঠে চলছে আলুক্ষেত পরিচর্যার কাজ। বাজারে আলুর চড়া দামের কারণে এবার চাষের লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে।
গত দুই বছর যাবত বাজারে আলুর দামি বেশী থাকায় আলুর আবাদ নিয়ে প্রান্তিক কৃষকরা এবারো রঙিন স্বপ্ন দেখছেন। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন কৃষক-কৃষানিরা।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক এলাকায় আলু গাছের সারিতে মাটি তুলে দেওয়া ও সরিয়ে দেয়াসহ বিভিন্ন কাজ করছেন কৃষকরা। এ জেলার অর্থকারি অন্যতম ফসলের মধ্যে একটি আলুর আবাদ। আলুর উৎপাদন ও মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে আলু চাষিদের নানান ধরনের রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে জেলার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের টুনিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখায় ওই এলাকায় শত শত বিঘা জমিতে আলু চাষ হয়েছে। আলুর গাছগুলো বেশ ঢলমলে ও সবুজ পাতায় তরতাজা হয়ে উঠেছে। তবে ক্ষেতে যাতে রোগের আক্রমন না হয় জন্য আগে থেকেই রোধ প্রতিরোধে তদারকি করছে কৃষকেরা। এদিকে এ উপজেলার কৃষি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি মৌসুমে শেরপুর উপজেলায় আলু চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ২৭০০ হেক্টর জমি, আর সেক্ষেত্রে চাষ হয়েছে ২৭৬৫ হেক্টর জমি। তবে বিগত বছরেও লক্ষ্যমাত্রা ২৭০০ হেক্টর জমি ছিল বলে কৃষি অফিস জানিয়েছেন।
উপজেলার টুনিপাড়া এলাকার আলু চাষি নজরুল ইসলাম জানান, ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে আলু গাছে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। এজন্য আগে থেকে ক্ষেতে ছাত্রাকনাশক ওধুষ স্প্রে করা হচ্ছে। যাতে আলু গাছে পচন রোগ না ধরে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার জানান, এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। ছত্রাক ও রোগ-বালাইয়ের হাত থেকে রক্ষায় কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। অনুকুল আবহাওয়া, রোগবালাই না হলে বাম্পার ফলন হবে বলে আশাবাদী।
এ প্রসঙ্গে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মতলুবুর রহমান বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর বগুড়ায় আলু চাষ বেড়েছে। আগামী এক মাস আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আলু ক্ষেতের কোনো ক্ষতি হবে না। কৃষক ভালো ফলন পাবেন। তবে এ জেলায় প্রতিবছরই আগাম জাতের আলু চাষ করে থাকেন জেলার চাষীরা। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি।